নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদী ও খাল রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং কামরাঙ্গীরচরে ৮ লেনের সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন।
রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে কেবল বৃক্ষরোপণই যথেষ্ট নয়, বরং নদী, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। রোববার কামরাঙ্গীরচরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম ব্যাটারিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ‘বৃক্ষবৃত্তি ও সবুজ নগর গঠন’ কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, একটি টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পরিবেশ রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, তাকে সফল করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সুন্দরবনের উদাহরণ টেনে বলেন, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে এই ম্যানগ্রোভ বন, তেমনি সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
নদীমাতৃক ঢাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসক তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে আগামী শুষ্ক মৌসুমেই চ্যানেল খননের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নালা বা নদীতে পলিথিন ও বর্জ্য নিক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ জনগণের সচেতনতা ছাড়া কোনো সরকারি উদ্যোগই সফল হওয়া সম্ভব নয়।
এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রশাসক জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন যাতে পদ্মা সেতু হয়ে সহজে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি অর্থবছরে এই মেগা প্রকল্পের জন্য ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি যুব সমাজকে রক্ষা করার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মাদকের মরণব্যাধি থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। বক্তারা প্রত্যেকেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি নদী ও খাল রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ এবং কামরাঙ্গীরচরে ৮ লেনের সড়ক প্রকল্পের অগ্রগতি পরিদর্শন।
রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য শহর গড়ে তুলতে কেবল বৃক্ষরোপণই যথেষ্ট নয়, বরং নদী, খাল ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। রোববার কামরাঙ্গীরচরের ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম ব্যাটারিঘাট সংলগ্ন এলাকায় ‘বৃক্ষবৃত্তি ও সবুজ নগর গঠন’ কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম বলেন, একটি টেকসই ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হলে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পাওয়ার অনেক আগে থেকেই পরিবেশ রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে, তাকে সফল করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি সুন্দরবনের উদাহরণ টেনে বলেন, যেমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করে এই ম্যানগ্রোভ বন, তেমনি সারা দেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
নদীমাতৃক ঢাকার ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশাসক তার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে এবং অবৈধ দখলমুক্ত করতে আগামী শুষ্ক মৌসুমেই চ্যানেল খননের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তিনি নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নালা বা নদীতে পলিথিন ও বর্জ্য নিক্ষেপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ জনগণের সচেতনতা ছাড়া কোনো সরকারি উদ্যোগই সফল হওয়া সম্ভব নয়।
এলাকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রশাসক জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন যাতে পদ্মা সেতু হয়ে সহজে ঢাকায় প্রবেশ করতে পারে, সেজন্য কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি অর্থবছরে এই মেগা প্রকল্পের জন্য ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৪৮ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি যুব সমাজকে রক্ষা করার বিষয়েও কঠোর বার্তা দেন আবদুস সালাম। তিনি বলেন, মাদকের মরণব্যাধি থেকে সমাজকে বাঁচাতে হলে পারিবারিক ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ এবং সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। বক্তারা প্রত্যেকেই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন