পরিবেশ কন্ঠ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ব্যয় তুঙ্গে: ৬ মাসে পেন্টাগনের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার


প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ব্যয় তুঙ্গে: ৬ মাসে পেন্টাগনের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার
সংগৃহীত

সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় ওয়াশিংটন; বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আভাস।

ইরানের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দেশটির সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘাত যদি বর্তমান ধারায় অব্যাহত থাকে, তবে প্রতি মাসে ওয়াশিংটনকে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সিবিও-র এই হিসাব মূলত ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধসংশ্লিষ্ট খরচের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে ব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনে। শুধু এই খাতেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলে মাসে ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, তবে জুলাই মাসের মতো উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চললে এই খরচের মাত্রা মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। 


সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে যে হারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই মজুত পুনরায় পূরণ করতে পেন্টাগনের কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। যুদ্ধের এই বিরূপ প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আঘাত করছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সিবিও-র সতর্কবাণী অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের তুলনায় অন্তত ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। 

এদিকে, সামরিক সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে খোদ পেন্টাগনের ভেতরেও উদ্বেগ দানা বাঁধছে। সিবিও-র প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও, পেন্টাগন অবশ্য এই মূল্যায়নকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম এখনো তাদের হাতে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু হামলা এবং যুদ্ধ পরিচালনায় নেওয়া ঋণের সুদ এই ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের বাইরে থাকায়, প্রকৃত ব্যয়ের অঙ্ক যে আরও বিশাল হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে ব্যয় তুঙ্গে: ৬ মাসে পেন্টাগনের খরচ ৩৮ বিলিয়ন ডলার

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি ও ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির শঙ্কায় ওয়াশিংটন; বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতার আভাস।

ইরানের সাথে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়ের পরিমাণ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। যুদ্ধের মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে দেশটির সামরিক ব্যয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে। মার্কিন কংগ্রেসের নির্দলীয় গবেষণা সংস্থা কংগ্রেসনাল বাজেট অফিস (সিবিও) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সংঘাত যদি বর্তমান ধারায় অব্যাহত থাকে, তবে প্রতি মাসে ওয়াশিংটনকে আরও ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে। 

মঙ্গলবার প্রকাশিত সিবিও-র এই হিসাব মূলত ১ আগস্ট পর্যন্ত যুদ্ধসংশ্লিষ্ট খরচের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সিংহভাগই ব্যয় হয়েছে ব্যবহৃত গোলাবারুদ এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিস্থাপনে। শুধু এই খাতেই যুক্তরাষ্ট্রের খরচ হয়েছে ২১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। সংস্থাটির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, যুদ্ধের তীব্রতা কিছুটা হ্রাস পেলে মাসে ২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে, তবে জুলাই মাসের মতো উচ্চমাত্রার সামরিক অভিযান চললে এই খরচের মাত্রা মাসে ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। 


সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের ময়দানে যে হারে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহৃত হচ্ছে, সেই মজুত পুনরায় পূরণ করতে পেন্টাগনের কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। যুদ্ধের এই বিরূপ প্রভাব কেবল যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা সরাসরি আঘাত করছে মার্কিন অর্থনীতিতেও। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছে। সিবিও-র সতর্কবাণী অনুযায়ী, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পূর্ববর্তী পূর্বাভাসের তুলনায় অন্তত ০.৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে। 

এদিকে, সামরিক সরঞ্জামের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে খোদ পেন্টাগনের ভেতরেও উদ্বেগ দানা বাঁধছে। সিবিও-র প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হলেও, পেন্টাগন অবশ্য এই মূল্যায়নকে পুরোপুরি মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম এখনো তাদের হাতে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কিছু হামলা এবং যুদ্ধ পরিচালনায় নেওয়া ঋণের সুদ এই ৩৮ বিলিয়ন ডলারের হিসাবের বাইরে থাকায়, প্রকৃত ব্যয়ের অঙ্ক যে আরও বিশাল হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। 

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ