পরিবেশ কন্ঠ

রংপুরের জিয়া খাল পুনঃখনন ও ত্রাণমন্ত্রীর কঠোর বার্তা


প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রংপুরের জিয়া খাল পুনঃখনন ও ত্রাণমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
সংগৃহীত

অব্যবস্থাপনায় বিলীন হওয়া খালটি বাঁচাতে জরুরি খননের ঘোষণা; পাশাপাশি রংপুর মেডিকেলের সেবার মান বাড়াতে তিন স্তরের পরিকল্পনার কথা জানালেন আসাদুল হাবীব দুলু।

রংপুর নগরীর একসময়ের প্রমত্তা জিয়া খাল আজ মৃতপ্রায়। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর অবৈধ দখলের কবলে পড়ে খালটি এখন কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে খালটিকে তার পুরনো যৌবন ফিরিয়ে দিতে এবং নগরবাসীকে অভিশপ্ত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় এই খালের বর্তমান দশা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু একগুচ্ছ কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা আর চরম অবহেলার কারণেই জিয়া খালটি আজ ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা শহরজুড়ে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।" তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, খালের জায়গা যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে দখল করে রেখেছেন, তাদের অতিদ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। কোনো প্রভাবশালীর রক্তচক্ষু এই উদ্ধার অভিযানে বাধা হতে পারবে না। উচ্ছেদ শেষে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন কাজ শুরু হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।

খাল খনন নিয়ে ইতিপূর্বে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কোনো সংস্কার কাজই অস্থায়ী বা লোকদেখানো হবে না। আমরা টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছি। ইতিমধ্যে অনিয়মের যে সকল অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি প্রকল্পে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা দুর্নীতির কোনো স্থান নেই।"

খালের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিন স্তরের একটি আধুনিক উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। মন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) শয্যা সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করা হবে। এছাড়া হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন করে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটার সচল রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

উক্ত পরিদর্শন ও বৈঠকে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীনসহ প্রশাসনের স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, মন্ত্রীর এই সশরীরে পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশনার পর জিয়া খাল ও স্বাস্থ্যসেবার মানের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


রংপুরের জিয়া খাল পুনঃখনন ও ত্রাণমন্ত্রীর কঠোর বার্তা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

অব্যবস্থাপনায় বিলীন হওয়া খালটি বাঁচাতে জরুরি খননের ঘোষণা; পাশাপাশি রংপুর মেডিকেলের সেবার মান বাড়াতে তিন স্তরের পরিকল্পনার কথা জানালেন আসাদুল হাবীব দুলু।

রংপুর নগরীর একসময়ের প্রমত্তা জিয়া খাল আজ মৃতপ্রায়। দীর্ঘদিনের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা আর অবৈধ দখলের কবলে পড়ে খালটি এখন কেবল ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এমন নাজুক পরিস্থিতিতে খালটিকে তার পুরনো যৌবন ফিরিয়ে দিতে এবং নগরবাসীকে অভিশপ্ত জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার বিকেলে রংপুর নগরীর কুকরুল এলাকায় এই খালের বর্তমান দশা সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু একগুচ্ছ কঠোর ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, "দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা আর চরম অবহেলার কারণেই জিয়া খালটি আজ ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা শহরজুড়ে কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি করে। আবার শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে কৃষিকাজ ও পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।" তিনি দৃঢ়তার সাথে ঘোষণা করেন যে, খালের জায়গা যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে দখল করে রেখেছেন, তাদের অতিদ্রুত উচ্ছেদ করা হবে। কোনো প্রভাবশালীর রক্তচক্ষু এই উদ্ধার অভিযানে বাধা হতে পারবে না। উচ্ছেদ শেষে আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃখনন কাজ শুরু হবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ এবং বর্ষায় দ্রুত পানি নিষ্কাশনে বৈপ্লবিক ভূমিকা রাখবে।

খাল খনন নিয়ে ইতিপূর্বে ওঠা বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রী জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "কোনো সংস্কার কাজই অস্থায়ী বা লোকদেখানো হবে না। আমরা টেকসই ও স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছি। ইতিমধ্যে অনিয়মের যে সকল অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি প্রকল্পে বিন্দুমাত্র অবহেলা বা দুর্নীতির কোনো স্থান নেই।"

খালের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাথে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে তিনি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় আস্থা ফিরিয়ে আনতে তিন স্তরের একটি আধুনিক উন্নয়ন পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেন। মন্ত্রী ঘোষণা দেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) শয্যা সংখ্যা ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০-এ উন্নীত করা হবে। এছাড়া হাসপাতালে অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন করে ২৪ ঘণ্টা অপারেশন থিয়েটার সচল রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হবে বলে তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।

উক্ত পরিদর্শন ও বৈঠকে মন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবার রহমান বেলাল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু এবং জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীনসহ প্রশাসনের স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, মন্ত্রীর এই সশরীরে পরিদর্শন ও কঠোর নির্দেশনার পর জিয়া খাল ও স্বাস্থ্যসেবার মানের দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ