পরিবেশ কন্ঠ

প্রথম দিনেই জাতীয় গ্রিডে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের সোলার বিদ্যুৎ


প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

প্রথম দিনেই জাতীয় গ্রিডে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের সোলার বিদ্যুৎ
সংগৃহীত

জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এরই অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০০ কিলোওয়াট পিক (kWp) ক্ষমতার সোলার প্যানেল (Capex Model) স্থাপন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার প্যানেলটি সফলভাবে চালু করা হয়। চালুর দিনেই কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কুষ্টিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সূচনা হলো।

চালুর কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান (উপসচিব), সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) মেহেদী হাসান রিফাত, ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ-আল-মাহমূদ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান Pico Labs-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। উপস্থিতরা সোলার প্ল্যান্টের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের কারিগরি বিষয়ে আলোচনা করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি Capex মডেলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ মডেলে প্রকল্পের বিনিয়োগ সরাসরি সরকারি বরাদ্দ থেকে করা হয়, ফলে স্থাপিত প্ল্যান্টের মালিকানা থাকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের হাতেই। এ প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ছিল ৭৫ লাখ টাকা।

সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ একটি পরিবেশবান্ধব উৎস, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখে। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সূচনাকে কার্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

চালুর প্রথম দিনেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের কার্যকারিতার প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপস্থিতরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ জেলার অন্যান্য সরকারি দপ্তর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য সরকারি ভবনেও এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিষয় : কুষ্টিয়া ডিসি কার্যালয় কিলোওয়াট রুফটপ সোলার চালু প্রথম দিন গ্রিড বিদ্যুৎ সরবরাহ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬


প্রথম দিনেই জাতীয় গ্রিডে কুষ্টিয়া ডিসি অফিসের সোলার বিদ্যুৎ

প্রকাশের তারিখ : ২৯ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জ্বালানি সাশ্রয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

এরই অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২০০ কিলোওয়াট পিক (kWp) ক্ষমতার সোলার প্যানেল (Capex Model) স্থাপন করা হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার প্যানেলটি সফলভাবে চালু করা হয়। চালুর দিনেই কার্যালয়ের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কুষ্টিয়ায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির সূচনা হলো।

চালুর কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মিজানুর রহমান (উপসচিব), সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকিউল আলম, সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) মেহেদী হাসান রিফাত, ওজোপাডিকো কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ-আল-মাহমূদ এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান Pico Labs-এর প্রতিনিধিবৃন্দ। উপস্থিতরা সোলার প্ল্যান্টের কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং প্রকল্পের কারিগরি বিষয়ে আলোচনা করেন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পটি Capex মডেলে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এ মডেলে প্রকল্পের বিনিয়োগ সরাসরি সরকারি বরাদ্দ থেকে করা হয়, ফলে স্থাপিত প্ল্যান্টের মালিকানা থাকে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের হাতেই। এ প্রকল্পে সরকারি বরাদ্দ ছিল ৭৫ লাখ টাকা।

সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিজস্ব চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এতে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমার পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ ব্যয়ও সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সৌরবিদ্যুৎ একটি পরিবেশবান্ধব উৎস, যা কার্বন নিঃসরণ কমাতে ভূমিকা রাখে। সরকারি ভবনের অব্যবহৃত ছাদকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেলে জমি ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না এবং দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির এই সূচনাকে কার্যালয়ের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। 

চালুর প্রথম দিনেই গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পের কার্যকারিতার প্রমাণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। উপস্থিতরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ জেলার অন্যান্য সরকারি দপ্তর, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য সরকারি ভবনেও এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।



পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ