আইকিউএয়ারের সর্বশেষ সূচকে ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে; জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর বায়ুমণ্ডল ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন ১৫ নম্বরে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ঢাকার বায়ুমান স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১০২, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
তথ্যমতে, বায়ুদূষণের এই বিশ্বতালিকায় বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। ১৮৭ স্কোর নিয়ে শহরটি বায়ুদূষণে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৭১। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩), সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৩২) এবং মিসরের কায়রো (১২৭)।
বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ ছাড়িয়ে গেলেই তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আইকিউএয়ারের মতে, ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০২ হলেও শুষ্ক মৌসুমে এটি প্রায়ই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অর্থাৎ ৩০১ থেকে ৪০০-এর ঘরে পৌঁছে যায়। বাতাসের এই মান মূলত পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়—পিএম ২.৫, পিএম ১০, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্ষাকালে বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) উদ্বেগজনক এক পরিসংখ্যান বলছে, বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। মেগাসিটিগুলোতে বায়ুর এই নিম্নমুখী মান শুধু পরিবেশ বিপর্যয় নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জুলাই ২০২৬
আইকিউএয়ারের সর্বশেষ সূচকে ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে; জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাবে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক প্রভাব এবং অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে বিশ্বের মেগাসিটিগুলোর বায়ুমণ্ডল ক্রমশ বিষাক্ত হয়ে উঠছে। আধুনিক বিশ্বের এই সংকটময় পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বায়ুমানের কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান এখন ১৫ নম্বরে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ঢাকার বায়ুমান স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১০২, যা সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচিত হয়।
তথ্যমতে, বায়ুদূষণের এই বিশ্বতালিকায় বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা। ১৮৭ স্কোর নিয়ে শহরটি বায়ুদূষণে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসার স্কোর ১৭১। এ ছাড়া তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা (১৬৩), সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই (১৩২) এবং মিসরের কায়রো (১২৭)।
বায়ুমানের সূচক অনুযায়ী, শূন্য থেকে ৫০ স্কোরকে ‘ভালো’ এবং ৫১ থেকে ১০০-কে ‘মাঝারি’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ ছাড়িয়ে গেলেই তা দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে ১৫১ থেকে ২০০ স্কোরকে সরাসরি ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ২০১ থেকে ৩০০ স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। আইকিউএয়ারের মতে, ঢাকার বর্তমান স্কোর ১০২ হলেও শুষ্ক মৌসুমে এটি প্রায়ই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ অর্থাৎ ৩০১ থেকে ৪০০-এর ঘরে পৌঁছে যায়। বাতাসের এই মান মূলত পাঁচটি উপাদানের ওপর ভিত্তি করে পরিমাপ করা হয়—পিএম ২.৫, পিএম ১০, নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড এবং সালফার ডাই অক্সাইড।
পরিবেশবিদদের মতে, বর্ষাকালে বৃষ্টির প্রভাবে ঢাকার বাতাসে ধূলিকণার মাত্রা কিছুটা সহনীয় থাকলেও শীত ও শুষ্ক মৌসুমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) উদ্বেগজনক এক পরিসংখ্যান বলছে, বায়ুদূষণের কারণে সৃষ্ট স্ট্রোক, হৃদরোগ ও ফুসফুসের ক্যান্সারের মতো মরণব্যাধিতে প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে। মেগাসিটিগুলোতে বায়ুর এই নিম্নমুখী মান শুধু পরিবেশ বিপর্যয় নয়, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন