পরিবেশ কন্ঠ

করাচী ও লাহোরে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিনিধিদ্বয়কে সংবর্ধনা



করাচী ও লাহোরে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিনিধিদ্বয়কে সংবর্ধনা
করাচী এবং লাহোরে বাংলাদেশের দু'জন মানবাধিকার কর্মীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়

শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো সহিংসতার চক্র ভেঙে মানবিক সহঅস্তিত্বের নতুন সম্ভাবনার নির্মাণ। এই দার্শনিক প্রত্যয়কে ধারণ করে 'চতুর্থ বিশ্ব ভ্রমণ, আমার নগরী-২০২৬' কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে অহিংসার বার্তা—আর সেই বার্তার বাহক হয়ে বাংলাদেশের দুই মানবাধিকার কর্মী পাড়ি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের করাচী ও লাহোরে। সেখানে তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

আন্তঃদেশীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে 'কমিউনিটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট' বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তালুকদার পাশা এবং লালমনিরহাট বার্তা পত্রিকার সম্পাদক, হিউম্যানিস্ট মুভমেন্ট ও আগারগাঁও নেইবারহুডের কো-অর্ডিনেটর এস.এম শফিকুল ইসলাম কানুর সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল গত ৪ থেকে ১৫ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করেন। সফরকালে তারা 'ফোর্থ ওয়ার্ল্ড মার্চ ফর পিস অ্যান্ড নন-ভায়োলেন্স, ইন মাই সিটি-২০২৬' এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় করাচীর কেএমসি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টার ও সিন্ধু ওয়াকিং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে দুই বাংলাদেশী প্রতিনিধিকে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তান জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও সিন্ধু অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ আলী রাজপুত। স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মাদ আকতার খান।

সভায় বক্তব্য রাখেন পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ আজগর, সিন্ধু টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ খালিদ রহমানী, পাকিস্তান আর্চারি ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মিসেস সানা আলী, সিন্ধু কাবাডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ শাকিল ইলিয়াস, সিন্ধু ওয়াকিং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জুনাইদ আহমেদ খান ও সেক্রেটারি জেনারেল মুতিবা আকতার প্রমুখ।

বক্তারা চতুর্থ বিশ্ব ভ্রমণ ও 'আমার নগরী' কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন—যা বিশ্ব মানবতাবাদী ফোরামের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানে সংগঠনের ভিশন ও মিশন বিস্তার করা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, "আপনাদের এই সংহতি ও অংশগ্রহণকে আমরা হৃদয় থেকে স্বাগত জানাই। ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টার এবং বিশ্ব মানবতাবাদী ফোরামের যৌথ প্রয়াস বিশ্বে মানবতা, শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সংবর্ধনা কেবল দুই ব্যক্তির সম্মাননা নয়—এটি দুই জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার প্রতীকী স্বীকৃতি। বক্তারা ক্রীড়ার মাধ্যমে শান্তি ও অহিংস আন্দোলনের বার্তা বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান—যেখানে ক্রীড়া হয়ে ওঠে মানবিক ঐক্যের ভাষা, যার কোনো সীমান্ত নেই। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদ্বয়কে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়।

এই সফর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও অহিংস আন্দোলনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কারণ, শান্তির পথ কখনো একক যাত্রা নয়—তা সব সময় সহযাত্রার দাবি রাখে; আর সেই সহযাত্রার সন্ধানেই আজ মিলিত হয়েছে দুই দেশের মানবিক প্রতিনিধিরা।

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬


করাচী ও লাহোরে বাংলাদেশের মানবাধিকার প্রতিনিধিদ্বয়কে সংবর্ধনা

প্রকাশের তারিখ : ২৮ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

শান্তি কেবল যুদ্ধের অনুপস্থিতি নয়; শান্তি হলো সহিংসতার চক্র ভেঙে মানবিক সহঅস্তিত্বের নতুন সম্ভাবনার নির্মাণ। এই দার্শনিক প্রত্যয়কে ধারণ করে 'চতুর্থ বিশ্ব ভ্রমণ, আমার নগরী-২০২৬' কর্মসূচি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে অহিংসার বার্তা—আর সেই বার্তার বাহক হয়ে বাংলাদেশের দুই মানবাধিকার কর্মী পাড়ি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের করাচী ও লাহোরে। সেখানে তাঁদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

আন্তঃদেশীয় সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ করতে 'কমিউনিটি ফর হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট' বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি মিজানুর রহমান তালুকদার পাশা এবং লালমনিরহাট বার্তা পত্রিকার সম্পাদক, হিউম্যানিস্ট মুভমেন্ট ও আগারগাঁও নেইবারহুডের কো-অর্ডিনেটর এস.এম শফিকুল ইসলাম কানুর সমন্বয়ে গঠিত দুই সদস্যের প্রতিনিধি দল গত ৪ থেকে ১৫ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করেন। সফরকালে তারা 'ফোর্থ ওয়ার্ল্ড মার্চ ফর পিস অ্যান্ড নন-ভায়োলেন্স, ইন মাই সিটি-২০২৬' এর বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় করাচীর কেএমসি স্পোর্টস কমপ্লেক্সে ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টার ও সিন্ধু ওয়াকিং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে দুই বাংলাদেশী প্রতিনিধিকে এক বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পাকিস্তান জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও সিন্ধু অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ আলী রাজপুত। স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর মুহাম্মাদ আকতার খান।

সভায় বক্তব্য রাখেন পাকিস্তান বক্সিং ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদ আজগর, সিন্ধু টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ খালিদ রহমানী, পাকিস্তান আর্চারি ফেডারেশনের চেয়ারম্যান মিসেস সানা আলী, সিন্ধু কাবাডি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শেখ শাকিল ইলিয়াস, সিন্ধু ওয়াকিং ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জুনাইদ আহমেদ খান ও সেক্রেটারি জেনারেল মুতিবা আকতার প্রমুখ।

বক্তারা চতুর্থ বিশ্ব ভ্রমণ ও 'আমার নগরী' কর্মসূচির মূল লক্ষ্য তুলে ধরেন—যা বিশ্ব মানবতাবাদী ফোরামের আন্তর্জাতিক সমন্বয়কদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং পাকিস্তানে সংগঠনের ভিশন ও মিশন বিস্তার করা। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদের আন্তরিক স্বাগত জানিয়ে বলা হয়, "আপনাদের এই সংহতি ও অংশগ্রহণকে আমরা হৃদয় থেকে স্বাগত জানাই। ওয়ার্ল্ড হিউম্যানিস্ট ফোরাম পাকিস্তান চ্যাপ্টার এবং বিশ্ব মানবতাবাদী ফোরামের যৌথ প্রয়াস বিশ্বে মানবতা, শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা ছড়িয়ে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।"

দার্শনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এই সংবর্ধনা কেবল দুই ব্যক্তির সম্মাননা নয়—এটি দুই জাতির মধ্যে ভ্রাতৃত্বসুলভ সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার প্রতীকী স্বীকৃতি। বক্তারা ক্রীড়ার মাধ্যমে শান্তি ও অহিংস আন্দোলনের বার্তা বিশ্বের বুকে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান—যেখানে ক্রীড়া হয়ে ওঠে মানবিক ঐক্যের ভাষা, যার কোনো সীমান্ত নেই। অনুষ্ঠানের শেষে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদ্বয়কে উত্তরীয় ও ক্রেস্ট প্রদান করে সম্মাননা জানানো হয়।

এই সফর ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এবং বিশ্ব শান্তি ও অহিংস আন্দোলনের লক্ষ্যকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। কারণ, শান্তির পথ কখনো একক যাত্রা নয়—তা সব সময় সহযাত্রার দাবি রাখে; আর সেই সহযাত্রার সন্ধানেই আজ মিলিত হয়েছে দুই দেশের মানবিক প্রতিনিধিরা।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ