দাবানল ও নজিরবিহীন দাবদাহে বিপর্যস্ত গ্রিস ও হাঙ্গেরি; দানিউব নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মহাবিপর্যয়ের মুখে ইউরোপের জ্বালানি খাত
ইউরোপজুড়ে বয়ে চলা প্রলয়ংকরী দাবদাহ ও দাবানল এবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একদিকে গ্রিসে আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের মধ্যে আকাশেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে তীব্র খরার প্রভাবে দানিউব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় হাঙ্গেরি তাদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে আত্তিকা অঞ্চলের সাথা এলাকায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার। রোববার অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে একটি যান তৎক্ষণাৎ ভূপাতিত হয়। গ্রিসের দমকল বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, একটি হেলিকপ্টারের ক্রুদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যটির আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই দুর্গম এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।
গ্রিসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে করিন্থ উপসাগরসংলগ্ন পোর্তো জেরমেনো এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রবল বাতাসে লোকালয়ে পৌঁছে গেছে। এরই মধ্যে শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, একটি সামরিক ফায়ারিং রেঞ্জেও আগুন ধরে যায়। এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পর্যটন কেন্দ্র কেফালোনিয়া দ্বীপেও নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, 'মাঝে মাঝে প্রকৃতির রুদ্ররূপ মানুষের সব ধরনের সক্ষমতা ও আগাম পরিকল্পনাকে হার মানায়।'
অন্যদিকে, মধ্য ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে খরা ও তাপপ্রবাহ এক ভিন্নধর্মী সংকট তৈরি করেছে। ইউরোপের অন্যতম প্রধান নদী দানিউবের পানির স্তর ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্থগিত করা হয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজার সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় জননিরাপত্তার খাতিরে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দানিউবের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কেবল বিদ্যুৎ খাত নয়, নৌপরিবহন ও পর্যটন ব্যবসাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশ সার্বিয়া ও রোমানিয়াতেও। সার্বিয়ায় দানিউবের পানি ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন উচ্চতায় পৌঁছানোয় দেশটির বৃহৎ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা অন্তত ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফ্রান্সে দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ্বলে ওঠার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করছে ইউরোপবাসী, যেখানে একদিকে আগুনের লেলিহান শিখা আর অন্যদিকে পানিশূন্য নদ-নদী জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬
দাবানল ও নজিরবিহীন দাবদাহে বিপর্যস্ত গ্রিস ও হাঙ্গেরি; দানিউব নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় মহাবিপর্যয়ের মুখে ইউরোপের জ্বালানি খাত
ইউরোপজুড়ে বয়ে চলা প্রলয়ংকরী দাবদাহ ও দাবানল এবার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। একদিকে গ্রিসে আগুন নেভানোর অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি অগ্নিনির্বাপণ হেলিকপ্টারের মধ্যে আকাশেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, অন্যদিকে তীব্র খরার প্রভাবে দানিউব নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নেমে যাওয়ায় হাঙ্গেরি তাদের একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গ্রিসের রাজধানী এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমে আত্তিকা অঞ্চলের সাথা এলাকায় ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিল বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার। রোববার অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চলাকালে হঠাৎ দুটি হেলিকপ্টারের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে, যার ফলে একটি যান তৎক্ষণাৎ ভূপাতিত হয়। গ্রিসের দমকল বিভাগ নিশ্চিত করেছে যে, একটি হেলিকপ্টারের ক্রুদের জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্যটির আরোহীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়। নিখোঁজদের সন্ধানে ওই দুর্গম এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল।
গ্রিসের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। বিশেষ করে করিন্থ উপসাগরসংলগ্ন পোর্তো জেরমেনো এলাকা থেকে ছড়িয়ে পড়া আগুন প্রবল বাতাসে লোকালয়ে পৌঁছে গেছে। এরই মধ্যে শতাধিক ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন দমকলকর্মীরা। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে যে, একটি সামরিক ফায়ারিং রেঞ্জেও আগুন ধরে যায়। এথেন্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বসতিগুলো থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পর্যটন কেন্দ্র কেফালোনিয়া দ্বীপেও নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিৎসোতাকিস পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্বীকার করে বলেন, 'মাঝে মাঝে প্রকৃতির রুদ্ররূপ মানুষের সব ধরনের সক্ষমতা ও আগাম পরিকল্পনাকে হার মানায়।'
অন্যদিকে, মধ্য ইউরোপের দেশ হাঙ্গেরিতে খরা ও তাপপ্রবাহ এক ভিন্নধর্মী সংকট তৈরি করেছে। ইউরোপের অন্যতম প্রধান নদী দানিউবের পানির স্তর ইতিহাসে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো স্থগিত করা হয়েছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার মাজার সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত পানির অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় জননিরাপত্তার খাতিরে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। দানিউবের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় কেবল বিদ্যুৎ খাত নয়, নৌপরিবহন ও পর্যটন ব্যবসাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।
একই চিত্র দেখা গেছে প্রতিবেশী দেশ সার্বিয়া ও রোমানিয়াতেও। সার্বিয়ায় দানিউবের পানি ১৯৮৫ সালের পর সর্বনিম্ন উচ্চতায় পৌঁছানোয় দেশটির বৃহৎ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ক্ষমতা অন্তত ২০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। ফ্রান্সে দাবানল কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলেও বিচ্ছিন্নভাবে আগুন জ্বলে ওঠার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সব মিলিয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের এক চরম দৃষ্টান্ত প্রত্যক্ষ করছে ইউরোপবাসী, যেখানে একদিকে আগুনের লেলিহান শিখা আর অন্যদিকে পানিশূন্য নদ-নদী জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন