দ্রুততম সময়ে ই-ভিসা চালু ও দালালচক্র নির্মূলের অঙ্গীকার; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক খাতেও বাড়ছে সহযোগিতার পরিধি।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং নাগরিক সেবা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছান। রাষ্ট্রদূত জানান, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করবে। পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই উদ্যোগ এক বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বৈপ্লবিক পরিকল্পনাগুলো বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় শিখন পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিশেষ অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে। এছাড়াও তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। থাই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এই উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ড বরাবরই জনপ্রিয় গন্তব্য। পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা এবং সেবার মানোন্নয়নে থাই সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য থাইল্যান্ডের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। বৈঠকে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়। থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেন। এছাড়াও থাইল্যান্ডে বৈধ পথে কর্মী অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ নিয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ উৎসব ও উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
দ্রুততম সময়ে ই-ভিসা চালু ও দালালচক্র নির্মূলের অঙ্গীকার; শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক খাতেও বাড়ছে সহযোগিতার পরিধি।
বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। সোমবার (৩ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশে নিযুক্ত থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত থিতিপর্ন চিরাসাওয়াদি। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করা এবং নাগরিক সেবা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ। দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য রুখতে সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে থাইল্যান্ডের ভিসা নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছান। রাষ্ট্রদূত জানান, খুব শীঘ্রই বাংলাদেশে ই-ভিসা (e-Visa) ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুততর করবে। পর্যটক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য এই উদ্যোগ এক বড় মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শিক্ষা খাতের আধুনিকায়নে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া বৈপ্লবিক পরিকল্পনাগুলো বৈঠকে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। তিনি জানান, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় আনন্দময় শিখন পদ্ধতি এবং পাঠ্যক্রমে ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিশেষ অন্তর্ভুক্তি করা হচ্ছে। এছাড়াও তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। থাই রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের এই উদ্যোগগুলোর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং কারিগরি সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পর্যটন ও স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য থাইল্যান্ড বরাবরই জনপ্রিয় গন্তব্য। পর্যটকদের নিরবচ্ছিন্ন নিরাপত্তা এবং সেবার মানোন্নয়নে থাই সরকার বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য থাইল্যান্ডের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও কার্যকর করতে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন তিনি। পাশাপাশি, দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়া হয়।
বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে। বৈঠকে সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের বিষয়ে আলোচনা হয়। থাইল্যান্ডের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে কাজ করছে বলে রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেন। এছাড়াও থাইল্যান্ডে বৈধ পথে কর্মী অভিবাসনের সুযোগ বৃদ্ধি এবং শ্রমবাজারের সম্প্রসারণ নিয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। ২০২৭ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে যৌথ উৎসব ও উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমে এই সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা হয়।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন