পরিবেশ কন্ঠ

আরব আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল


প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

আরব আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
সংগৃহীত

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অজুহাতে আমিরাত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ; কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগীরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার। হঠাৎ নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে কেবল প্রবাসীরাই নন, দেশে থাকা তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সম্প্রতি এই সংকটজনক পরিস্থিতির কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিপুল সংখ্যক ভিসা বাতিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে, বাতিলের সংখ্যাটি বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষায় কেন এমন গণ-বাতিল প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ভিসা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্য আমিরাত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, জুলাই মাস থেকেই অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই সংক্রান্ত বার্তা কারও ব্যক্তিগত ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার কারও সংশ্লিষ্ট কফিলের (নিয়োগকর্তা) কাছে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা, যারা ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা এখন আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না, কারণ বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা ভিসা ইনভ্যালিড দেখাচ্ছে। এক প্রবাসী ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই, অথচ কয়েক দশকের সাজানো ব্যবসা ও পরিবার ছেড়ে তিনি এখন দেশে আটকে আছেন। কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে তার সব বিনিয়োগ ও জীবিকা হারানোর উপক্রম হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করতে পারে। সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেগবান করা আবশ্যক। আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এর একটি টেকসই সমাধান বের করতে হবে। অন্যথায় দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সংকুচিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে প্রেরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, যথাযথ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬


আরব আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার অজুহাতে আমিরাত সরকারের কঠোর পদক্ষেপ; কূটনৈতিক সমাধানের প্রত্যাশায় ভুক্তভোগীরা।

সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছেন। চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে শুরু হওয়া এক অনাকাঙ্ক্ষিত প্রক্রিয়ায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল করেছে দেশটির সরকার। হঠাৎ নেওয়া এই কঠোর সিদ্ধান্তের ফলে কেবল প্রবাসীরাই নন, দেশে থাকা তাদের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সম্প্রতি এই সংকটজনক পরিস্থিতির কথা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ মূলত তাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই ভিসা বাতিলের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই বিপুল সংখ্যক ভিসা বাতিলের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে, বাতিলের সংখ্যাটি বর্তমানে ৪ হাজার ৮০০-তে দাঁড়িয়েছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষায় কেন এমন গণ-বাতিল প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, তা জানতে চাওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ভিসা পুনরায় যাচাই-বাছাই করার জন্য আমিরাত সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

ভুক্তভোগী প্রবাসীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, জুলাই মাস থেকেই অনেকের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এই সংক্রান্ত বার্তা কারও ব্যক্তিগত ই-মেইলে, কারও মোবাইলে আবার কারও সংশ্লিষ্ট কফিলের (নিয়োগকর্তা) কাছে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা, যারা ছুটিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তারা এখন আর আমিরাতে ফিরতে পারছেন না, কারণ বিমানবন্দর থেকেই তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বা ভিসা ইনভ্যালিড দেখাচ্ছে। এক প্রবাসী ব্যবসায়ী ক্ষোভের সাথে জানান, তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা অপরাধের রেকর্ড নেই, অথচ কয়েক দশকের সাজানো ব্যবসা ও পরিবার ছেড়ে তিনি এখন দেশে আটকে আছেন। কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে তার সব বিনিয়োগ ও জীবিকা হারানোর উপক্রম হয়েছে।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতির পেছনে কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণও কাজ করতে পারে। সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারপারসন এম এস শেকিল চৌধুরী মনে করেন, সংকট উত্তরণে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেগবান করা আবশ্যক। আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে আলোচনার মাধ্যমে এর একটি টেকসই সমাধান বের করতে হবে। অন্যথায় দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সংকুচিত হওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

এদিকে, যেসব প্রবাসীর ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়েছে, তাদের বিস্তারিত তথ্য আবুধাবিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্ধারিত ই-মেইলে প্রেরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকার আশা করছে, যথাযথ কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের ইতিবাচক সমাধান সম্ভব হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ