পরিবেশ কন্ঠ

সীতাকুণ্ডের শিপইয়ার্ডে এলএনজি স্ক্র্যাপ জাহাজে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনা

বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু



বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

জাহাজ ভাঙা শিল্পের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণ ও শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিল। তারা জানিয়েছেন, হংকং কনভেনশন কার্যকর করার রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ে সাধারণ ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশগত ও পেশাগত নিরাপত্তা মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) ইয়ার্ডের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, সিংহভাগ ইয়ার্ডে এখনও সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার কাজ চলছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও দূষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে যেমন: উপকূলীয় দূষণ,মাটি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। অন্যদিকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকির মধ্যে নিমর্জিত হচ্ছে যেমন: ইয়ার্ডগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী (PPE) ছাড়াই বিষাক্ত গ্যাস ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে এসে তাদের ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট এবং চর্মরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ইয়ার্ডে আগুন এবং ভারী লোহার পাতের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই প্রাণহানি ও স্থায়ী অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে। যেমনটা ঘটেছে ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে।০১৪ সাল থেকে গত ১৩ বছরে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে মোট ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এগুলোকে নিছক দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিলে ভুল হবে বরং প্রতিটি অবহেলা জনিত হত্যাকান্ড। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা) এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করছে। একইসাথে এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপুরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ১৬ আগস্ট ২০২৬


বিষাক্ত গ্যাসে ৯ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৬ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জাহাজ ভাঙা শিল্পের অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ দূষণ ও শ্রমিকদের ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) শুরু থেকেই সতর্ক করে আসছিল। তারা জানিয়েছেন, হংকং কনভেনশন কার্যকর করার রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও, মাঠপর্যায়ে সাধারণ ইয়ার্ডগুলোতে পরিবেশগত ও পেশাগত নিরাপত্তা মানদণ্ডের চরম লঙ্ঘন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব (গ্রিন) ইয়ার্ডের সংখ্যা কিছুটা বাড়লেও, সিংহভাগ ইয়ার্ডে এখনও সনাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ পদ্ধতিতে জাহাজ কাটার কাজ চলছে। এর ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের বাস্তুসংস্থান ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। এতে পরিবেশগত বিপর্যয় ও দূষণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে যেমন: উপকূলীয় দূষণ,মাটি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। অন্যদিকে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও জীবনঝুঁকির মধ্যে নিমর্জিত হচ্ছে যেমন: ইয়ার্ডগুলোতে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক উপযুক্ত সুরক্ষাসামগ্রী (PPE) ছাড়াই বিষাক্ত গ্যাস ও অ্যাসবেস্টসের সংস্পর্শে এসে তাদের ফুসফুসের ক্যানসার, শ্বাসকষ্ট এবং চর্মরোগসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি মরণব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, ইয়ার্ডে আগুন এবং ভারী লোহার পাতের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই প্রাণহানি ও স্থায়ী অঙ্গহানির ঘটনা ঘটছে। যেমনটা ঘটেছে ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে।০১৪ সাল থেকে গত ১৩ বছরে চট্টগ্রামের শিপব্রেকিং ইয়ার্ডগুলোতে মোট ১৬১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এগুলোকে নিছক দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিলে ভুল হবে বরং প্রতিটি অবহেলা জনিত হত্যাকান্ড। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন(বাপা) এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত দাবি করছে। একইসাথে এই ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি এবং নিহতের পরিবারকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপুরণ ও আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানিয়েছেন।



পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ