মৌলবাদ ও উগ্রবাদ রুখে দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন বা বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতি সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করতে পারি না, কারণ আমাদের অগণিত সন্তান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রাণ দিয়েছে এবং একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের কোনো সংগ্রামকেই ছোট করে দেখে না।
বিগত সংসদ নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ বলে মনে করে না। বরং সবাইকে এই দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে আপনাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। ভবিষ্যৎ সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সব যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক থাকবে।
সম্মেলনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃথক সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, ধর্মীয় সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করার দাবিও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে যেকোনো পরিস্থিতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ওপর জোর দেন। সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ০১ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ আগস্ট ২০২৬
মৌলবাদ ও উগ্রবাদ রুখে দিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।
বাংলাদেশে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বিভাজন বা বৈষম্য সৃষ্টির সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে বলেন, এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদার দেশ। ধর্মকে পুঁজি করে যারা সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করবে, তাদের প্রতি সরকারের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, যে কোনো ধরনের উগ্রবাদ বা মৌলবাদকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক এক প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে একই সূত্রে গেঁথে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমরা জুলাইয়ের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করতে পারি না, কারণ আমাদের অগণিত সন্তান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য প্রাণ দিয়েছে এবং একটি ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছে। বিএনপি একাত্তর ও চব্বিশের কোনো সংগ্রামকেই ছোট করে দেখে না।
বিগত সংসদ নির্বাচনে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, বিএনপি কাউকে ‘সংখ্যালঘু’ বলে মনে করে না। বরং সবাইকে এই দেশের গর্বিত নাগরিক হিসেবে গণ্য করে। তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, নিজেদের অধিকার আদায়ে আপনাদের আরও সোচ্চার হতে হবে। ভবিষ্যৎ সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সব যৌক্তিক দাবি ও সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত আন্তরিক থাকবে।
সম্মেলনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদের পক্ষ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একটি পৃথক সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, ধর্মীয় সহিংসতার বিচার নিশ্চিত করা এবং হিন্দু ধর্মীয় উৎসবগুলোতে সরকারি ছুটি বৃদ্ধি। এছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ফাউন্ডেশনে রূপান্তর করার দাবিও জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, দেশের নাগরিক হিসেবে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার ইতিহাসের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে যেকোনো পরিস্থিতির নিরপেক্ষ বিশ্লেষণের ওপর জোর দেন। সম্মিলিত সনাতন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক হীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদ, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন