পরিবেশ কন্ঠ

ডলারের দামে অস্থিরতা

রেমিট্যান্স বাড়লেও টাকার মানে বড় পতন


প্রকাশ : ০২ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রেমিট্যান্স বাড়লেও টাকার মানে বড় পতন
সংগৃহীত

জুলাইয়ে প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয়ে ডলারের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে; আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাবাদী চিত্র তৈরি করলেও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। তবে আয়ের এই জোয়ারের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের দর ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি তেল, সার এবং অত্যাবশ্যকীয় কিছু পণ্য আমদানিতে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার মানের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলার এখন ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ১২২ টাকার ঘরে স্থিতিশীল থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এই দরে বড় পরিবর্তন এসেছে। অথচ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি ছিল। আয়ের এই ধারাবাহিক উন্নতি সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যান্য উৎসগুলোতে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানির উচ্চ ব্যয় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের আমদানির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মুদ্রাবাজারের এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা চিহ্নিত করেছেন জ্বালানি তেল ও সার আমদানির পাহাড়সম খরচকে। শুধু পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি। একইসাথে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সার আমদানিতে ৪৩ শতাংশ বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রকে। রপ্তানি আয় ২ দশমিক ০৮ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (BPM6) অনুযায়ী যা ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে রিজার্ভের যে সংকট ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর তদারকি শুরু করেছে যাতে ডলারের সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে মুনাফা করতে না পারে। রোববারও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রাখলে দীর্ঘমেয়াদে ডলারের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমানে জ্বালানি ও সারের দায় পরিশোধের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আমদানির এই চাপ সাময়িক এবং অর্থপাচার রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সফল হলে শীঘ্রই টাকার মান পুনরায় শক্তিশালী হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬


রেমিট্যান্স বাড়লেও টাকার মানে বড় পতন

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

জুলাইয়ে প্রবাসী আয়ে উচ্চ প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও জ্বালানি ও সার আমদানির ব্যয়ে ডলারের সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে; আন্তঃব্যাংক লেনদেনে ডলারের দাম ১২৩ টাকা ছাড়িয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ের প্রবাহ আশাবাদী চিত্র তৈরি করলেও মুদ্রাবাজারে অস্থিরতা কাটছে না। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে ২৮৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স দেশে এসেছে, যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। তবে আয়ের এই জোয়ারের বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে ডলারের দর ক্রমেই বাড়ছে। জ্বালানি তেল, সার এবং অত্যাবশ্যকীয় কিছু পণ্য আমদানিতে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধির ফলে ডলারের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে টাকার মানের ওপর।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আন্তঃব্যাংক মুদ্রা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলার এখন ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ১২২ টাকার ঘরে স্থিতিশীল থাকলেও সাম্প্রতিক কয়েক দিনে এই দরে বড় পরিবর্তন এসেছে। অথচ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৫ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১৭ শতাংশ বেশি ছিল। আয়ের এই ধারাবাহিক উন্নতি সত্ত্বেও দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের অন্যান্য উৎসগুলোতে কাঙ্ক্ষিত গতি না থাকায় মুদ্রাবাজারে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে রপ্তানি আয় কমে যাওয়া এবং আমদানির উচ্চ ব্যয় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাকে আরও উসকে দিচ্ছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের আমদানির পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আমদানিতে মোট ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৭৩ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের তুলনায় এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মুদ্রাবাজারের এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা চিহ্নিত করেছেন জ্বালানি তেল ও সার আমদানির পাহাড়সম খরচকে। শুধু পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্য আমদানিতেই ব্যয় হয়েছে ৯০৩ কোটি ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৮৫ শতাংশ বেশি। একইসাথে কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সার আমদানিতে ৪৩ শতাংশ বাড়তি খরচ গুনতে হয়েছে রাষ্ট্রকে। রপ্তানি আয় ২ দশমিক ০৮ শতাংশ হ্রাস পাওয়ায় এই ঘাটতি আরও প্রকট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ বর্তমানে ৩৬ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (BPM6) অনুযায়ী যা ৩১ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরবর্তী সময়ে রিজার্ভের যে সংকট ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর কঠোর তদারকি শুরু করেছে যাতে ডলারের সংকটের সুযোগ নিয়ে কেউ কৃত্রিমভাবে দর বাড়িয়ে মুনাফা করতে না পারে। রোববারও বেশ কয়েকটি ব্যাংকের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান এবং প্রবাসীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে উৎসাহ প্রদান অব্যাহত রাখলে দীর্ঘমেয়াদে ডলারের বাজার স্থিতিশীল হতে পারে। তবে বর্তমানে জ্বালানি ও সারের দায় পরিশোধের যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা সামলানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা আশা করছেন, আমদানির এই চাপ সাময়িক এবং অর্থপাচার রোধে গৃহীত পদক্ষেপগুলো সফল হলে শীঘ্রই টাকার মান পুনরায় শক্তিশালী হবে।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ