পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সরকারি দফতরে সৌরশক্তি ব্যবহারের বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার প্রসারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দফতরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগই আসতে হবে সৌরশক্তি থেকে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘সরকারি অফিসে সৌর বিদ্যুতের অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ এখন থেকে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মেটানো হবে। মূলত জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, তবে তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিপত্রে আরও জানানো হয়, শুধুমাত্র এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরই নয়, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সকল সরকারি বিভাগ ও দফতরগুলোতেও সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় সংকোচন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বড় বড় সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক অঙ্গীকার পূরণে এই ধরনের গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের এই নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, সরকারি ভবনগুলো কেবল বিদ্যুৎ ব্যবহারের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি সরকারি দফতরে সৌরশক্তি ব্যবহারের বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার প্রসারে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। এখন থেকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি দফতরে ব্যবহৃত বিদ্যুতের সিংহভাগই আসতে হবে সৌরশক্তি থেকে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ‘সরকারি অফিসে সৌর বিদ্যুতের অধিকতর ব্যবহার নিশ্চিতকরণ’ সংক্রান্ত একটি বিশেষ পরিপত্র জারির মাধ্যমে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বঙ্গভবন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পরিকল্পনা কমিশন এবং অর্থ বিভাগে দাপ্তরিক কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের বড় অংশ এখন থেকে সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে মেটানো হবে। মূলত জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করতেই রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলছেন, শীর্ষস্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে, তবে তা সাধারণ মানুষের মধ্যেও নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিপত্রে আরও জানানো হয়, শুধুমাত্র এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দফতরই নয়, বরং পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য সকল সরকারি বিভাগ ও দফতরগুলোতেও সৌরবিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বাজেটে বিদ্যুৎ খাতের ব্যয় সংকোচন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বড় বড় সরকারি ভবনগুলোর ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বাংলাদেশের বৈশ্বিক অঙ্গীকার পূরণে এই ধরনের গ্রিন এনার্জি প্রজেক্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকারের এই নতুন রূপরেখা অনুযায়ী, সরকারি ভবনগুলো কেবল বিদ্যুৎ ব্যবহারের কেন্দ্র হিসেবেই নয়, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনের কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন