নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ভয়াবহ ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় নদীর পানি থেকে সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এখনো নিখোঁজ থাকা তাদের বাবার সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু ও ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি যাত্রা শুরু করেছিল।
কিন্তু উত্তাল মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে গেলে নৌ-দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমান সিমেন্ট কোম্পানির উদ্ধারকারী নৌযান তাৎক্ষণিক আটজনকে প্রাণে বাঁচালেও পরিবারের চারজন নিখোঁজ হয়ে যান। এর আগে রায়েশা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। নদীপথে নিরাপত্তার অভাব এবং অতিরিক্ত যাত্রীবহন ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছেন যে আবহাওয়া বৈরী থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে নৌযান পরিচালনা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, নদীপথে চলাচলকারী ছোট ট্রলারগুলোতে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করা বড় ধরণের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারি ও নৌ-নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ ব্যতিরেকে এমন করুণ অকাল মৃত্যু রোধ করা অসম্ভব।
বর্তমানে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নদীর স্রোত ও বৈরী পরিস্থিতির কারণে অভিযানে বিঘ্ন ঘটলেও উদ্ধারকর্মীরা কোনো কূল কিনারা না পাওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম এবং এলাকাবাসী দ্রুত নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ভয়াবহ ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকায় নদীর পানি থেকে সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এখনো নিখোঁজ থাকা তাদের বাবার সন্ধানে জোরদার তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার শ্রীমদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের সোনাময়ী গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গরু ও ছাগলসহ মোট ১৩ জন যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি যাত্রা শুরু করেছিল।
কিন্তু উত্তাল মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আকস্মিক ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি উল্টে গেলে নৌ-দুর্ঘটনাটি ঘটে। আমান সিমেন্ট কোম্পানির উদ্ধারকারী নৌযান তাৎক্ষণিক আটজনকে প্রাণে বাঁচালেও পরিবারের চারজন নিখোঁজ হয়ে যান। এর আগে রায়েশা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। নদীপথে নিরাপত্তার অভাব এবং অতিরিক্ত যাত্রীবহন ঝুঁকি বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত ফায়ার সার্ভিস ও নৌ-পুলিশের সদস্যরা জানিয়েছেন যে আবহাওয়া বৈরী থাকা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে নৌযান পরিচালনা করায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, নদীপথে চলাচলকারী ছোট ট্রলারগুলোতে পর্যাপ্ত জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম না থাকা এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক সংকেত উপেক্ষা করা বড় ধরণের বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসনিক নজরদারি ও নৌ-নিরাপত্তা আইনের কঠোর প্রয়োগ ব্যতিরেকে এমন করুণ অকাল মৃত্যু রোধ করা অসম্ভব।
বর্তমানে নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। নদীর স্রোত ও বৈরী পরিস্থিতির কারণে অভিযানে বিঘ্ন ঘটলেও উদ্ধারকর্মীরা কোনো কূল কিনারা না পাওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। নিহতের পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম এবং এলাকাবাসী দ্রুত নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের আকুতি জানাচ্ছেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন