পরিবেশ কন্ঠ

মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী


প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী
সংগৃহীত

কিশোরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বড় ঘোষণা; বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও দিলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

মাদকাসক্তি এবং এর অবৈধ কারবার রুখতে দেশের বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, কেবল মাদক বহনকারীদের আটক করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এর মূল উৎপাটন করতে পাচারের পথগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা অপরিহার্য। সোমবার কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের যে পথগুলো রয়েছে, সেখানে বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি দ্বিগুণ করা হবে। তিনি মনে করেন, মাদকের উৎস মুখ বন্ধ করতে না পারলে দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে সীমান্ত চেকপোস্টগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়া অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খুব সহজেই আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসছে। কারামুক্ত হওয়ার পর তারা পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চক্র ভাঙতে সরকার প্রচলিত আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করছে, যাতে গুরুতর মাদক অপরাধীরা সহজে জামিন না পায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোকে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান মাত্র ছয় মাসে করা অসম্ভব হলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


মাদক নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কিশোরগঞ্জে আইন-শৃঙ্খলা সভায় তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর বড় ঘোষণা; বিদ্যুৎ সংকট নিয়েও দিলেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

মাদকাসক্তি এবং এর অবৈধ কারবার রুখতে দেশের বিদ্যমান আইনকে আরও শক্তিশালী ও সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী জানিয়েছেন, কেবল মাদক বহনকারীদের আটক করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং এর মূল উৎপাটন করতে পাচারের পথগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা অপরিহার্য। সোমবার কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত জেলা আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত এক বিশেষ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা উল্লেখ করে বলেন, সীমান্ত এলাকা দিয়ে দেশে মাদক প্রবেশের যে পথগুলো রয়েছে, সেখানে বিজিবিসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি দ্বিগুণ করা হবে। তিনি মনে করেন, মাদকের উৎস মুখ বন্ধ করতে না পারলে দেশের তরুণ সমাজকে রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে। বিশেষ করে সীমান্ত চেকপোস্টগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে তল্লাশি কার্যক্রম আরও জোরদার করার তাগিদ দেন তিনি।

আইনগত সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বর্তমানে মাদক মামলায় গ্রেফতার হওয়া অপরাধীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে খুব সহজেই আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসছে। কারামুক্ত হওয়ার পর তারা পুনরায় একই অপরাধে লিপ্ত হচ্ছে, যা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চক্র ভাঙতে সরকার প্রচলিত আইন সংশোধনের পরিকল্পনা করছে, যাতে গুরুতর মাদক অপরাধীরা সহজে জামিন না পায় এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।

সভার দ্বিতীয় পর্যায়ে দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৭ বছরে বিদ্যুৎ খাতের অবকাঠামোকে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থায় রেখে গেছে। এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সমাধান মাত্র ছয় মাসে করা অসম্ভব হলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। দ্রুতই এই সংকট কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম এবং বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাসহ স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা। সভায় বক্তারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ