পরিবেশ কন্ঠ

সরকারি অফিসে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ


প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

সরকারি অফিসে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ
সংগৃহীত

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি অফিস ও জনসমাগমস্থলগুলোকে ধূমপানমুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি দপ্তরে শতভাগ তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সভায় বিভাগের ১১টি জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। 

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সভায় উপস্থাপিত তথ্যে উঠে এসেছে যে, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হৃদরোগ, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো জটিল অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়টি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশেষত কর্মক্ষেত্র, রেস্টুরেন্ট এবং গণপরিবহনে ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ পরোক্ষভাবে তামাকের ধোঁয়ার শিকার হচ্ছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা বা ‘ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন’ সাধারণ অধূমপায়ীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। তাই সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন অনুযায়ী শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। 

সভায় কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তরে দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ সাইনবোর্ড স্থাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সরকারি কার্যালয়গুলোতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলে তা নাগরিক সেবায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং জনমনে সচেতনতা তৈরি করবে। 

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী এই কঠোর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরোক্ষ ধূমপানের বিষাক্ত ছোবল থেকে নারী ও শিশুদের আগলে রাখাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় এই গুরুত্বপূর্ণ সভায়। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সরকারি অফিসে শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতের উদ্যোগ

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকারি অফিস ও জনসমাগমস্থলগুলোকে ধূমপানমুক্ত করার উদ্যোগ জোরদার করেছে প্রশাসন। সম্প্রতি চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের সকল সরকারি দপ্তরে শতভাগ তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন। সভায় বিভাগের ১১টি জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভিন্ন দপ্তরপ্রধানরা অংশগ্রহণ করেন। 

বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই সিদ্ধান্তকে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সভায় উপস্থাপিত তথ্যে উঠে এসেছে যে, তামাক ব্যবহারের কারণে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ হৃদরোগ, ক্যানসার ও স্ট্রোকের মতো জটিল অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। পরোক্ষ ধূমপানের বিষয়টি বর্তমানে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

বিশেষত কর্মক্ষেত্র, রেস্টুরেন্ট এবং গণপরিবহনে ৪২ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ পরোক্ষভাবে তামাকের ধোঁয়ার শিকার হচ্ছেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, নির্দিষ্ট ধূমপান এলাকা বা ‘ডেজিগনেটেড স্মোকিং জোন’ সাধারণ অধূমপায়ীদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ। তাই সকল সরকারি প্রতিষ্ঠানে আইন অনুযায়ী শতভাগ তামাকমুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। 

সভায় কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি দপ্তরে দৃশ্যমান স্থানে ‘নো স্মোকিং’ সাইনবোর্ড স্থাপন, তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের জন্য ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ এবং নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলেন, সরকারি কার্যালয়গুলোতে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ বজায় থাকলে তা নাগরিক সেবায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং জনমনে সচেতনতা তৈরি করবে। 

তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬ অনুযায়ী এই কঠোর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন করতে স্থানীয় প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদান করবে। স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পরোক্ষ ধূমপানের বিষাক্ত ছোবল থেকে নারী ও শিশুদের আগলে রাখাই এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। যথাযথ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয় এই গুরুত্বপূর্ণ সভায়। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ