ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরোহিতদের সম্মানি প্রদান; বিগত দিনের নির্যাতনের বিচার ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান হিন্দু নেতৃবৃন্দের
পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং সেবাইতদের মাঝে রাষ্ট্রীয় সম্মানি বিতরণ করেন। এই আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জোরালো বার্তায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ গত ছয় মাসে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তারা বিগত বছরগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চালানো বিভিন্ন নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে হিন্দু সম্প্রদায় কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিগত শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ পোষণ করার কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন সময়ে মানুষের মনে গুম ও খুনের আতঙ্ক এতটাই প্রবল ছিল যে, কেউ স্বাধীনভাবে মনের কথা বলতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর হয়েছে। আজ খোদ প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়েও মানুষ গঠনমূলক সমালোচনা করার সাহস পাচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দেশে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পুরোহিতদের সম্মানি প্রদান; বিগত দিনের নির্যাতনের বিচার ও সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান হিন্দু নেতৃবৃন্দের
পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বী বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং সেবাইতদের মাঝে রাষ্ট্রীয় সম্মানি বিতরণ করেন। এই আয়োজনটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং বাংলাদেশে বিদ্যমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক জোরালো বার্তায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ গত ছয় মাসে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তবে একই সঙ্গে তারা বিগত বছরগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ওপর চালানো বিভিন্ন নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান সরকারের অধীনে হিন্দু সম্প্রদায় কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বিগত শাসনব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অবর্ণনীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শুধুমাত্র ভিন্ন রাজনৈতিক আদর্শ পোষণ করার কারণে অনেক যোগ্য কর্মকর্তাকে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল। তিনি আরও যোগ করেন, তৎকালীন সময়ে মানুষের মনে গুম ও খুনের আতঙ্ক এতটাই প্রবল ছিল যে, কেউ স্বাধীনভাবে মনের কথা বলতে পারত না। কিন্তু বর্তমানে সেই ভয়ের সংস্কৃতি দূর হয়েছে। আজ খোদ প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়েও মানুষ গঠনমূলক সমালোচনা করার সাহস পাচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার পাশাপাশি দেশে একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। পুরো অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়, যা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন