পরিবেশ কন্ঠ

সাকিবকে ছাড়িয়ে পরীমনি শীর্ষে


প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সাকিবকে ছাড়িয়ে পরীমনি শীর্ষে
সংগৃহীত

ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে ১ কোটি ৭০ লাখ অনুসারী নিয়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে দীর্ঘকাল ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় এবার সেই সিংহাসনে ভাগ বসালেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিবকে ছাড়িয়ে এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে পরীমনির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি, যেখানে সাকিবের অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের কিছু বেশি।

পেশাগত অর্জনের নিরিখে এই পরিবর্তনের সমীকরণটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। গত এক যুগের অভিনয় জীবনে পরীমনি অভিনীত সিনেমার সংখ্যা প্রায় দুই ডজন হলেও, বক্স অফিসে সেভাবে ঝড় তুলতে পারেনি কোনোটিই। অন্যদিকে ক্রিকেট বিশ্বে সাকিবের অর্জন ঈর্ষণীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপনী মুখ। তবে রুপালি পর্দার সাফল্যের চেয়েও ব্যক্তিজীবন, সমসাময়িক ইস্যু এবং ভক্তদের সাথে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরীমনির বিশেষ মুন্সিয়ানা তাঁকে এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির সরব উপস্থিতি এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ-বেদনার গল্পগুলো সাধারণ নেটিজেনদের কাছে তাঁকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। সন্তানের সাথে কাটানো মুহূর্ত কিংবা ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে অনুসারীদের সাথে এক ধরণের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছেন তিনি। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি তাঁর এক কন্যার ভিডিও মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ১৫ লাখ ভিউ এবং হাজার হাজার মন্তব্য অর্জন করেছে। সাকিবের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মূলত খেলাধুলা ও বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কিছুটা সীমিত থেকে যায়।

এই শীর্ষস্থান পরিবর্তনের সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন খোদ পরীমনিও। তিনি মনে করেন, তাঁর স্বচ্ছ জীবন এবং কোনো লুকোচুরি না থাকার কারণেই মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছে। তাঁর মতে, 'মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি পৃথিবীতে নেই।' অনুসারীদের এই জোয়ার কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং এক ধরণের মানসিক সংযোগের ফসল। তবে সাকিব ও পরীমনির এই 'ফলোয়ার যুদ্ধ' এবারই প্রথম নয়; গত তিন বছর ধরে একাধিকবার তাঁদের ব্যবধান কাছাকাছি এসেছে। ২০২৩ সালে সাকিব একবার এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরীমনিই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ডে না থাকলেও, ভার্চুয়াল জগতে এখন রাজত্ব করছেন এই চিত্রনায়িকাই।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


সাকিবকে ছাড়িয়ে পরীমনি শীর্ষে

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image


ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে পেছনে ফেলে ১ কোটি ৭০ লাখ অনুসারী নিয়ে বাংলাদেশের সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন অপ্রতিদ্বন্দ্বী চিত্রনায়িকা পরীমনি।

বাংলাদেশের জনপ্রিয়তার মানদণ্ডে দীর্ঘকাল ধরে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিলেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠের নৈপুণ্যের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছিল তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্য। তবে সময়ের পরিক্রমায় এবার সেই সিংহাসনে ভাগ বসালেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। ফেসবুক অনুসারীর সংখ্যায় সাকিবকে ছাড়িয়ে এখন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকার তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি। বর্তমানে পরীমনির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে অনুসারীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি, যেখানে সাকিবের অনুসারী সংখ্যা ১ কোটি ৬০ লাখের কিছু বেশি।

পেশাগত অর্জনের নিরিখে এই পরিবর্তনের সমীকরণটি বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। গত এক যুগের অভিনয় জীবনে পরীমনি অভিনীত সিনেমার সংখ্যা প্রায় দুই ডজন হলেও, বক্স অফিসে সেভাবে ঝড় তুলতে পারেনি কোনোটিই। অন্যদিকে ক্রিকেট বিশ্বে সাকিবের অর্জন ঈর্ষণীয় এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তিনি বাংলাদেশের অন্যতম বড় বিজ্ঞাপনী মুখ। তবে রুপালি পর্দার সাফল্যের চেয়েও ব্যক্তিজীবন, সমসাময়িক ইস্যু এবং ভক্তদের সাথে ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার ক্ষেত্রে পরীমনির বিশেষ মুন্সিয়ানা তাঁকে এই অভাবনীয় জনপ্রিয়তা এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরীমনির সরব উপস্থিতি এবং জীবনের ছোট ছোট আনন্দ-বেদনার গল্পগুলো সাধারণ নেটিজেনদের কাছে তাঁকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। সন্তানের সাথে কাটানো মুহূর্ত কিংবা ব্যক্তিগত সফরের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে অনুসারীদের সাথে এক ধরণের অবিচ্ছেদ্য বন্ধন তৈরি করেছেন তিনি। উদাহরণস্বরূপ, সম্প্রতি তাঁর এক কন্যার ভিডিও মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ১৫ লাখ ভিউ এবং হাজার হাজার মন্তব্য অর্জন করেছে। সাকিবের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মূলত খেলাধুলা ও বিজ্ঞাপন কেন্দ্রিক হওয়ায় সাধারণ মানুষের সাথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ কিছুটা সীমিত থেকে যায়।

এই শীর্ষস্থান পরিবর্তনের সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন খোদ পরীমনিও। তিনি মনে করেন, তাঁর স্বচ্ছ জীবন এবং কোনো লুকোচুরি না থাকার কারণেই মানুষ তাঁকে আপন করে নিয়েছে। তাঁর মতে, 'মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি পৃথিবীতে নেই।' অনুসারীদের এই জোয়ার কেবল সংখ্যার লড়াই নয়, বরং এক ধরণের মানসিক সংযোগের ফসল। তবে সাকিব ও পরীমনির এই 'ফলোয়ার যুদ্ধ' এবারই প্রথম নয়; গত তিন বছর ধরে একাধিকবার তাঁদের ব্যবধান কাছাকাছি এসেছে। ২০২৩ সালে সাকিব একবার এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত পরীমনিই নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন। সিনেমার বক্স অফিস রেকর্ডে না থাকলেও, ভার্চুয়াল জগতে এখন রাজত্ব করছেন এই চিত্রনায়িকাই।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ