পরিবেশ কন্ঠ

ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট


প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট
সংগৃহীত

পাঁচ মাসের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ফুরিয়ে আসছে 'অ্যাটাকামস' ও 'পিআরএসএম'; চীন-রাশিয়া মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ইরানের সাথে চলমান পাঁচ মাসের রক্তক্ষয়ী ও তীব্র সামরিক সংঘাতের জেরে নিজেদের সমরাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে নিরাপদ দূরত্ব থেকে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম এমন অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর রণকৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (অ্যাটাকামস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (পিআরএসএম)-এর মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জামের প্রায় সবটুকুই ব্যবহৃত হয়েছে এই যুদ্ধে। এর ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো বৈশ্বিক সংঘাত কিংবা চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এবং ইসরায়েলের সাথে সম্মিলিতভাবে ইরানে এই সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়। শুরুতে যুদ্ধটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে সমর বিশ্লেষকরা ধারণা করলেও ইরানের শক্ত প্রতিরোধের মুখে তা দীর্ঘায়িত হয়। মূলত মার্কিন পাইলটদের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে এবং সরাসরি যুদ্ধবিমান ব্যবহারের পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন দূরপাল্লার ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কৌশলের প্রভাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের আওতায় থাকা প্রায় সব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন শেষের পথে। 

বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতকৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং অন্তত ৩৮ শতাংশ ‘থাড’ (THAAD) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়ে গেছে। প্রতিটি কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সামরিক সরঞ্জামগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। 

বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদন চললেও তা যুদ্ধের বিশাল চাহিদার তুলনায় এখনো অনেক কম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমরাস্ত্রের এই তীব্র সংকটের কারণেই সামরিক প্রধানদের পরামর্শে ইরানজুড়ে বড় ধরনের নতুন আক্রমণ থেকে আপাতত পিছিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র ভাণ্ডার বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের যা প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি অস্ত্র মজুত রয়েছে। অন্যদিকে পেন্টাগন মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের সক্ষমতা প্রশ্নাতীত। 

তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একক আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


ইরান যুদ্ধ ও আমেরিকার ক্ষেপণাস্ত্র সংকট

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পাঁচ মাসের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে ফুরিয়ে আসছে 'অ্যাটাকামস' ও 'পিআরএসএম'; চীন-রাশিয়া মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

ইরানের সাথে চলমান পাঁচ মাসের রক্তক্ষয়ী ও তীব্র সামরিক সংঘাতের জেরে নিজেদের সমরাস্ত্র ভাণ্ডারের একটি বড় অংশ হারিয়ে ফেলেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। বিশেষ করে নিরাপদ দূরত্ব থেকে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম এমন অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বর্তমানে আশঙ্কাজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে বিভিন্ন সামরিক সূত্রে জানা গেছে। মার্কিন সেনাবাহিনীর রণকৌশলের মূল স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত ‘আর্মি ট্যাকটিক্যাল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা’ (অ্যাটাকামস) এবং ‘প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল’ (পিআরএসএম)-এর মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জামের প্রায় সবটুকুই ব্যবহৃত হয়েছে এই যুদ্ধে। এর ফলে ভবিষ্যতে সম্ভাব্য কোনো বৈশ্বিক সংঘাত কিংবা চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় ওয়াশিংটনের সক্ষমতা নিয়ে পেন্টাগনের অভ্যন্তরে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। 

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এবং ইসরায়েলের সাথে সম্মিলিতভাবে ইরানে এই সামরিক আগ্রাসন শুরু হয়। শুরুতে যুদ্ধটি স্বল্পস্থায়ী হবে বলে সমর বিশ্লেষকরা ধারণা করলেও ইরানের শক্ত প্রতিরোধের মুখে তা দীর্ঘায়িত হয়। মূলত মার্কিন পাইলটদের প্রাণের ঝুঁকি এড়াতে এবং সরাসরি যুদ্ধবিমান ব্যবহারের পরিবর্তে ট্রাম্প প্রশাসন দূরপাল্লার ও ভূমি থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর মাত্রাতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কৌশলের প্রভাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকমের আওতায় থাকা প্রায় সব অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র এখন শেষের পথে। 

বর্তমানে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো থেকে জরুরি ভিত্তিতে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চলছে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মজুতকৃত প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং অন্তত ৩৮ শতাংশ ‘থাড’ (THAAD) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়ে গেছে। প্রতিটি কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সামরিক সরঞ্জামগুলোর উৎপাদন প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। 

বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণে উৎপাদন চললেও তা যুদ্ধের বিশাল চাহিদার তুলনায় এখনো অনেক কম। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সমরাস্ত্রের এই তীব্র সংকটের কারণেই সামরিক প্রধানদের পরামর্শে ইরানজুড়ে বড় ধরনের নতুন আক্রমণ থেকে আপাতত পিছিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যদিও হোয়াইট হাউস থেকে বিষয়টিকে কিছুটা ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। 

এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমরাস্ত্র ভাণ্ডার বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে শক্তিশালী এবং তাদের যা প্রয়োজন, তার চেয়েও বেশি অস্ত্র মজুত রয়েছে। অন্যদিকে পেন্টাগন মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তাদের সক্ষমতা প্রশ্নাতীত। 

তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সমর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত এই ঘাটতি পূরণ করা না গেলে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের একক আধিপত্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ