বাংলাদেশের প্রাণ ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি নদ-নদী রক্ষায় দখলদার ও দূষণকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির দাবি উঠেছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাটে নদী রক্ষাবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এ আহ্বান জানান। সরেজমিনে নদী পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যারা নদীকে গলাটিপে হত্যা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া সমীচীন নয়।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রকৃতি ও জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য নিষ্কাশন ও অবৈধ দখলদারিত্বের করাল গ্রাসে আজ বুড়িগঙ্গাসহ দেশের অসংখ্য নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে পতিত হয়েছে। খোকন তালুকদার উল্লেখ করেন, সমাজে যেভাবে মাদক কারবারিদের তালিকা থানায় সংরক্ষিত থাকে এবং প্রতিরোধ করা হয়, ঠিক সেভাবেই পরিবেশ বিনাশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা জাতীয় স্বার্থে জরুরি।
অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় খালের বুকে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশের এমন চরম বিপর্যয় রোধে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে নদীখেকোদের নাম তালিকাভুক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আলোচনা সভা শেষে গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাপ্ত হয়, যাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং নদী রক্ষা আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর আইনি প্রয়োগ বজায় না থাকলে দেশের জীববৈচিত্র্য অচিরেই অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে আইন অমান্যকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক মহল।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাংলাদেশের প্রাণ ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি নদ-নদী রক্ষায় দখলদার ও দূষণকারীদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে শাস্তির দাবি উঠেছে। শনিবার সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বসিলা লঞ্চঘাটে নদী রক্ষাবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান খোকন তালুকদার এ আহ্বান জানান। সরেজমিনে নদী পরিদর্শনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, যারা নদীকে গলাটিপে হত্যা করছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া সমীচীন নয়।
দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবন-জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রকৃতি ও জলাশয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অথচ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বর্জ্য নিষ্কাশন ও অবৈধ দখলদারিত্বের করাল গ্রাসে আজ বুড়িগঙ্গাসহ দেশের অসংখ্য নদ-নদী অস্তিত্ব সংকটে পতিত হয়েছে। খোকন তালুকদার উল্লেখ করেন, সমাজে যেভাবে মাদক কারবারিদের তালিকা থানায় সংরক্ষিত থাকে এবং প্রতিরোধ করা হয়, ঠিক সেভাবেই পরিবেশ বিনাশকারীদের তালিকা প্রস্তুত করা জাতীয় স্বার্থে জরুরি।
অনুষ্ঠানে পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, রাজনৈতিক প্রভাব ও স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় খালের বুকে অবৈধ বাঁধ নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। পরিবেশের এমন চরম বিপর্যয় রোধে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে নদীখেকোদের নাম তালিকাভুক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আলোচনা সভা শেষে গান ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি সমাপ্ত হয়, যাতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী এবং নদী রক্ষা আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধির বিকল্প নেই। দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান ও কঠোর আইনি প্রয়োগ বজায় না থাকলে দেশের জীববৈচিত্র্য অচিরেই অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। তাই সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করে আইন অমান্যকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে জাতীয় সম্পদ রক্ষা করাই এখন সময়ের প্রধান দাবি বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক মহল।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন