সোনারগাঁয়ের প্রাচীন পুরাকীর্তি সংরক্ষণে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে পানাম নগরী থেকে দিনব্যাপী রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের গৌরবময় প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য রোড শো সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে ‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ স্লোগানে এই সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু হয়। সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত সব প্রত্নস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।
পানাম নগরীতে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা, কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস এবং সদস্য সচিব রবিউল হুসাইনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রতিনিধিদলটি ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কমরেড জ্যোতি বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানি-কা ব্রিজ ও প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে দলটি সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, নীলকুঠি এবং বড় সরদার বাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পথসভা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের কাছে পুরাকীর্তির ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মতামত নেওয়া হয়। সংরক্ষণ কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, যথাযথ দেখভালের অভাবে বহু প্রাচীন স্থাপত্য বেদখল ও ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বক্তারা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার বৈজ্ঞানিক সংস্কার ও স্থায়ী সুরক্ষার জোরালো দাবি জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনারগাঁয়ের অমূল্য প্রত্ননিদর্শন সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং নীতি-নির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপে বাধ্য করতেই এই উদ্যোগ। জাতীয় পর্যায়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র ও প্রতিবেদন প্রকাশের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দ্রুত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষজ্ঞ দলের নজরদারি নিশ্চিত না হলে সমৃদ্ধ এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ অক্টোবর ২০২৬
সোনারগাঁয়ের প্রাচীন পুরাকীর্তি সংরক্ষণে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে পানাম নগরী থেকে দিনব্যাপী রোড শো অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঐতিহাসিক সোনারগাঁয়ের গৌরবময় প্রাচীন নিদর্শন ও প্রত্নসম্পদ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য রোড শো সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সকালে ঐতিহাসিক পানাম নগরী থেকে ‘সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য রক্ষা করি, প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণে ঐক্য গড়ি’ স্লোগানে এই সচেতনতামূলক পদযাত্রা শুরু হয়। সোনারগাঁয়ের ইতিহাস-ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত সব প্রত্নস্থল পরিদর্শন, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং প্রচারপত্র বিতরণ করা হয়।
পানাম নগরীতে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক অধ্যাপক, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. আকমল হোসেন। এ সময় রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী পারভীন সুলতানা, কমিটির আহ্বায়ক কবি শাহেদ কায়েস এবং সদস্য সচিব রবিউল হুসাইনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট নাগরিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর প্রতিনিধিদলটি ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে মহজমপুর শাহী জামে মসজিদ, লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আশ্রম, কমরেড জ্যোতি বসুর স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি, কোম্পানি-কা ব্রিজ ও প্রাচীন ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে দলটি সুলতান গিয়াসউদ্দিন আজম শাহের সমাধি, গোয়ালদি শাহী মসজিদ, নীলকুঠি এবং বড় সরদার বাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পথসভা করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের কাছে পুরাকীর্তির ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি তাদের মতামত নেওয়া হয়। সংরক্ষণ কমিটির নেতারা অভিযোগ করেন, যথাযথ দেখভালের অভাবে বহু প্রাচীন স্থাপত্য বেদখল ও ধ্বংসের মুখে পড়ছে। বক্তারা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত এসব ঐতিহাসিক স্থাপনার বৈজ্ঞানিক সংস্কার ও স্থায়ী সুরক্ষার জোরালো দাবি জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোনারগাঁয়ের অমূল্য প্রত্ননিদর্শন সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি এবং নীতি-নির্ধারকদের কার্যকর পদক্ষেপে বাধ্য করতেই এই উদ্যোগ। জাতীয় পর্যায়ে জনমত গঠনের লক্ষ্যে গণমাধ্যমে ধারাবাহিক তথ্যচিত্র ও প্রতিবেদন প্রকাশের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। দ্রুত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিশেষজ্ঞ দলের নজরদারি নিশ্চিত না হলে সমৃদ্ধ এই জনপদের হাজার বছরের ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেন।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন