পরিবেশ কন্ঠ

তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ


প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ
সংগৃহীত

সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আট বছর পর সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল পিবিআই।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বড় ধরনের মোড় এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। অভিযুক্তরা হলেন—সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) এবং সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) মাধ্যমে এই আবেদন করা হলে ইন্টারপোল তা গ্রহণ করে এবং ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যাতে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার চেয়ে আন্দোলনের ঝড় ওঠে। তনুর বাবা ইয়ার আহম্মেদ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তবে দীর্ঘ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি) মামলার তদন্ত করলেও কোনো কার্যকর কূলকিনারা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়।

পিবিআই তদন্তের দায়িত্বে আসার পর এই মামলার গতি বৃদ্ধি পায়। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৬ এপ্রিল জাহিদুজ্জামান, শাহীন আলম এবং হাফিজুর রহমান নামের তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে দেশত্যাগ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুন মাসে কুমিল্লার একটি আদালত এই দুজনকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনেই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে জাহিদুজ্জামানের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এবং শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। মামলার অন্য এক সন্দেহভাজন হাফিজুর রহমানকে গত ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তনুর পরিবার ও সুশীল সমাজ আশা করছে, ইন্টারপোলের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পলাতক দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


তনু হত্যা মামলা: দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

প্রকাশের তারিখ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ আট বছর পর সন্দেহভাজন দুই আসামিকে গ্রেফতারে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল পিবিআই।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের মেধাবী শিক্ষার্থী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বড় ধরনের মোড় এসেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সন্দেহভাজন সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোল রেড নোটিশ জারি করেছে। অভিযুক্তরা হলেন—সাবেক সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) এবং সাবেক সৈনিক মো. শাহীন আলম (৩৭)।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি-ঢাকা) মাধ্যমে এই আবেদন করা হলে ইন্টারপোল তা গ্রহণ করে এবং ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। গত বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খন্দকার রফিকুল ইসলাম এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযুক্ত জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। বিষয়টি ইতোমধ্যেই সৌদি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে যাতে তাদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।

২০১৬ সালের ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা ময়নামতি সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন তনু। পরে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের পাশের একটি ঝোপঝাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও বিচার চেয়ে আন্দোলনের ঝড় ওঠে। তনুর বাবা ইয়ার আহম্মেদ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। তবে দীর্ঘ সময় পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (সিআইডি) মামলার তদন্ত করলেও কোনো কার্যকর কূলকিনারা করতে পারেনি। পরবর্তীতে ২০২০ সালে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই-এর হাতে ন্যস্ত করা হয়।

পিবিআই তদন্তের দায়িত্বে আসার পর এই মামলার গতি বৃদ্ধি পায়। তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম চলতি বছরের ৬ এপ্রিল জাহিদুজ্জামান, শাহীন আলম এবং হাফিজুর রহমান নামের তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ প্রোফাইল মেলানোর জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন। এর পর থেকেই অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেন এবং একপর্যায়ে দেশত্যাগ করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত জুন মাসে কুমিল্লার একটি আদালত এই দুজনকে গ্রেফতারে ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলম দুজনেই কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। তাদের মধ্যে জাহিদুজ্জামানের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে এবং শাহীন আলমের বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায়। মামলার অন্য এক সন্দেহভাজন হাফিজুর রহমানকে গত ৮ আগস্ট ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে পিবিআই। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তনুর পরিবার ও সুশীল সমাজ আশা করছে, ইন্টারপোলের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পলাতক দুই আসামিকে দেশে ফিরিয়ে এনে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বিচারের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ