পরিবেশ কন্ঠ

শিল্পখাতে সংস্কার ও বিনিয়োগ

বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর


প্রকাশ : ৩০ জুলাই ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
সংগৃহীত

দেশের স্থবির হয়ে পড়া শিল্প খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের সকল বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই সাহসী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন এবং সেগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করে তোলা। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শিল্পোন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, শিল্পকারখানা চালুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় সরকারি শিল্পকারখানাগুলোর বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার এবং প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব কারখানা সচল হলে দেশের উৎপাদন খাত সমৃদ্ধ হবে এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে।

বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন।

২০২৬ সালের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখন থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের এই পুনর্জাগরণ দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬


বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬

featured Image

দেশের স্থবির হয়ে পড়া শিল্প খাতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে এবং অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এক বড় ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে সরকার। আগামী ২০২৬ সালের মধ্যে দেশের সকল বন্ধ সরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের নীতিনির্ধারণী বৈঠকে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন। মূলত রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই সাহসী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল দীর্ঘকাল ধরে বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন এবং সেগুলোকে পুনরায় উৎপাদনমুখী করে তোলা। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, শিল্পোন্নয়ন ছাড়া জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা সম্ভব নয়। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দিয়ে বলেন, শিল্পকারখানা চালুর ক্ষেত্রে বিদ্যমান সকল প্রকার আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূর করতে হবে। বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সরকারের এই নতুন পরিকল্পনায় সরকারি শিল্পকারখানাগুলোর বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের পথ প্রশস্ত করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার এবং প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (বিডা) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব কারখানা সচল হলে দেশের উৎপাদন খাত সমৃদ্ধ হবে এবং আমদানিনির্ভরতা হ্রাস পাবে।

বৈঠকে উপস্থিত নীতিনির্ধারকরা এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে আখ্যায়িত করেছেন। অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাদের নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এছাড়াও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী দেশের বর্তমান বিনিয়োগ পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোকপাত করেন।

২০২৬ সালের এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখন থেকেই একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করে কাজ শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিল্প খাতের এই পুনর্জাগরণ দেশের সামগ্রিক জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং বেকারত্ব দূরীকরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই দৃঢ় অবস্থান দেশের ব্যবসায়ী সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ