পূবাইলে অভিযান চালিয়ে কোকেন ও কুশসহ গ্রেপ্তার চার, টিকিটের মূল্য ছিল ১২ হাজার।
রাজধানীর উপকণ্ঠ গাজীপুরের পূবাইল এলাকার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে আমোদপ্রমোদের আবরণে ভয়ংকর মাদকের কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে ' পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে' পরিচালিত এক যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে চারজন মূল আয়োজককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ' সনিক প্লাস' ব্যানারে আয়োজিত ওই ডিজে অনুষ্ঠানে প্রায় ছয় শতাধিক তরুণ-তরুণী সমবেত হওয়ার কথা ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে উচ্চমূল্যের কোকেন, সিনথেটিক মাদক কুশ এবং বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় বড়ি জব্দ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিবিড় ও গোপনীয় গ্রুপ তৈরি করে কিশোর ও যুবসমাজকে লক্ষ্য করে টিকিট বিক্রি করত। জনপ্রতি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও গাজীপুরের নলজানির ভাওয়াল রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে বিয়ার, ভদকা এবং ক্যানাবিস চকলেটসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বারবার অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোকে এমন অবৈধ বাণিজ্যের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে উচ্চ মুনাফালোভী ও সুসংগঠিত চক্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত পার্টির ছদ্মবেশে সিনথেটিক মাদকের প্রসার ঘটানোই এসব চক্রের মূল কৌশল। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা ফাঁদে আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে শহরতলির রিসোর্টগুলোতে অভিজাত মাদকের এক কৃত্রিম ও মারাত্মক বাজার তৈরি করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে গাজীপুরসহ আশপাশের সকল রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রকে এ ধরনের অবৈধ অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা বরাদ্দ না দিতে লিখিতভাবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী, কক্সবাজার ও ঢাকা সংলগ্ন অন্যান্য এলাকায় সক্রিয় সমজাতীয় চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে জোরদার গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও অভিভাবকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করাও এখন জরুরি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
পূবাইলে অভিযান চালিয়ে কোকেন ও কুশসহ গ্রেপ্তার চার, টিকিটের মূল্য ছিল ১২ হাজার।
রাজধানীর উপকণ্ঠ গাজীপুরের পূবাইল এলাকার একটি বিলাসবহুল রিসোর্টে আমোদপ্রমোদের আবরণে ভয়ংকর মাদকের কারবার চালানোর অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার গভীর রাতে ' পূবাইল রিসোর্ট ক্লাবে' পরিচালিত এক যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে চারজন মূল আয়োজককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ' সনিক প্লাস' ব্যানারে আয়োজিত ওই ডিজে অনুষ্ঠানে প্রায় ছয় শতাধিক তরুণ-তরুণী সমবেত হওয়ার কথা ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে উচ্চমূল্যের কোকেন, সিনথেটিক মাদক কুশ এবং বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় বড়ি জব্দ করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিবিড় ও গোপনীয় গ্রুপ তৈরি করে কিশোর ও যুবসমাজকে লক্ষ্য করে টিকিট বিক্রি করত। জনপ্রতি টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও গাজীপুরের নলজানির ভাওয়াল রিসোর্টে অভিযান চালিয়ে বিয়ার, ভদকা এবং ক্যানাবিস চকলেটসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। বারবার অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোকে এমন অবৈধ বাণিজ্যের নিরাপদ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে উচ্চ মুনাফালোভী ও সুসংগঠিত চক্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা গোয়েন্দা বিভাগের উপপরিচালক মেহেদী হাসান জানান, বিনোদনমূলক সাংস্কৃতিক আয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত পার্টির ছদ্মবেশে সিনথেটিক মাদকের প্রসার ঘটানোই এসব চক্রের মূল কৌশল। অনলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে এই সর্বনাশা ফাঁদে আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেন। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সামাজিক অবক্ষয় ও দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে শহরতলির রিসোর্টগুলোতে অভিজাত মাদকের এক কৃত্রিম ও মারাত্মক বাজার তৈরি করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক পারিবারিক ও সামাজিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইতোমধ্যে গাজীপুরসহ আশপাশের সকল রিসোর্ট ও পর্যটনকেন্দ্রকে এ ধরনের অবৈধ অনুষ্ঠানের জন্য জায়গা বরাদ্দ না দিতে লিখিতভাবে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে। নির্দেশ অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজধানী, কক্সবাজার ও ঢাকা সংলগ্ন অন্যান্য এলাকায় সক্রিয় সমজাতীয় চক্রগুলোকে শনাক্ত করতে জোরদার গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে কেবল প্রশাসনিক অভিযান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও অভিভাবকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করাও এখন জরুরি।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন