জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খানের না-বলা আক্ষেপ এবং অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার নতুন মোড় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর এক নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। তাঁর অকাল প্রয়াণের কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই নায়কের স্মৃতি আজও অমলিন। সম্প্রতি দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী মনির খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রিয় নায়ককে নিয়ে নিজের হৃদয়ে জমে থাকা এক দীর্ঘশ্বাসের কথা জানিয়েছেন।
নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ‘অঞ্জনা’ খ্যাত মনির খান জানান, সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সুযোগ না পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপ। ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রিয় নায়ককে হারানোর সেই বেদনা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সংগীতশিল্পী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সালমান শাহ ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় এক ক্ষতি, যার অভাব আজও পূরণ হয়নি। শুধু মনির খানই নন, সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনের মানুষের মনেও দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে।
কাকতালীয়ভাবে মনির খানের এই আবেগঘন বার্তার সমসাময়িক সময়েই সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন এক নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই মামলার অন্যতম আসামি ও সালমান শাহর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৯ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডনের এই গ্রেফতারে দীর্ঘ ২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের আলো দেখছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত নীলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডনের গ্রেফতার স্বস্তিদায়ক হলেও তাঁর মনে এখনও শঙ্কা রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ডন এতদিন কার আশ্রয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং কেন মামলার অন্যান্য মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ডন একসময় সালমান শাহর ছায়াসঙ্গী থাকলেও নীলা চৌধুরীর দাবি, স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তিনি সালমানের আশেপাশে থাকতেন। এমনকি ডন ইতিপূর্বে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ডনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা, যাতে পর্দার আড়ালে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় বেরিয়ে আসে।
১৯৯৬ সালের সেই বিষাদময় ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার জট কি তবে এবার খুলবে? মনির খানের মতো অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চান সালমান শাহ হত্যার প্রকৃত বিচার হোক এবং এই নায়কের অমলিন স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হোক। দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি আর না ঘটুক, এটাই এখন সাধারণের প্রত্যাশা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ আগস্ট ২০২৬
জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মনির খানের না-বলা আক্ষেপ এবং অমর নায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলার নতুন মোড় নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন।
বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে অমর এক নক্ষত্রের নাম সালমান শাহ। তাঁর অকাল প্রয়াণের কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই নায়কের স্মৃতি আজও অমলিন। সম্প্রতি দেশের খ্যাতনামা সংগীতশিল্পী মনির খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রিয় নায়ককে নিয়ে নিজের হৃদয়ে জমে থাকা এক দীর্ঘশ্বাসের কথা জানিয়েছেন।
নব্বই দশকের অন্যতম জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ‘অঞ্জনা’ খ্যাত মনির খান জানান, সালমান শাহ অভিনীত কোনো চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করার সুযোগ না পাওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম বড় আক্ষেপ। ক্যারিয়ারের শুরুতে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রিয় নায়ককে হারানোর সেই বেদনা আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়। সংগীতশিল্পী তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, সালমান শাহ ছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রের অপূরণীয় এক ক্ষতি, যার অভাব আজও পূরণ হয়নি। শুধু মনির খানই নন, সালমান শাহর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সংগীতাঙ্গনের মানুষের মনেও দীর্ঘদিনের প্রশ্ন রয়েছে।
কাকতালীয়ভাবে মনির খানের এই আবেগঘন বার্তার সমসাময়িক সময়েই সালমান শাহ হত্যা মামলায় নতুন এক নাটকীয় মোড় এসেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই মামলার অন্যতম আসামি ও সালমান শাহর এক সময়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডন হককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত ৯ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডনের এই গ্রেফতারে দীর্ঘ ২৯ বছর পর ন্যায়বিচারের আলো দেখছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত নীলা চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ডনের গ্রেফতার স্বস্তিদায়ক হলেও তাঁর মনে এখনও শঙ্কা রয়েছে।
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ডন এতদিন কার আশ্রয়ে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং কেন মামলার অন্যান্য মূল আসামিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। ডন একসময় সালমান শাহর ছায়াসঙ্গী থাকলেও নীলা চৌধুরীর দাবি, স্বার্থসিদ্ধির জন্যই তিনি সালমানের আশেপাশে থাকতেন। এমনকি ডন ইতিপূর্বে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে ডনকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন তাঁর মা, যাতে পর্দার আড়ালে থাকা প্রকৃত অপরাধীদের পরিচয় বেরিয়ে আসে।
১৯৯৬ সালের সেই বিষাদময় ৬ সেপ্টেম্বরের ঘটনার জট কি তবে এবার খুলবে? মনির খানের মতো অগণিত ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা চান সালমান শাহ হত্যার প্রকৃত বিচার হোক এবং এই নায়কের অমলিন স্মৃতির প্রতি যথাযথ সম্মান জানানো হোক। দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি আর না ঘটুক, এটাই এখন সাধারণের প্রত্যাশা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন