পরিবেশ কণ্ঠ

হাসপাতালে নেওয়া ব্যক্তিদের নাম জড়িয়ে পাল্টা মামলা—ন্যায়বিচার না পেয়ে দিশেহারা ভুক্তভোগী পরিবার

অষ্টগ্রামে আহতকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো আসামি!



অষ্টগ্রামে আহতকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো আসামি!
ভিডিও থেকে নেওয়া

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সংঘটিত নৃশংস হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে—যারা আহত উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মানবিক সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেই উল্টো মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, “এভাবে যদি সহায়তাকারীদের আসামি করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ বিপদে এগিয়ে আসবে না।”

গত ৯ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের মোহনতলা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, হঠাৎ করেই একদল সন্ত্রাসী তার অফিসে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

হামলাকারীরা শুধু শারীরিক আঘাতেই ক্ষান্ত হয়নি—অফিসে থাকা নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, আইফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করে।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

হামলার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে শ্যামল চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাহসী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর সিনিয়র সহ সভাপতি আদম পুর ইউনিয়ন ও পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির কিশোর গন্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাখেশ চন্দ্র দাস পিতা মৃতঃ যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস আসামী নং ০৭,  বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের সহ সভাপতি অষ্টগ্রাম উপজেলা ও পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির কিশোর গন্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি পিযুষ চন্দ্র দাস পিতা মৃত চুড়া মনি দাস আসামী নং ৮ কিন্তু বিস্ময়করভাবে, পরবর্তীতে আসামিপক্ষ আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করে এবং সেই মামলায় এই সহায়তাকারীদেরই আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ঘটনাকে এলাকাবাসী “মানবিকতার চরম অবমূল্যায়ন” বলে অভিহিত করেছেন।

ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রাধাকৃষ্ণ দাস দীর্ঘদিন ধরে তাকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাকে সরাতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

ঘটনার আগের দিন ৮ মার্চ তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন বলে জানান।

শ্যামল দাসের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিনই থানায় এজাহার জমা দেওয়া হলেও এখনো তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম থাকায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা নিতে দেরি করছে। এমনকি এজাহার থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ারও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা বলেন,

“একদিকে প্রকৃত ভুক্তভোগী বিচার পাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে, তাদেরই আসামি করা হচ্ছে—এটা অন্যায়ের চূড়ান্ত রূপ।”

তারা দ্রুত সঠিকভাবে মামলা গ্রহণ, নিরপরাধদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণ দাস অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধের জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি আহত মানুষকে হাসপাতালে নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ কি আর মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসবে?

এমন প্রশ্ন এখন অষ্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।

বিষয় : অষ্টগ্রাম নৃশংস হামলা ভাঙচুর

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬


অষ্টগ্রামে আহতকে বাঁচাতে গিয়ে উল্টো আসামি!

প্রকাশের তারিখ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সংঘটিত নৃশংস হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে পরিস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে—যারা আহত উদ্যোক্তা শ্যামল চন্দ্র দাসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই মানবিক সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধেই উল্টো মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন, “এভাবে যদি সহায়তাকারীদের আসামি করা হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ বিপদে এগিয়ে আসবে না।”

গত ৯ মার্চ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে অষ্টগ্রাম উপজেলার কলমা ইউনিয়নের মোহনতলা বাজারে অবস্থিত ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র দাস জানান, হঠাৎ করেই একদল সন্ত্রাসী তার অফিসে ঢুকে তাকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

হামলাকারীরা শুধু শারীরিক আঘাতেই ক্ষান্ত হয়নি—অফিসে থাকা নগদ অর্থ, ল্যাপটপ, আইফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে এবং অফিসের আসবাবপত্র তছনছ করে।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।

হামলার পর স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত এগিয়ে এসে শ্যামল চন্দ্র দাসকে উদ্ধার করেন এবং হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাহসী ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন—

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাস এর সিনিয়র সহ সভাপতি আদম পুর ইউনিয়ন ও পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির কিশোর গন্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাখেশ চন্দ্র দাস পিতা মৃতঃ যোগেন্দ্র চন্দ্র দাস আসামী নং ০৭,  বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ঐক্য ফ্রন্টের সহ সভাপতি অষ্টগ্রাম উপজেলা ও পরিবেশ রক্ষা উন্নয়ন সোসাইটির কিশোর গন্জ জেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি পিযুষ চন্দ্র দাস পিতা মৃত চুড়া মনি দাস আসামী নং ৮ কিন্তু বিস্ময়করভাবে, পরবর্তীতে আসামিপক্ষ আদালতে একটি পাল্টা মামলা দায়ের করে এবং সেই মামলায় এই সহায়তাকারীদেরই আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এ ঘটনাকে এলাকাবাসী “মানবিকতার চরম অবমূল্যায়ন” বলে অভিহিত করেছেন।

ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র দাস অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রাধাকৃষ্ণ দাস দীর্ঘদিন ধরে তাকে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা পদ থেকে সরানোর চেষ্টা করছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাকে সরাতে না পেরে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।”

ঘটনার আগের দিন ৮ মার্চ তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেন বলে জানান।

শ্যামল দাসের পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার দিনই থানায় এজাহার জমা দেওয়া হলেও এখনো তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি।

তাদের দাবি, প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম থাকায় পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে মামলা নিতে দেরি করছে। এমনকি এজাহার থেকে নির্দিষ্ট ব্যক্তির নাম বাদ দেওয়ারও চাপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা বলেন,

“একদিকে প্রকৃত ভুক্তভোগী বিচার পাচ্ছে না, অন্যদিকে যারা জীবন বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে, তাদেরই আসামি করা হচ্ছে—এটা অন্যায়ের চূড়ান্ত রূপ।”

তারা দ্রুত সঠিকভাবে মামলা গ্রহণ, নিরপরাধদের অব্যাহতি এবং প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানান।

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান রাধাকৃষ্ণ দাস অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি অন্যত্র অবস্থান করছিলেন।

অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনাটি শুধু একটি হামলার ঘটনা নয়—এটি সমাজে মানবিক মূল্যবোধের জন্য একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যদি আহত মানুষকে হাসপাতালে নেওয়াও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তাহলে ভবিষ্যতে কেউ কি আর মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসবে?

এমন প্রশ্ন এখন অষ্টগ্রামের প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ