পরিবেশ কন্ঠ

দুই বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

জুলাই অভ্যুত্থানে অকালে ঝরে পড়া ৬ কলম সৈনিক


প্রকাশ : ০৫ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জুলাই অভ্যুত্থানে অকালে ঝরে পড়া ৬ কলম সৈনিক
প্রতীকী ছবি

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের স্মৃতিতে আজও কাঁদছে পরিবার; এক বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কিংবা বিচারের আশ্বাস

জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ গণ অভ্যুত্থানের জোয়ারে ভাসছিল, রাজপথে তখন চলছিল অধিকার আদায়ের তীব্র লড়াই। একদিকে টিয়ারশেল আর গুলিবর্ষণ, অন্যদিকে অকুতোভয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করতে এবং সত্য সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ছিলেন একদল নির্ভীক সংবাদকর্মী। নিজের নিরাপত্তার চেয়েও মানুষের জানার অধিকারকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে গত বছরের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন সাংবাদিক। 

আজ অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহত এসব সংবাদকর্মীদের পরিবারগুলোতে কেবল হাহাকার আর বিচারহীনতার গ্লানি বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি স্বজনদের মনে সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষোভ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রথম প্রাণ বিসর্জন দেন ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার হাসান মেহেদী। ১৮ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একই দিনে উত্তরার রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারান দৈনিক ভোরের আওয়াজের প্রতিবেদক শাকিল হোসাইন। হাসান মেহেদীর ছোট মেয়েটি আজও বাবার ছবি বুকে নিয়ে ঘুমায়, আর শাকিলের বৃদ্ধ বাবা-মা শেষ বয়সে কেবল সন্তানের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ে ১৯ জুলাই, যখন সিলেটে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারান দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব এবং ধানমন্ডিতে ছবি তুলতে গিয়ে নিহত হন ফ্রিল্যান্স ফটো সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়। 

প্রিয়র ছয় বছরের কন্যাসন্তান পদ্ম এখনো রাস্তার ভিড়ে বাবার মুখ খুঁজে বেড়ায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এরপর ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন প্রদীপ কুমার ভৌমিক এবং সর্বশেষ ৫ আগস্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রাণ হারান স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল আখঞ্জি। প্রদীপ কুমার ভৌমিকের পরিবার আজ তীব্র আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সোহেল আখঞ্জির তিন সন্তান এখনো বিশ্বাস করে তাদের বাবা হয়তো কোনো দূর প্রবাসে আছেন এবং একদিন ঠিকই ফিরে আসবেন। 

এই ছয় সংবাদকর্মীর আত্মত্যাগ জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক অম্লান অধ্যায় হয়ে থাকলেও, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কিংবা দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতা পীড়াদায়ক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দাবি দীর্ঘদিনের, এই ঘটনাগুলো যেন আবারও সেই প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিহত এই সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরের মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেবে—এমনটাই এখন সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলের প্রাণের দাবি। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬


জুলাই অভ্যুত্থানে অকালে ঝরে পড়া ৬ কলম সৈনিক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজপথে প্রাণ হারানো সাংবাদিকদের স্মৃতিতে আজও কাঁদছে পরিবার; এক বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি কিংবা বিচারের আশ্বাস

জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলোতে যখন পুরো দেশ গণ অভ্যুত্থানের জোয়ারে ভাসছিল, রাজপথে তখন চলছিল অধিকার আদায়ের তীব্র লড়াই। একদিকে টিয়ারশেল আর গুলিবর্ষণ, অন্যদিকে অকুতোভয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধ। সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে বন্দি করতে এবং সত্য সংবাদ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঠে ছিলেন একদল নির্ভীক সংবাদকর্মী। নিজের নিরাপত্তার চেয়েও মানুষের জানার অধিকারকে প্রাধান্য দিতে গিয়ে গত বছরের সেই রক্তঝরা দিনগুলোতে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ছয়জন সাংবাদিক। 

আজ অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেলেও নিহত এসব সংবাদকর্মীদের পরিবারগুলোতে কেবল হাহাকার আর বিচারহীনতার গ্লানি বিরাজ করছে। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির অভাব এবং তদন্ত প্রক্রিয়ার ধীরগতি স্বজনদের মনে সৃষ্টি করেছে গভীর ক্ষোভ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রথম প্রাণ বিসর্জন দেন ঢাকা টাইমসের স্টাফ রিপোর্টার হাসান মেহেদী। ১৮ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একই দিনে উত্তরার রাজপথে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারান দৈনিক ভোরের আওয়াজের প্রতিবেদক শাকিল হোসাইন। হাসান মেহেদীর ছোট মেয়েটি আজও বাবার ছবি বুকে নিয়ে ঘুমায়, আর শাকিলের বৃদ্ধ বাবা-মা শেষ বয়সে কেবল সন্তানের হত্যার বিচার দেখে যেতে চান। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়ে ১৯ জুলাই, যখন সিলেটে সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে প্রাণ হারান দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি আবু তাহের মুহাম্মদ তুরাব এবং ধানমন্ডিতে ছবি তুলতে গিয়ে নিহত হন ফ্রিল্যান্স ফটো সাংবাদিক তাহির জামান প্রিয়। 

প্রিয়র ছয় বছরের কন্যাসন্তান পদ্ম এখনো রাস্তার ভিড়ে বাবার মুখ খুঁজে বেড়ায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। এরপর ৪ আগস্ট সিরাজগঞ্জে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন প্রদীপ কুমার ভৌমিক এবং সর্বশেষ ৫ আগস্ট হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে প্রাণ হারান স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল আখঞ্জি। প্রদীপ কুমার ভৌমিকের পরিবার আজ তীব্র আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সোহেল আখঞ্জির তিন সন্তান এখনো বিশ্বাস করে তাদের বাবা হয়তো কোনো দূর প্রবাসে আছেন এবং একদিন ঠিকই ফিরে আসবেন। 

এই ছয় সংবাদকর্মীর আত্মত্যাগ জুলাই অভ্যুত্থানের ইতিহাসে এক অম্লান অধ্যায় হয়ে থাকলেও, তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো কিংবা দোষীদের বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে প্রশাসনের উদাসীনতা পীড়াদায়ক। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে দাবি দীর্ঘদিনের, এই ঘটনাগুলো যেন আবারও সেই প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এসেছে। নিহত এই সাংবাদিকদের রাষ্ট্রীয়ভাবে বীরের মর্যাদা দেওয়া এবং তাদের পরিবারের পুনর্বাসনে সরকার কার্যকর ভূমিকা নেবে—এমনটাই এখন সুশীল সমাজ ও সাংবাদিক মহলের প্রাণের দাবি। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ