গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পুরোনো আইনেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। বর্তমান সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন না আসায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো অপরিবর্তিত থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব জুলাই সনদে থাকলেও সংবিধান সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত তা আইনি ভিত্তি পাচ্ছে না। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে বর্তমান প্রথা অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় এই সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। তবে জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোপন ব্যালট ব্যবহারের প্রস্তাব থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে সইয়ের মাধ্যমেই ভোট দিতে হবে, যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়িয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক এখতিয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং প্রেস কাউন্সিলের মতো প্রতিষ্ঠান। তবে বিএনপি এই প্রস্তাবের কিছু অংশে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমত পোষণ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে রাখার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটি। সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির হাতে থাকায় সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াটি তাদের ইচ্ছার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আপাতত অনিশ্চিত।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দল একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করলেও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট তাতে অংশ নেয়নি। বিরোধী পক্ষ সংবিধান সংশোধন নয়, বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে সরাসরি সংস্কার চায়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন শিগগিরই স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে বিরোধী জোট থেকে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, দেশের সর্বোচ্চ পদের জন্য নির্বাচনটি পুরোনো কাঠামোতেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। জুলাই সনদের বৈপ্লবিক প্রস্তাবনাগুলো আইনি রূপ পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নতুন যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন, তিনি ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন সুযোগগুলো এখনই পাচ্ছেন না।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬
গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদিত হলেও দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পুরোনো আইনেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। বর্তমান সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন না আসায় এবং সংশ্লিষ্ট আইনগুলো অপরিবর্তিত থাকায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রচলিত পদ্ধতিই অনুসরণ করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রস্তাব জুলাই সনদে থাকলেও সংবিধান সংশোধিত না হওয়া পর্যন্ত তা আইনি ভিত্তি পাচ্ছে না। ফলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে বর্তমান প্রথা অনুযায়ীই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করায় এই সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে। তবে জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে গোপন ব্যালট ব্যবহারের প্রস্তাব থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্যে সইয়ের মাধ্যমেই ভোট দিতে হবে, যদি একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়িয়ে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের একক এখতিয়ার দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন এবং প্রেস কাউন্সিলের মতো প্রতিষ্ঠান। তবে বিএনপি এই প্রস্তাবের কিছু অংশে 'নোট অব ডিসেন্ট' বা ভিন্নমত পোষণ করেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর এবং এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে রাখার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটি। সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির হাতে থাকায় সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়াটি তাদের ইচ্ছার ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি আপাতত অনিশ্চিত।
এদিকে সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকারি দল একটি সংসদীয় কমিটি গঠন করলেও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট তাতে অংশ নেয়নি। বিরোধী পক্ষ সংবিধান সংশোধন নয়, বরং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের মাধ্যমে সরাসরি সংস্কার চায়। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন শিগগিরই স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করবে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, বর্তমান সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা প্রায় নিশ্চিত। ফলে বিরোধী জোট থেকে প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ বলে মনে করা হচ্ছে।
সার্বিক পরিস্থিতিতে এটি স্পষ্ট যে, দেশের সর্বোচ্চ পদের জন্য নির্বাচনটি পুরোনো কাঠামোতেই সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। জুলাই সনদের বৈপ্লবিক প্রস্তাবনাগুলো আইনি রূপ পেতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে নতুন যিনি রাষ্ট্রপতি হবেন, তিনি ক্ষমতার ভারসাম্যের নতুন সুযোগগুলো এখনই পাচ্ছেন না।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন