পরিবেশ কন্ঠ

না ফেরার দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা ফুলমতি রানী


প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

না ফেরার দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা ফুলমতি রানী
বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি

দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রতীক্ষার পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতি রানী না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৮৪ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দুই বছর আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এই মহিয়সী নারী। শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ফুলমতি। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর অবজ্ঞা ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। জীবনভর দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা ফুলমতি সরকারি খাসজমিতে জীর্ণ কুটিরে বসবাস করতেন। তার ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত আত্মমর্যাদা ও সাহসের সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন তিনি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী জানান, মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘকাল স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা এই বীরাঙ্গনা কখনো কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। তার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন এবং তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যথাযথ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ফুলমতির এই সংগ্রামী জীবন ও ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের কাছে তার আত্মত্যাগের কাহিনী পৌঁছে দিতে সমাধিস্তলে যেন স্মৃতিফলক বা স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। ৪ ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যাওয়া এই বীরাঙ্গনা বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে। তার প্রয়াণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক অকুতোভয় সাক্ষী হারাল, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


না ফেরার দেশে মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা ফুলমতি রানী

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছরের প্রতীক্ষার পর রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়া গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা ফুলমতি রানী না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন।

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মুক্তিযুদ্ধের বীরাঙ্গনা রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৮৪ বছর বয়সে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। দুই বছর আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন এই মহিয়সী নারী। শুক্রবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও পারিবারিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ফুলমতি। দীর্ঘ পঁয়তাল্লিশ বছর অবজ্ঞা ও বঞ্চনার শিকার হওয়ার পর ২০১৬ সালের মার্চ মাসে তিনি বীরাঙ্গনা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি লাভ করেন। জীবনভর দারিদ্র্যের সাথে লড়াই করা ফুলমতি সরকারি খাসজমিতে জীর্ণ কুটিরে বসবাস করতেন। তার ছেলে মনিরাজ কুমার জানান, শেষ দিন পর্যন্ত অত্যন্ত আত্মমর্যাদা ও সাহসের সাথে জীবন অতিবাহিত করেছেন তিনি।

সাদুল্লাপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রশিদ আজমী জানান, মুক্তিযুদ্ধে ফুলমতির ত্যাগ ও নির্যাতনের ইতিহাস অত্যন্ত বেদনাদায়ক। দীর্ঘকাল স্বীকৃতির অপেক্ষায় থাকা এই বীরাঙ্গনা কখনো কারও কাছে সাহায্যের জন্য হাত পাতেননি। তার প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছেন এবং তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ যথাযথ সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ফুলমতির এই সংগ্রামী জীবন ও ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নতুন প্রজন্মের কাছে তার আত্মত্যাগের কাহিনী পৌঁছে দিতে সমাধিস্তলে যেন স্মৃতিফলক বা স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। ৪ ছেলে, এক মেয়ে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে যাওয়া এই বীরাঙ্গনা বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের ইতিহাসে। তার প্রয়াণে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস এক অকুতোভয় সাক্ষী হারাল, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ