কেরানীগঞ্জে একটি পোশাক কারখানাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা সামনে এসেছে। ‘নবীন ফ্যাশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছে, স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই দাবিতে রাজি না হওয়ায় কারখানায় হামলা, লুটপাটের চেষ্টা এবং এক সুপারভাইজারকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে ফ্যাক্টরিটি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং পূর্বে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাঁদা দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৩ লাখ টাকা দাবি করা হলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া, কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুরু হয়।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার শাহ আলমকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের হত্যা ও ফ্যাক্টরিতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে আতঙ্কে অনেক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
গত ২৫ মার্চ সকালে কারখানায় লুটপাটের চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় একজন চীনা প্রকৌশলী উপস্থিত থাকায় এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হওয়ায় অভিযুক্তরা সরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। গত কয়েক দিনে পুলিশি সহায়তা পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রায় ৯০ জন কর্মচারী থাকা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “কোম্পানির অর্থের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ
বিষয় : কেরানীগঞ্জ চাঁদাবাজি নবীন ফ্যাশন

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
কেরানীগঞ্জে একটি পোশাক কারখানাকে কেন্দ্র করে চাঁদা দাবির অভিযোগ, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা সামনে এসেছে। ‘নবীন ফ্যাশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পোস্টে দাবি করেছে, স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এই দাবিতে রাজি না হওয়ায় কারখানায় হামলা, লুটপাটের চেষ্টা এবং এক সুপারভাইজারকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, গত প্রায় আড়াই বছর ধরে ফ্যাক্টরিটি নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছিল এবং পূর্বে বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চাঁদা দিয়ে কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে চাঁদার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৩ লাখ টাকা দাবি করা হলে তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। এরপর থেকেই কর্মচারীদের হুমকি দেওয়া, কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুরু হয়।
ফেসবুক পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়, ফ্যাক্টরির সুপারভাইজার শাহ আলমকে তুলে নিয়ে মারধর করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্মচারীদের হত্যা ও ফ্যাক্টরিতে আগুন দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়েছে। এতে আতঙ্কে অনেক কর্মচারী চাকরি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
গত ২৫ মার্চ সকালে কারখানায় লুটপাটের চেষ্টা চালানো হয় বলেও অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সে সময় একজন চীনা প্রকৌশলী উপস্থিত থাকায় এবং ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হওয়ায় অভিযুক্তরা সরে যেতে বাধ্য হয় বলে জানানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাফেজ এনামুল হাসান নবীন বিদেশে অবস্থান করছেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করা হয়। গত কয়েক দিনে পুলিশি সহায়তা পাওয়া গেলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ।
বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে প্রায় ৯০ জন কর্মচারী থাকা প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, “কোম্পানির অর্থের চেয়ে মানুষের জীবন অনেক বেশি মূল্যবান।”
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলেও তাৎক্ষণিক সমাধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরি-কণ্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন