পরিবেশ কন্ঠ

নেপাল-তিব্বতের বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট


প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

নেপাল-তিব্বতের বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট
ফাইল ছবি-এএফপি

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করা হিমবাহ ও বরফধসের পেছনে সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এরই মধ্যে হিমালয়ের পর্বত ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পানিচক্রও ক্রমে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।

গবেষণাটির অন্যতম সহলেখক এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিদ ড. ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, এখানে দুর্যোগের পূর্বপরিস্থিতি তৈরিতে মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে। এ নিয়ে একেবারেই কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্ব আবহাওয়া সংযোগ গবেষণার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগ ছিল একটি ‘সম্মিলিত ঘটনা’, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ পাতলা হয়ে যাওয়া, তুষার গলে যাওয়া এবং আগে থেকেই বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে।

গবেষণার ফল প্রকাশের সময় নেপালের কর্তৃপক্ষ দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করে ৫ হাজার ১৭৯ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ১৫০ জন করেছে। বুধবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা এখনও প্রায় ১ হাজার ৪০০। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস নেপাল-তিব্বতের সীমান্তবর্তী শহর ও গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে হাজার হাজার বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয় এবং হাজার হাজার মানুষ মারা যায় বা নিখোঁজ হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেপালের হিমালয় অংশের লাংটাং লিরুং পর্বতের চূড়ার কাছে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ধসে পড়া পাথর ও বরফের বিশাল স্তূপ এত প্রবল শক্তিতে একটি উপত্যকার তলদেশে আঘাত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই আঘাত ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পন সৃষ্টি করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব আবহাওয়া সংযোগ গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ছিল আগে থেকেই বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার ওপর কাজ করা একটি অস্থিতিশীলকারী উপাদান। তবে দুর্যোগের একমাত্র কারণ এটি ছিল না।

এদিকে, ওই অঞ্চলের হিমবাহগুলোও বছরে প্রায় আধা মিটার করে পাতলা হয়ে আসছিল। এর ফলে বিদ্যমান ফাটলগুলো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকার অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। এসব প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাব একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে সম্মিলিত দুর্যোগকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খবর বিবিসির।

বিষয় : নেপাল বন্যা গবেষণা

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


নেপাল-তিব্বতের বন্যার পেছনে জলবায়ু সংকট

প্রকাশের তারিখ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করা হিমবাহ ও বরফধসের পেছনে সম্ভবত জলবায়ু পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এরই মধ্যে হিমালয়ের পর্বত ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে পানিচক্রও ক্রমে অনিয়মিত হয়ে পড়ছে।

গবেষণাটির অন্যতম সহলেখক এবং লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের জলবায়ুবিদ ড. ফ্রিডেরিকে অটো বলেন, এখানে দুর্যোগের পূর্বপরিস্থিতি তৈরিতে মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তন ভূমিকা রেখেছে। এ নিয়ে একেবারেই কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্ব আবহাওয়া সংযোগ গবেষণার ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই দুর্যোগ ছিল একটি ‘সম্মিলিত ঘটনা’, যা তাপমাত্রা বৃদ্ধি, হিমবাহ পাতলা হয়ে যাওয়া, তুষার গলে যাওয়া এবং আগে থেকেই বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার সম্মিলিত প্রভাবে সৃষ্টি হয়েছে।

গবেষণার ফল প্রকাশের সময় নেপালের কর্তৃপক্ষ দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধন করে ৫ হাজার ১৭৯ জন থেকে বাড়িয়ে ৬ হাজার ১৫০ জন করেছে। বুধবার প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা এখনও প্রায় ১ হাজার ৪০০। ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস নেপাল-তিব্বতের সীমান্তবর্তী শহর ও গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে হাজার হাজার বাড়িঘর নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস হয় এবং হাজার হাজার মানুষ মারা যায় বা নিখোঁজ হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, নেপালের হিমালয় অংশের লাংটাং লিরুং পর্বতের চূড়ার কাছে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার কারণে এই বন্যার সৃষ্টি হয়েছিল। ধসে পড়া পাথর ও বরফের বিশাল স্তূপ এত প্রবল শক্তিতে একটি উপত্যকার তলদেশে আঘাত করে যে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ওই আঘাত ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের মতো কম্পন সৃষ্টি করে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বিশ্ব আবহাওয়া সংযোগ গবেষণায় বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন ছিল আগে থেকেই বিদ্যমান ভূতাত্ত্বিক দুর্বলতার ওপর কাজ করা একটি অস্থিতিশীলকারী উপাদান। তবে দুর্যোগের একমাত্র কারণ এটি ছিল না।

এদিকে, ওই অঞ্চলের হিমবাহগুলোও বছরে প্রায় আধা মিটার করে পাতলা হয়ে আসছিল। এর ফলে বিদ্যমান ফাটলগুলো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং পাহাড়ি এলাকার অস্থিতিশীলতা বাড়তে পারে। এসব প্রক্রিয়ার সম্মিলিত প্রভাব একে অপরের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করে সম্মিলিত দুর্যোগকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খবর বিবিসির।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ