বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এই ডামাডোলের মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে যা সরাসরি পশ্চিমা বিশ্বের একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে এই জোটের প্রভাব ও পরিধি বিস্তারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এই সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের এই ঘনিষ্ঠতার মূলে রয়েছে পারস্পরিক স্বার্থ এবং পশ্চিমা চাপের পাল্টা জবাব দেওয়ার এক সম্মিলিত প্রচেষ্টা। ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভরকেন্দ্র বেইজিংয়ের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। চীনও এই সুযোগে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ এবং নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ। ফলে এই নতুন অক্ষশক্তি পারমাণবিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার সামনে এক বিশাল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ভূমিকাও এখানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার বন্ধু এবং বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, ভারত তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নীতি বজায় রাখতে সচেষ্ট। ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি এটাই প্রমাণ করে যে, নয়াদিল্লি কোনো নির্দিষ্ট জোটের অনুসারী না হয়ে বরং একটি বহুমেরুভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে এই নতুন মেরুকরণ শুধু বাইরেই নয়, পশ্চিমা জোটের ভেতরেও ফাটল ধরাতে শুরু করেছে।
শুল্কনীতি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের শীতলতা এখন প্রকাশ্য। ন্যাটোতে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং ডেনমার্কের মতো পুরনো মিত্রদের সঙ্গে ছোটখাটো কূটনৈতিক বিবাদ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা ঐক্য আগের মতো অটুট নেই। পরিশেষে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকলেও, এককেন্দ্রিক বিশ্বের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব এক বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন শক্তির বলয় মোকাবিলা করতে ওয়াশিংটনকে এখন কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও অর্থনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে। বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তনের ঢেউ ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমেই আরও জোরালো হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ।

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। একদিকে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। এই ডামাডোলের মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে যা সরাসরি পশ্চিমা বিশ্বের একক আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক ব্রিকস সম্মেলনে এই জোটের প্রভাব ও পরিধি বিস্তারের যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।
এই সম্মেলনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের প্রভাব কমানোর মতো বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলোচিত হয়েছে। রাশিয়া ও চীনের এই ঘনিষ্ঠতার মূলে রয়েছে পারস্পরিক স্বার্থ এবং পশ্চিমা চাপের পাল্টা জবাব দেওয়ার এক সম্মিলিত প্রচেষ্টা। ইউক্রেন আক্রমণের পর পশ্চিমা বিশ্বের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ে মস্কো তার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ভরকেন্দ্র বেইজিংয়ের দিকে সরিয়ে নিয়েছে। চীনও এই সুযোগে রাশিয়ার কাছ থেকে সস্তায় জ্বালানি সংগ্রহ এবং নিজেদের বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারের পথ প্রশস্ত করেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ। ফলে এই নতুন অক্ষশক্তি পারমাণবিক সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তিতে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার সামনে এক বিশাল প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ভূমিকাও এখানে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
ঐতিহাসিকভাবে রাশিয়ার বন্ধু এবং বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হওয়া সত্ত্বেও, ভারত তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন নীতি বজায় রাখতে সচেষ্ট। ব্রিকস সম্মেলনে ভারতের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারের দাবি এটাই প্রমাণ করে যে, নয়াদিল্লি কোনো নির্দিষ্ট জোটের অনুসারী না হয়ে বরং একটি বহুমেরুভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তুলতে আগ্রহী। তবে এই নতুন মেরুকরণ শুধু বাইরেই নয়, পশ্চিমা জোটের ভেতরেও ফাটল ধরাতে শুরু করেছে।
শুল্কনীতি, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের শীতলতা এখন প্রকাশ্য। ন্যাটোতে দায়িত্ব ভাগাভাগি এবং ডেনমার্কের মতো পুরনো মিত্রদের সঙ্গে ছোটখাটো কূটনৈতিক বিবাদ এটাই ইঙ্গিত দেয় যে, পশ্চিমা ঐক্য আগের মতো অটুট নেই। পরিশেষে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের প্রধান অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকলেও, এককেন্দ্রিক বিশ্বের অবসান ঘটিয়ে বিশ্ব এক বহুমেরু ব্যবস্থার দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে।
রাশিয়া, চীন এবং ইরানের সমন্বয়ে গঠিত এই নতুন শক্তির বলয় মোকাবিলা করতে ওয়াশিংটনকে এখন কেবল সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর না করে দীর্ঘমেয়াদী কূটনৈতিক প্রজ্ঞা ও অর্থনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নিতে হবে। বিশ্ব রাজনীতির এই পরিবর্তনের ঢেউ ব্রিকসের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমেই আরও জোরালো হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ।

আপনার মতামত লিখুন