নোয়াখালীর মামুনুর রশীদ গত আড়াই মাস ধরে ঘুরছেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বয়স ও নামের বানানের সংশোধনীর জন্য। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার নোয়াখালী থেকে ঢাকায় গিয়েও সমাধান পাননি। প্রতিবারই অনলাইন আবেদনের কিছু না কিছু ত্রুটি দেখিয়ে অথবা আরও কাগজপত্র চেয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সত্তরোর্ধ্ব এই মানুষটিকে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যালয়ের করিডরে দেখা হয় মামুনুর রশীদের সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, আড়াই মাস আগে এনআইডিতে ভুলে উল্লিখিত জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করেছিলেন। সেখানে নামের বানানের সংশোধনীও চান তিনি। সেই থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়ার পথে আছেন। প্রতিবার নোয়াখালী থেকে ঢাকা যেতে মোটা অংকের অর্থ খসছে পকেট থেকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বারবার আসা-যাওয়া করতে করতে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত তিনি। দরিদ্র হওয়ায় এমন ব্যয়ভার বহন করতেও কষ্ট হচ্ছে।
কেবল মামুনুর রশীদই নন, দূর-দূরান্ত থেকে অফিস খোলা থাকার দিনগুলোতে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগে। এনআইডিতে জন্ম তারিখ তথা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এককভাবে এনআইডি মহাপরিচালকের হাতে পুরোপুরি ন্যস্ত করার কারণেই তাদের ছুটে আসতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। কাউকে কাউকে মাসের পর মাসও ঘুরতে হচ্ছে এই কাজে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে এনআইডিতে বয়স সংশোধনের কাজ মাঠপর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো থেকেও করা যেত। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৩ বছর, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৫ বছর, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৭ বছর, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ৮ বছর এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ১০ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধন করতে পারতেন। কিন্তু এই কার্যক্রমে ঘিরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এ সংক্রান্ত প্রবিধান সংশোধন করে বয়স সংশোধনের (ঘ ক্যাটাগরির আবেদন) সব ক্ষমতা এনআইডি মহাপরিচালকের ওপর ন্যস্ত করে। এরপর থেকেই এমন হয়রানি ও দুর্ভোগের চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। অবশ্য এই কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন কিংবা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কয়েকজন মাঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা শোকজও করেছে ইসি।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, এনআইডি মহাপরিচালকের দপ্তর ও হেল্পডেস্কের সামনের চেয়ারে বসে আছেন অনেক নারী-পুরুষ। মহিলা সেবাপ্রার্থীদের অনেকেই এসেছেন সন্তান-সন্তুতি সঙ্গে নিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হতাশমুখে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। আবার চেয়ারে বসার জায়গা না পেয়ে অনেককে ইতস্তত ঘোরাঘুরিও করতে দেখা গেল। হেল্পডেস্ক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দপ্তরের সামনেও ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ভিড়। তবে পরবর্তী হয়রানির ভয়ে বেশিরভাগই নাম ও পরিচয়সহ কী ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন- সে বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরে অবশ্য কয়েকজন ছদ্মনাম ব্যবহারের শর্তে কথা বলতে সম্মত হন।
এমন ভুক্তভোগীদের একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক আবদুল কুদ্দুস (ছদ্মনাম) জানান, জরুরি পাসপোর্ট করতে গিয়ে এনআইডিতে বয়স সংশোধনীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তার। এখন আবেদন করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের কক্ষে কক্ষে ঘুরতে হচ্ছে। কিন্তু সমাধান পাচ্ছেন না। আবার এনআইডি সংশোধনের দীর্ঘসূত্রতায় পাসপোর্ট পা্ওয়ার বিষয়টিও আটকে আছে।
একই চিত্র বয়োবৃদ্ধ গফুর মুন্সীর (ছদ্মনাম) ক্ষেত্রেও। মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলের এনআইডির বয়স সংশোধনের জন্য এসেছেন তিনি। গফুর মুন্সী বলেন, ‘পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় এসেছি। প্রবাসী ছেলের এনআইডিতে বয়স সংশোধনের জন্য দুই মাস ধরে কর্মকর্তাদের পেছন পেছন ঘুরছি। ছেলের ভিসার মেয়াদ আর মাত্র ১০ দিন আছে। এর মধ্যে সংশোধন না হলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে।’
জানা গেল, নির্বাচন ভবনের অষ্টম তলার এনআইডি অনুবিভাগের কার্যালয়ের পুরোটাজুড়ে এনআইডি সংশোধনের কাজ চলে। দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে ১০ জন সহকারী পরিচালকের দপ্তরে সেবাপ্রার্থীদের অনলাইন আবেদন এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও নথি প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা হয়। এরপর পরিচালকের সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন শেষে মহাপরিচালকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের সংশোধিত এনআইডি দেওয়া হয়। তবে একত্রে একাধিক তথ্যের সংশোধনী চাওয়া আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বয়স ছাড়া অন্যান্য তথ্যের গুরুতর ভুলের সংশোধনীর ক্ষেত্রে কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অথবা আবেদনকারীকে ঢাকায় এনআইডি কার্যালয়ে ডেকে শুনানি করা হয়। এক্ষেত্রেও আরেক দফা দুর্ভোগ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককেই। এদিকে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য ইসির কলসেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, নির্বাচন ভবন সংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে অবস্থিত কল সেন্টারের ১০৫ নম্বরে ফোন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা। বেশিরভাগ সময় এই নম্বর বন্ধও পাওয়া যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রায় সময়ই এই সেবা বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেককেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনআইডি অনুবিভাগে সদ্যনিযুক্ত মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এখনও সবকিছু অবহিত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে সহজেই সেবা মিলছে। কমছে অনৈতিক অর্থ লেনদেন। তবে দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর বিষয়টিকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ মে ২০২৬
নোয়াখালীর মামুনুর রশীদ গত আড়াই মাস ধরে ঘুরছেন তার জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বয়স ও নামের বানানের সংশোধনীর জন্য। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকবার নোয়াখালী থেকে ঢাকায় গিয়েও সমাধান পাননি। প্রতিবারই অনলাইন আবেদনের কিছু না কিছু ত্রুটি দেখিয়ে অথবা আরও কাগজপত্র চেয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সত্তরোর্ধ্ব এই মানুষটিকে। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অষ্টম তলায় অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জাতীয় পরিচয় (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের কার্যালয়ের করিডরে দেখা হয় মামুনুর রশীদের সঙ্গে। এই প্রতিবেদককে তিনি জানান, আড়াই মাস আগে এনআইডিতে ভুলে উল্লিখিত জন্ম তারিখ সংশোধনের আবেদন করেছিলেন। সেখানে নামের বানানের সংশোধনীও চান তিনি। সেই থেকে ঢাকায় আসা-যাওয়ার পথে আছেন। প্রতিবার নোয়াখালী থেকে ঢাকা যেতে মোটা অংকের অর্থ খসছে পকেট থেকে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। বারবার আসা-যাওয়া করতে করতে ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত তিনি। দরিদ্র হওয়ায় এমন ব্যয়ভার বহন করতেও কষ্ট হচ্ছে।
কেবল মামুনুর রশীদই নন, দূর-দূরান্ত থেকে অফিস খোলা থাকার দিনগুলোতে প্রতিদিনই শত শত মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগে। এনআইডিতে জন্ম তারিখ তথা বয়স সংশোধনের ক্ষমতা মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এককভাবে এনআইডি মহাপরিচালকের হাতে পুরোপুরি ন্যস্ত করার কারণেই তাদের ছুটে আসতে হচ্ছে ঢাকায়। এতে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। কাউকে কাউকে মাসের পর মাসও ঘুরতে হচ্ছে এই কাজে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে এনআইডিতে বয়স সংশোধনের কাজ মাঠপর্যায়ে উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়গুলো থেকেও করা যেত। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৩ বছর, অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৫ বছর, সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ৭ বছর, অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ৮ বছর এবং আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ১০ বছর পর্যন্ত বয়স সংশোধন করতে পারতেন। কিন্তু এই কার্যক্রমে ঘিরে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসি ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে এ সংক্রান্ত প্রবিধান সংশোধন করে বয়স সংশোধনের (ঘ ক্যাটাগরির আবেদন) সব ক্ষমতা এনআইডি মহাপরিচালকের ওপর ন্যস্ত করে। এরপর থেকেই এমন হয়রানি ও দুর্ভোগের চিত্র সামনে আসতে শুরু করেছে। অবশ্য এই কার্যক্রমে ঘুষ গ্রহণ ও জালিয়াতির মাধ্যমে এনআইডি সংশোধন কিংবা হয়রানির অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় কয়েকজন মাঠ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা শোকজও করেছে ইসি।
আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের এনআইডি অনুবিভাগ ঘুরে দেখা গেছে, এনআইডি মহাপরিচালকের দপ্তর ও হেল্পডেস্কের সামনের চেয়ারে বসে আছেন অনেক নারী-পুরুষ। মহিলা সেবাপ্রার্থীদের অনেকেই এসেছেন সন্তান-সন্তুতি সঙ্গে নিয়ে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হতাশমুখে বসে থাকতে হচ্ছে তাদের। আবার চেয়ারে বসার জায়গা না পেয়ে অনেককে ইতস্তত ঘোরাঘুরিও করতে দেখা গেল। হেল্পডেস্ক ও সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দপ্তরের সামনেও ছিল উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষের ভিড়। তবে পরবর্তী হয়রানির ভয়ে বেশিরভাগই নাম ও পরিচয়সহ কী ধরনের দুর্ভোগে পড়েছেন- সে বিষয়ে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরে অবশ্য কয়েকজন ছদ্মনাম ব্যবহারের শর্তে কথা বলতে সম্মত হন।
এমন ভুক্তভোগীদের একজন চাঁপাইনবাবগঞ্জের যুবক আবদুল কুদ্দুস (ছদ্মনাম) জানান, জরুরি পাসপোর্ট করতে গিয়ে এনআইডিতে বয়স সংশোধনীর প্রয়োজন হয়ে পড়েছে তার। এখন আবেদন করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তাদের কক্ষে কক্ষে ঘুরতে হচ্ছে। কিন্তু সমাধান পাচ্ছেন না। আবার এনআইডি সংশোধনের দীর্ঘসূত্রতায় পাসপোর্ট পা্ওয়ার বিষয়টিও আটকে আছে।
একই চিত্র বয়োবৃদ্ধ গফুর মুন্সীর (ছদ্মনাম) ক্ষেত্রেও। মালয়েশিয়া প্রবাসী ছেলের এনআইডির বয়স সংশোধনের জন্য এসেছেন তিনি। গফুর মুন্সী বলেন, ‘পটুয়াখালী থেকে ঢাকায় এসেছি। প্রবাসী ছেলের এনআইডিতে বয়স সংশোধনের জন্য দুই মাস ধরে কর্মকর্তাদের পেছন পেছন ঘুরছি। ছেলের ভিসার মেয়াদ আর মাত্র ১০ দিন আছে। এর মধ্যে সংশোধন না হলে তাকে দেশে ফিরে আসতে হবে।’
জানা গেল, নির্বাচন ভবনের অষ্টম তলার এনআইডি অনুবিভাগের কার্যালয়ের পুরোটাজুড়ে এনআইডি সংশোধনের কাজ চলে। দেশের ৬৪টি জেলাকে ১০টি অঞ্চলে বিভক্ত করে ১০ জন সহকারী পরিচালকের দপ্তরে সেবাপ্রার্থীদের অনলাইন আবেদন এবং তার সঙ্গে সংযুক্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই ও নথি প্রস্তুতসহ প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা হয়। এরপর পরিচালকের সিদ্ধান্ত ও অনুমোদন শেষে মহাপরিচালকের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টদের সংশোধিত এনআইডি দেওয়া হয়। তবে একত্রে একাধিক তথ্যের সংশোধনী চাওয়া আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বয়স ছাড়া অন্যান্য তথ্যের গুরুতর ভুলের সংশোধনীর ক্ষেত্রে কখনো কখনো সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাচন অফিসকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অথবা আবেদনকারীকে ঢাকায় এনআইডি কার্যালয়ে ডেকে শুনানি করা হয়। এক্ষেত্রেও আরেক দফা দুর্ভোগ ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে অনেককেই। এদিকে এনআইডি সংক্রান্ত সেবা দেওয়ার জন্য ইসির কলসেন্টার থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা পাচ্ছেন না সংশ্লিষ্টরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, নির্বাচন ভবন সংলগ্ন ইসলামিক ফাউন্ডেশন ভবনে অবস্থিত কল সেন্টারের ১০৫ নম্বরে ফোন করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পাচ্ছেন না তারা। বেশিরভাগ সময় এই নম্বর বন্ধও পাওয়া যায়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানের পর থেকে প্রায় সময়ই এই সেবা বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। এতে অনেককেই দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।
এ বিষয়ে এনআইডি অনুবিভাগে সদ্যনিযুক্ত মহাপরিচালক আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এখনও সবকিছু অবহিত নন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।
ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এতে সহজেই সেবা মিলছে। কমছে অনৈতিক অর্থ লেনদেন। তবে দুর্ভোগের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর বিষয়টিকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন