পরিবেশ কন্ঠ

ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?



ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?
প্রতিকি ছবি

বাংলাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর আইন বিদ্যমান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ও ৯(২) ধারায় ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে কিংবা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তদন্ত শেষ করার জন্য ১৫ দিন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের অভাবে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ধর্ষক শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং প্রমাণ নষ্ট করতে হত্যার মতো নৃশংস অপরাধ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। এর প্রধান কারণ অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় না থাকা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

আইনে ধর্ষণের চেষ্টার জন্যও ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও বিচার বিলম্ব, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদন্ত ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তির আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা বন্ধে শুধু কঠোর আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কার্যকর বাস্তবায়ন। বিচার দ্রুত কার্যকর হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে এবং সমাজে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ কমে আসবে। অন্যথায় ধর্ষণ ও নারী হত্যার ভয়াবহতা আরও বাড়তে থাকবে, যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা: আইন আছে, প্রয়োগ কোথায়?

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে ধর্ষণ প্রতিরোধে কঠোর আইন বিদ্যমান। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়াও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ও ৯(২) ধারায় ধর্ষণ ও সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ধর্ষণের ফলে ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটলে কিংবা সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হলে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

আইনের দ্রুত প্রয়োগ নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশ অনুযায়ী তদন্ত শেষ করার জন্য ১৫ দিন এবং বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের প্রতিটি জেলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে, যাতে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যায়।

কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইন থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগের অভাবে প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যার শিকার হচ্ছে। বর্তমানে অনেক ধর্ষক শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না, বরং প্রমাণ নষ্ট করতে হত্যার মতো নৃশংস অপরাধ করতেও দ্বিধাবোধ করছে না। এর প্রধান কারণ অপরাধীদের মধ্যে আইনের ভয় না থাকা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি।

আইনে ধর্ষণের চেষ্টার জন্যও ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবুও বিচার বিলম্ব, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্বল তদন্ত ও সামাজিক চাপের কারণে অনেক অপরাধী শাস্তির আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। ফলে অপরাধের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ধর্ষণ ও ধর্ষণ-পরবর্তী হত্যা বন্ধে শুধু কঠোর আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির কার্যকর বাস্তবায়ন। বিচার দ্রুত কার্যকর হলে অপরাধীদের মধ্যে ভয় সৃষ্টি হবে এবং সমাজে এ ধরনের নৃশংস অপরাধ কমে আসবে। অন্যথায় ধর্ষণ ও নারী হত্যার ভয়াবহতা আরও বাড়তে থাকবে, যা জাতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ