পরিবেশ কণ্ঠ

পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় কাউন্সিলিং সভা অনুষ্ঠিত



পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় কাউন্সিলিং সভা অনুষ্ঠিত
ছবি: পরিবেশ কন্ঠ

রংপুরে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির বিভাগীয় কাউন্সিলিং সভা দিনব্যাপী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সোসাইটির কো-অর্ডিনেটর অফিস কক্ষে আয়োজিত এ সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ সুরক্ষা, নদী রক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সভা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী।


সভায় ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধাসহ মোট ৮টি জেলার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আলোচনা, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে সভাটি এক প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ পরিণতি পায়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজ নিজ জেলার পরিবেশগত সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন, যা সম্মিলিতভাবে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক মোঃ সফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মীযানুর রহমান-এর সঞ্চালনায় সভাটি শুরু হয়। শুরুতেই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ একটি সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, নদী দখল, বন উজাড়সহ বিভিন্ন সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে, যা মানবজীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সভাপতির বক্তব্যে মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমরা যদি আজ সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বিপর্যস্ত পৃথিবী উপহার দিতে হবে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা একটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি।”

মহাসচিব মীযানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের সংগঠন শুধু আলোচনা বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। আমরা বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। প্রতিটি জেলা কমিটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরিচালক মোঃ ইয়ামিন ভুইয়া বলেন, “পরিবেশ রক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমাদের ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করতে হবে।” চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “আমাদের প্রতিটি উদ্যোগ হতে হবে বাস্তবমুখী। শুধু সভা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।” সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম বলেন, “তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবো না। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”

রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মোঃ উম্মেদ হাসান বলেন, “আমরা চাই রংপুর বিভাগকে একটি পরিবেশবান্ধব অঞ্চলে পরিণত করতে। এজন্য প্রতিটি জেলা কমিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।” সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বলেন, “আজকের এই সভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সবাই মিলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।”

সভা শেষে রংপুর জেলার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নদীর বর্তমান পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তা সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নদীর পানির গুণগত মান বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূষণের প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এটি পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বাস্তবভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ শাহিন আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এ্যাড. মোঃ মনিরুজ্জামান। নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ শাহিন আলম বলেন, “এই দায়িত্ব আমার জন্য গর্বের হলেও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে।” সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দল গড়ে তুলতে চাই, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক মোঃ ইয়ামিন ভুইয়া, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম, সোনারগাঁ কমিটির সভাপতি ফজলুল হক ভূইয়া, সিনিয়র সভাপতি মোঃ মোছলে উদ্দিন, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই পৃথিবী শুধু আমাদের জন্য নয়, এটি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্যও। আমরা যদি আজ দায়িত্বশীল না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।”

সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক সদস্য বলেন, এই ধরনের আয়োজন তাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় জুগিয়েছে। তারা মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

সার্বিকভাবে, রংপুর বিভাগীয় এই কাউন্সিলিং সভা পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সেই পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।

বিষয় : পরিবেশ সোসাইটি

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬


পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির রংপুর বিভাগীয় কাউন্সিলিং সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রংপুরে পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির বিভাগীয় কাউন্সিলিং সভা দিনব্যাপী আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল ২০২৬) সোসাইটির কো-অর্ডিনেটর অফিস কক্ষে আয়োজিত এ সভায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলার নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ সুরক্ষা, নদী রক্ষা, দূষণ প্রতিরোধ এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে এই সভা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সময়োপযোগী।



সভায় ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, গাইবান্ধাসহ মোট ৮টি জেলার কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দিনব্যাপী আলোচনা, মতবিনিময় এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে সভাটি এক প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ পরিণতি পায়। অংশগ্রহণকারীরা তাদের নিজ নিজ জেলার পরিবেশগত সমস্যা, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার দিকগুলো তুলে ধরেন, যা সম্মিলিতভাবে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।


পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক মোঃ সফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মীযানুর রহমান-এর সঞ্চালনায় সভাটি শুরু হয়। শুরুতেই পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সময়ে পরিবেশ একটি সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, নদী দখল, বন উজাড়সহ বিভিন্ন সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে, যা মানবজীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।


সভাপতির বক্তব্যে মোঃ সফিকুল ইসলাম বলেন, “পরিবেশ রক্ষা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। আমরা যদি আজ সচেতন না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি বিপর্যস্ত পৃথিবী উপহার দিতে হবে। তাই প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “শুধু সরকার নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা একটি টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি।”


মহাসচিব মীযানুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের সংগঠন শুধু আলোচনা বা পরিকল্পনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। আমরা বাস্তব কাজের মাধ্যমে মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চাই। প্রতিটি জেলা কমিটিকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং মাঠ পর্যায়ে কাজের পরিধি বাড়াতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “নদী রক্ষা, বৃক্ষরোপণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা—এসব কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে হলে আমাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”


সভায় উপস্থিত অন্যান্য নেতৃবৃন্দও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। পরিচালক মোঃ ইয়ামিন ভুইয়া বলেন, “পরিবেশ রক্ষা একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমাদের ধৈর্য, নিষ্ঠা এবং পরিকল্পনার সঙ্গে কাজ করতে হবে।” চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, “আমাদের প্রতিটি উদ্যোগ হতে হবে বাস্তবমুখী। শুধু সভা করলেই হবে না, মাঠ পর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে হবে।” সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম বলেন, “তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করা ছাড়া আমরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবো না। তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।”


রংপুর বিভাগীয় সভাপতি মোঃ উম্মেদ হাসান বলেন, “আমরা চাই রংপুর বিভাগকে একটি পরিবেশবান্ধব অঞ্চলে পরিণত করতে। এজন্য প্রতিটি জেলা কমিটিকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং স্থানীয় সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।” সাধারণ সম্পাদক মমিনুর রহমান বলেন, “আজকের এই সভা আমাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে। আমরা সবাই মিলে একটি সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এগিয়ে যেতে চাই।”


সভা শেষে রংপুর জেলার ১২টি গুরুত্বপূর্ণ নদীর বর্তমান পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং তা সোসাইটির কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, নদীর পানির গুণগত মান বিশ্লেষণের মাধ্যমে দূষণের প্রকৃত অবস্থা নির্ণয় করা সম্ভব হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। এটি পরিবেশ সংরক্ষণে একটি বাস্তবভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসিত হয়েছে।


অনুষ্ঠানের শেষপর্বে ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির ৩৫ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন মোঃ শাহিন আলম এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান এ্যাড. মোঃ মনিরুজ্জামান। নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ শাহিন আলম বলেন, “এই দায়িত্ব আমার জন্য গর্বের হলেও এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে।” সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মোঃ মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা একটি শক্তিশালী ও কার্যকর দল গড়ে তুলতে চাই, যারা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করবে।”


সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক মোঃ ইয়ামিন ভুইয়া, চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসাইন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ আব্দুল করিম, সোনারগাঁ কমিটির সভাপতি ফজলুল হক ভূইয়া, সিনিয়র সভাপতি মোঃ মোছলে উদ্দিন, সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম আমিন, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রফিকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল পরিবেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা, দায়বদ্ধতা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যয়। বক্তারা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “এই পৃথিবী শুধু আমাদের জন্য নয়, এটি আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্যও। আমরা যদি আজ দায়িত্বশীল না হই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।”


সভায় অংশগ্রহণকারী একাধিক সদস্য বলেন, এই ধরনের আয়োজন তাদের নতুন করে অনুপ্রাণিত করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় জুগিয়েছে। তারা মনে করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং কার্যকর পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।


সার্বিকভাবে, রংপুর বিভাগীয় এই কাউন্সিলিং সভা পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের পরিবেশ সুরক্ষায় তা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন প্রয়োজন সেই পরিকল্পনাগুলোকে বাস্তবে রূপ দেওয়া এবং একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়া।


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ