পরিবেশ কন্ঠ

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমাল


প্রকাশ : ৩১ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমাল
সংগৃহীত

দেশের ঝিমিয়ে পড়া বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে গতি ফেরাতে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে কিছুটা সরে এসে নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

সূত্রমতে, গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সভায় দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণের শ্লথগতি এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে মুদ্রানীতিতে এই আংশিক শিথিলতা আনা প্রয়োজন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নীতি সুদহারের পাশাপাশি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা হিসেবে পরিচিত স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হারও ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য তুলে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার আগের মতোই ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। 

এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইএনএফের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহারসহ আরও অনেকে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো এখন কম খরচে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে, যার প্রভাব পড়বে গ্রাহক পর্যায়ের ঋণের সুদে। উদ্যোক্তারা যদি কম সুদে ঋণ পান, তবে শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সুদের হার কমানোর ফলে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি যেন আবার মাথাচাড়া না দেয়, সেদিকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কমাল

প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের ঝিমিয়ে পড়া বিনিয়োগ পরিস্থিতিতে গতি ফেরাতে এবং বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়াতে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘদিন ধরে চলা কঠোর সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি থেকে কিছুটা সরে এসে নীতি সুদহার বা রেপো রেট কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের মনিটারি পলিসি ডিপার্টমেন্ট থেকে জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যমান নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগামী ২ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে।

সূত্রমতে, গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) ১৩তম সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। সভায় দেশের বর্তমান মূল্যস্ফীতি, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, বেসরকারি খাতে ঋণের শ্লথগতি এবং বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করা হয়। কমিটির সদস্যরা মনে করেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে মুদ্রানীতিতে এই আংশিক শিথিলতা আনা প্রয়োজন।

নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তহবিল সংগ্রহের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। নীতি সুদহারের পাশাপাশি সুদহার করিডোরের ঊর্ধ্বসীমা হিসেবে পরিচিত স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি (এসএলএফ) হারও ১১ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১১ শতাংশ করা হয়েছে। তবে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য তুলে নেওয়ার সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি (এসডিএফ) হার আগের মতোই ৭ দশমিক ৫০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। 

এই সভায় উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান, আইএনএফের নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কামাল মুজেরী, বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. ফিরদৌসি নাহারসহ আরও অনেকে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, নীতি সুদহার কমানোর ফলে ব্যাংকগুলো এখন কম খরচে তহবিল সংগ্রহ করতে পারবে, যার প্রভাব পড়বে গ্রাহক পর্যায়ের ঋণের সুদে। উদ্যোক্তারা যদি কম সুদে ঋণ পান, তবে শিল্পায়ন ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পথ প্রশস্ত হবে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, সুদের হার কমানোর ফলে বাজারে মুদ্রার সরবরাহ বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতি যেন আবার মাথাচাড়া না দেয়, সেদিকেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ