রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ধমনী প্রগতি সরণি এখন এক বিশাল ভোগান্তির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে রামপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। তবে বর্তমানে এমআরটি লাইন-১-এর ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের জোড়া খোঁড়াখুঁড়িতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সড়কটি। যে পথে একসময় ছয় লেনের প্রশস্ততা নিয়ে গাড়ি চলত, সেখানে এখন সরু দুটি লেনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শত শত যানবাহন। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে নাভিশ্বাস উঠছে নগরবাসীর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হোসেন মার্কেট, উত্তর বাড্ডা, নতুন বাজার এবং যমুনা ফিউচার পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১২টি পয়েন্টে চলছে বিরামহীন খননকাজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে এমআরটি প্রকল্পের কাজ চললেও, একই সঙ্গে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ঢাকা ওয়াসা নতুন করে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, গত বছরই একবার এই এলাকায় এমআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছিল। অথচ বছর ঘুরতেই ওয়াসার এই দ্বিতীয় দফার খোঁড়াখুঁড়ি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলে একই সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে যেখানে আগে মাত্র ২৫-৩০ মিনিটে যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টা। অফিসগামী যাত্রী কামরুল ইসলাম তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'বাসে বসে থাকতে থাকতে শারীরিক ও মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। যানজটের কারণে পুরো দিনের কর্মপরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।' কেবল যাত্রীরাই নন, পরিবহন শ্রমিকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। আলিফ পরিবহনের চালক খোকন মিয়া জানান, যানজটের কারণে আগের তুলনায় অর্ধেক ট্রিপও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা সরাসরি তাদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাদচারীদের দুর্ভোগও কোনো অংশে কম নয়। সড়ক বিভাজক সরিয়ে অস্থায়ী স্টিলের বেষ্টনী বসানোর ফলে পথচারীদের নির্দিষ্ট পারাপারের জায়গা থেকে অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে ব্যারিকেডের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাফিক চাপের কারণে দিনের বেলায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রকল্পের গতি ধীর।
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন পরিকল্পনাহীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত না করে, তবে এই ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ততম ধমনী প্রগতি সরণি এখন এক বিশাল ভোগান্তির ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে কুড়িল হয়ে রামপুরা পর্যন্ত বিস্তৃত এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। তবে বর্তমানে এমআরটি লাইন-১-এর ইউটিলিটি স্থানান্তর এবং ঢাকা ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পের জোড়া খোঁড়াখুঁড়িতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে সড়কটি। যে পথে একসময় ছয় লেনের প্রশস্ততা নিয়ে গাড়ি চলত, সেখানে এখন সরু দুটি লেনে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে শত শত যানবাহন। ফলে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে নাভিশ্বাস উঠছে নগরবাসীর।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হোসেন মার্কেট, উত্তর বাড্ডা, নতুন বাজার এবং যমুনা ফিউচার পার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ ১২টি পয়েন্টে চলছে বিরামহীন খননকাজ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনে এমআরটি প্রকল্পের কাজ চললেও, একই সঙ্গে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে ঢাকা ওয়াসা নতুন করে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করেছে। যাত্রীদের অভিযোগ, গত বছরই একবার এই এলাকায় এমআরটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছিল। অথচ বছর ঘুরতেই ওয়াসার এই দ্বিতীয় দফার খোঁড়াখুঁড়ি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবকে প্রকটভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। সমন্বিত পরিকল্পনা থাকলে একই সঙ্গে এই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে যেখানে আগে মাত্র ২৫-৩০ মিনিটে যাতায়াত করা যেত, সেখানে এখন সময় লাগছে প্রায় দুই ঘণ্টা। অফিসগামী যাত্রী কামরুল ইসলাম তার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, 'বাসে বসে থাকতে থাকতে শারীরিক ও মানসিকভাবে আমি বিধ্বস্ত। যানজটের কারণে পুরো দিনের কর্মপরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।' কেবল যাত্রীরাই নন, পরিবহন শ্রমিকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। আলিফ পরিবহনের চালক খোকন মিয়া জানান, যানজটের কারণে আগের তুলনায় অর্ধেক ট্রিপও দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা সরাসরি তাদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
পাদচারীদের দুর্ভোগও কোনো অংশে কম নয়। সড়ক বিভাজক সরিয়ে অস্থায়ী স্টিলের বেষ্টনী বসানোর ফলে পথচারীদের নির্দিষ্ট পারাপারের জায়গা থেকে অনেক দূর ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে ব্যারিকেডের ফাঁক দিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে প্রতিনিয়ত। ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানিয়েছে, গন্ধর্বপুর পানি শোধনাগার থেকে দৈনিক ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ট্রাফিক চাপের কারণে দিনের বেলায় কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রকল্পের গতি ধীর।
উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য হলেও মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করে এমন পরিকল্পনাহীন ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থার মাধ্যমে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নত না করে, তবে এই ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন