পরিবেশ কন্ঠ

জরিমানা নয়, বরং আচরণগত পরিবর্তনই সমাধান

শব্দদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন



শব্দদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন
রাজধানীর বিজয় সরণি মোড়ে গতকাল বুধবার জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিন ভয়েস। প্ল্যাকার্ড হাতে সংগঠনের কর্মীরা

শব্দদূষণ রুখতে শাস্তির আগে সচেতনতা: রাজপথে সরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও শিক্ষার্থীরা

জরিমানা নয়, বরং আচরণগত পরিবর্তনই সমাধান; রাজধানীর বিজয় সরণিতে ক্যাম্পেইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

রাজধানীর ব্যস্ততম রাজপথগুলোতে প্রতিনিয়ত হর্নের তীব্র শব্দে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনে। এই অসহনীয় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা জরিমানার পথে হাঁটার আগে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টানা দশ দিনের এক বিশেষ প্রচারভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার ছিল এই কর্মসূচির অষ্টম দিন, যেখানে বিজয় সরণি মোড়ে এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য এবং স্কুল-কলেজের একঝাঁক উদ্যমী শিক্ষার্থী। পরিবেশ অধিদপ্তরের 'শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প' এবং পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রিন ভয়েস'-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রচারণাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা যানবাহনের চালক ও পথচারীদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দিচ্ছেন এবং হর্ন না বাজানোর অনুরোধ সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছেন।

বিজয় সরণি মোড়ে ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, 'আমাদের হাতে আইন প্রয়োগ ও জরিমানার ক্ষমতা থাকলেও, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কেবল শাস্তির ভয় দেখিয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। শব্দদূষণ কমাতে হলে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন এবং দায়িত্বশীলতা সবচেয়ে জরুরি। চালকরা যদি নিজে থেকে সংযত হন, তবেই ঢাকা শহরকে আমরা বাসযোগ্য করতে পারব।'

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী পুলিশকে এখন সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তবে অধিদপ্তর শুরুতেই কঠোর অবস্থানে না গিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে কেবল শ্রবণশক্তিই নষ্ট হয় না, বরং উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা এমনকি হৃদরোগের মতো জটিল শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন পরিবেশ অধিদপ্তরের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতনের মতো আবাসিক এলাকাগুলোকে 'নীরব এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও সচিবালয়, আগারগাঁও এবং বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শব্দদূষণ মুক্ত পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : জরিমানা

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শনিবার, ১৬ মে ২০২৬


শব্দদূষণ রোধে পরিবেশ অধিদপ্তরের জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

শব্দদূষণ রুখতে শাস্তির আগে সচেতনতা: রাজপথে সরব পরিবেশ অধিদপ্তর ও শিক্ষার্থীরা

জরিমানা নয়, বরং আচরণগত পরিবর্তনই সমাধান; রাজধানীর বিজয় সরণিতে ক্যাম্পেইনে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা

রাজধানীর ব্যস্ততম রাজপথগুলোতে প্রতিনিয়ত হর্নের তীব্র শব্দে নাভিশ্বাস উঠছে জনজীবনে। এই অসহনীয় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনি পদক্ষেপ বা জরিমানার পথে হাঁটার আগে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে টানা দশ দিনের এক বিশেষ প্রচারভিযান শুরু হয়েছে। গতকাল বুধবার ছিল এই কর্মসূচির অষ্টম দিন, যেখানে বিজয় সরণি মোড়ে এক বর্ণাঢ্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের এই উদ্যোগের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে মাঠে নেমেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদস্য এবং স্কুল-কলেজের একঝাঁক উদ্যমী শিক্ষার্থী। পরিবেশ অধিদপ্তরের 'শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প' এবং পরিবেশবাদী সংগঠন 'গ্রিন ভয়েস'-এর যৌথ ব্যবস্থাপনায় এই কর্মসূচিটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রচারণাকালে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা যানবাহনের চালক ও পথচারীদের হাতে সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দিচ্ছেন এবং হর্ন না বাজানোর অনুরোধ সম্বলিত স্টিকার লাগিয়ে দিচ্ছেন।

বিজয় সরণি মোড়ে ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান বলেন, 'আমাদের হাতে আইন প্রয়োগ ও জরিমানার ক্ষমতা থাকলেও, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। কেবল শাস্তির ভয় দেখিয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। শব্দদূষণ কমাতে হলে নাগরিকদের আচরণগত পরিবর্তন এবং দায়িত্বশীলতা সবচেয়ে জরুরি। চালকরা যদি নিজে থেকে সংযত হন, তবেই ঢাকা শহরকে আমরা বাসযোগ্য করতে পারব।'

মহাপরিচালক আরও উল্লেখ করেন যে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী পুলিশকে এখন সরাসরি জরিমানা করার ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। তবে অধিদপ্তর শুরুতেই কঠোর অবস্থানে না গিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির ওপর প্রাধান্য দিচ্ছে। বর্তমানে রাজধানীর প্রায় সব এলাকাতেই শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেল ছাড়িয়ে যাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক ভয়াবহ সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় উচ্চ শব্দের মধ্যে থাকলে কেবল শ্রবণশক্তিই নষ্ট হয় না, বরং উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রা, মানসিক অস্থিরতা এমনকি হৃদরোগের মতো জটিল শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ক্যাম্পেইন চলাকালীন পরিবেশ অধিদপ্তরের ট্রেনিং অ্যান্ড ক্যাম্পেইন স্পেশালিস্ট গাজী মহিবুর রহমান জানান, ইতোমধ্যে গুলশান, বনানী, বারিধারা এবং নিকেতনের মতো আবাসিক এলাকাগুলোকে 'নীরব এলাকা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়াও সচিবালয়, আগারগাঁও এবং বিমানবন্দর এলাকাকে শব্দদূষণমুক্ত রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও সচেতনতা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শব্দদূষণ মুক্ত পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ