পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বিড়ম্বনার চিত্র; দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ছোটখাটো ভুল যেন নাগরিকদের জন্য এক বিশাল বিড়ম্বনার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে ভুল সংশোধনের লক্ষ্যে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ধরনা দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন দপ্তরে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ উপজেলা, জেলা কিংবা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের বারান্দায় ঘুরছেন একটি ত্রুটিমুক্ত এনআইডির আশায়।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট আবেদন জমা পড়েছে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার এবং প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি নাগরিক সংশোধনের আবেদন করছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে কখনো করণিক ভুল, আবার কখনো সচেতনতার অভাব। যদিও ইসি দাবি করছে, মোট আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ বা ৬২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আবেদন তারা নিষ্পত্তি করেছে, তবুও মাঠপর্যায়ে ভোগান্তির অভিযোগ কমেনি।
ফরিদপুরের মহসীন আলীর মতো অনেক নাগরিকের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। মায়ের নাম সংশোধনের জন্য দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি উপজেলা ও কেন্দ্রীয় অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনের জটিলতা বিবেচনায় একে ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে (ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ) ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ বানান ভুলের মতো সহজ বিষয়গুলো মাঠপর্যায়ে উপজেলা অফিসেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তবে জন্মতারিখ বা আমূল নাম পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়গুলো সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত। এই ক্যাটাগরি বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য কাজের গতি বাড়ানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করায় প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা হয়। ফলে কিছুটা সময় লাগলেও তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও তথ্যের নির্ভুলতা রক্ষায় জরুরি। তবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অনলাইন সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হলে এই দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ৮৩ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় এনআইডি এখন প্রতিটি নাগরিকের জীবনের অপরিহার্য দলিল। তাই পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬
পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধন নিয়ে নাগরিকদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও বিড়ম্বনার চিত্র; দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ছোটখাটো ভুল যেন নাগরিকদের জন্য এক বিশাল বিড়ম্বনার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করতে গিয়ে ভুল সংশোধনের লক্ষ্যে প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষকে ধরনা দিতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিভিন্ন দপ্তরে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ উপজেলা, জেলা কিংবা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের বারান্দায় ঘুরছেন একটি ত্রুটিমুক্ত এনআইডির আশায়।
নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২০ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত অর্থাৎ গত সাড়ে ছয় বছরে এনআইডি সংশোধনের জন্য মোট আবেদন জমা পড়েছে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার ৭৩০টি। প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯ লাখ ৭০ হাজার এবং প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজারের বেশি নাগরিক সংশোধনের আবেদন করছেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের পেছনে রয়েছে কখনো করণিক ভুল, আবার কখনো সচেতনতার অভাব। যদিও ইসি দাবি করছে, মোট আবেদনের প্রায় ৯৮ শতাংশ বা ৬২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি আবেদন তারা নিষ্পত্তি করেছে, তবুও মাঠপর্যায়ে ভোগান্তির অভিযোগ কমেনি।
ফরিদপুরের মহসীন আলীর মতো অনেক নাগরিকের অভিজ্ঞতা বেশ তিক্ত। মায়ের নাম সংশোধনের জন্য দীর্ঘ এক বছর ধরে তিনি উপজেলা ও কেন্দ্রীয় অফিসের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আবেদনের জটিলতা বিবেচনায় একে ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে (ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ) ভাগ করা হয়েছে। সাধারণ বানান ভুলের মতো সহজ বিষয়গুলো মাঠপর্যায়ে উপজেলা অফিসেই নিষ্পত্তি করা সম্ভব। তবে জন্মতারিখ বা আমূল নাম পরিবর্তনের মতো জটিল বিষয়গুলো সরাসরি এনআইডি মহাপরিচালকের এখতিয়ারভুক্ত। এই ক্যাটাগরি বিভাজনের মূল উদ্দেশ্য কাজের গতি বাড়ানো হলেও অনেক ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, অনেকে অসৎ উদ্দেশ্যে কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে তথ্য সংশোধনের চেষ্টা করায় প্রতিটি আবেদন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই করা হয়। ফলে কিছুটা সময় লাগলেও তা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও তথ্যের নির্ভুলতা রক্ষায় জরুরি। তবে নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে এবং সেবাকে আরও জনবান্ধব করতে ইতোমধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অনলাইন সেবা আরও সম্প্রসারণ করা হলে এই দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে ১২ কোটি ৮৩ লাখেরও বেশি ভোটার রয়েছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রায় এনআইডি এখন প্রতিটি নাগরিকের জীবনের অপরিহার্য দলিল। তাই পরিচয়পত্রের ভুল সংশোধনের প্রক্রিয়াকে আরও সহজতর, স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত করা এখন সময়ের দাবি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন