শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শাহিনুর নাহার প্রিয়তি; স্থাপত্য আর চিকিৎসার মিশেলে এক অনন্য পরিবারের সফলতার আখ্যান।
সাফল্যের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই, আর সেই পথ যখন ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাড়ি দেওয়া হয়, তখন তার ফলাফল হয় অত্যন্ত মধুর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। এই গ্রামেরই সন্তান পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা শাহিনুর নাহার প্রিয়তি। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে অর্জিত এই কৃতিত্ব কেবল প্রিয়তির একার নয়, বরং এটি একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন।
সন্তানের সাফল্যে বাবা-মায়ের গর্ব করার মুহূর্তগুলো জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই পরিবারটির ক্ষেত্রে সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে, কারণ তাঁদের তিন কন্যাই আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রত্যেকেই। বড় কন্যা পেশাজীবনে একজন সফল স্থপতি হিসেবে কাজ করছেন। মেজ কন্যা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োজিত আছেন। আর সবশেষে প্রিয়তিও বোনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চিকিৎসা পেশার মতো মহান ব্রত বেছে নিয়েছেন।
এই অসামান্য সাফল্যের দিনে পরিবারটির মনে পড়ছে তাঁদের প্রিয় অভিভাবক, প্রয়াত মোহাম্মদ ওসমান গনি (সাবুর ভূঁইয়া)-কে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও দূরদর্শী একজন মানুষ। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করাটাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। আজ প্রিয়তির এই অর্জনের দিনে তাঁর অনুপস্থিতি পরিবারকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, আজ তিনি জীবিত থাকলে তাঁর সবচেয়ে ছোট মেয়ের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন।
প্রিয়তির পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, তিন কন্যার শিক্ষাজীবনের এই বিজয়যাত্রা কেবল তাঁদের মেধার জয় নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত। অত্যন্ত মার্জিত ও মুসলিম পরিবারে তিন কন্যাকেই বিবাহ দিতে পারায় তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রিয়তি যেন ভবিষ্যতে একজন সৎ, দক্ষ এবং মানবিক চিকিৎসক হিসেবে আর্তমানবতার সেবা করতে পারেন, সেজন্য তাঁরা সকলের দোয়া প্রার্থী। একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেটাই এখন পরিবারের মূল প্রার্থনা।
সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের এই পরিবারের গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা এবং মা-বাবার দোয়া ও আশীর্বাদ থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব—প্রিয়তি এবং তাঁর বোনেরা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ। সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি যে শিক্ষা, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই সফলতার মধ্য দিয়ে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শাহিনুর নাহার প্রিয়তি; স্থাপত্য আর চিকিৎসার মিশেলে এক অনন্য পরিবারের সফলতার আখ্যান।
সাফল্যের কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই, আর সেই পথ যখন ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পাড়ি দেওয়া হয়, তখন তার ফলাফল হয় অত্যন্ত মধুর। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এখন বইছে আনন্দের জোয়ার। এই গ্রামেরই সন্তান পরিবারের কনিষ্ঠ কন্যা শাহিনুর নাহার প্রিয়তি। ২০২৬ সালের মে মাসে অনুষ্ঠিত এমবিবিএস চূড়ান্ত পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ থেকে অর্জিত এই কৃতিত্ব কেবল প্রিয়তির একার নয়, বরং এটি একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের প্রতিফলন।
সন্তানের সাফল্যে বাবা-মায়ের গর্ব করার মুহূর্তগুলো জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই পরিবারটির ক্ষেত্রে সেই আনন্দ বহুগুণ বেড়ে গেছে, কারণ তাঁদের তিন কন্যাই আজ সুপ্রতিষ্ঠিত। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন প্রত্যেকেই। বড় কন্যা পেশাজীবনে একজন সফল স্থপতি হিসেবে কাজ করছেন। মেজ কন্যা ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ডিএমসি) থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে বর্তমানে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োজিত আছেন। আর সবশেষে প্রিয়তিও বোনদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে চিকিৎসা পেশার মতো মহান ব্রত বেছে নিয়েছেন।
এই অসামান্য সাফল্যের দিনে পরিবারটির মনে পড়ছে তাঁদের প্রিয় অভিভাবক, প্রয়াত মোহাম্মদ ওসমান গনি (সাবুর ভূঁইয়া)-কে। তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপ্রাণ ও দূরদর্শী একজন মানুষ। সন্তানদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে মানুষের মতো মানুষ করাটাই ছিল তাঁর জীবনের মূল লক্ষ্য। আজ প্রিয়তির এই অর্জনের দিনে তাঁর অনুপস্থিতি পরিবারকে গভীরভাবে আবেগাপ্লুত করেছে। পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, আজ তিনি জীবিত থাকলে তাঁর সবচেয়ে ছোট মেয়ের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন।
প্রিয়তির পরিবার থেকে জানানো হয়েছে, তিন কন্যার শিক্ষাজীবনের এই বিজয়যাত্রা কেবল তাঁদের মেধার জয় নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর বিশেষ রহমত। অত্যন্ত মার্জিত ও মুসলিম পরিবারে তিন কন্যাকেই বিবাহ দিতে পারায় তাঁরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। প্রিয়তি যেন ভবিষ্যতে একজন সৎ, দক্ষ এবং মানবিক চিকিৎসক হিসেবে আর্তমানবতার সেবা করতে পারেন, সেজন্য তাঁরা সকলের দোয়া প্রার্থী। একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেন অসহায় মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়াতে পারেন, সেটাই এখন পরিবারের মূল প্রার্থনা।
সোনারগাঁ পৌরসভার গোয়ালদী গ্রামের এই পরিবারের গল্প নতুন প্রজন্মের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষা এবং মা-বাবার দোয়া ও আশীর্বাদ থাকলে যে কোনো বাধা পেরিয়ে শীর্ষে পৌঁছানো সম্ভব—প্রিয়তি এবং তাঁর বোনেরা যেন তারই জীবন্ত উদাহরণ। সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি যে শিক্ষা, তা আবারও প্রমাণিত হলো এই সফলতার মধ্য দিয়ে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন