আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের শাপলা চত্বরে এক বিশাল ছাত্র-যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদ, সুতিয়া ও খিরু নদীসহ সারা দেশের জলাধারগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করার জোরালো দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সমাবেশটি নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিতের এক অনন্য গণদাবিতে রূপ নেয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য এবং প্রভাবশালী মহলের ধারাবাহিক অবৈধ দখলের মুখে দেশের প্রাকৃতিক নদ-নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ছাড়াও শিল্পাঞ্চল ভালুকার খিরু ও সুতিয়া নদী দূষণের বিষবাষ্পে পুরোপুরি মৃতপ্রায় অবস্থায় উপনীত হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইটিপি সক্রিয় না রাখা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাব এবং নদী রক্ষা আইনের শিথিল প্রয়োগের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, ভূগর্ভস্থ পানি ও কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
সমাবেশে পরিবেশ আন্দোলনের শীর্ষ গবেষক ও সংগঠকেরা উল্লেখ করেন, নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং তা জাতীয় সম্পদ ও প্রাণের আধার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেন, কেবল প্রতীকী দিবস উদযাপন কিংবা গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের মধ্যে নদী রক্ষার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রাণপ্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী তীরবর্তী প্রতিটি নাগরিককে নিয়ে একটি সংগঠিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশ থেকে নদীর সীমানা নির্ধারণ, তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্লাবনভূমি সংরক্ষণ এবং অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য অধিকার আদায়সহ দশ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। নদী রক্ষা কমিশনকে পর্যাপ্ত আইনি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি নদীখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় নদী বাঁচাতে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সারা দেশের তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক নদী দিবস উপলক্ষে ময়মনসিংহের শাপলা চত্বরে এক বিশাল ছাত্র-যুব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রীন ভয়েস আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ঐতিহাসিক ব্রহ্মপুত্র নদ, সুতিয়া ও খিরু নদীসহ সারা দেশের জলাধারগুলোকে দখল ও দূষণমুক্ত করার জোরালো দাবি জানানো হয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, পরিবেশকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সমাবেশটি নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ নিশ্চিতের এক অনন্য গণদাবিতে রূপ নেয়।
বক্তারা অভিযোগ করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, কলকারখানার বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য এবং প্রভাবশালী মহলের ধারাবাহিক অবৈধ দখলের মুখে দেশের প্রাকৃতিক নদ-নদী আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। ময়মনসিংহের বুক চিরে বয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক পুরাতন ব্রহ্মপুত্র ছাড়াও শিল্পাঞ্চল ভালুকার খিরু ও সুতিয়া নদী দূষণের বিষবাষ্পে পুরোপুরি মৃতপ্রায় অবস্থায় উপনীত হয়েছে। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক ইটিপি সক্রিয় না রাখা, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারির অভাব এবং নদী রক্ষা আইনের শিথিল প্রয়োগের ফলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, ভূগর্ভস্থ পানি ও কৃষি ব্যবস্থা মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।
সমাবেশে পরিবেশ আন্দোলনের শীর্ষ গবেষক ও সংগঠকেরা উল্লেখ করেন, নদী কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং তা জাতীয় সম্পদ ও প্রাণের আধার। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে বলেন, কেবল প্রতীকী দিবস উদযাপন কিংবা গণমাধ্যমে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশের মধ্যে নদী রক্ষার দায়িত্ব সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। নদ-নদীর স্বাভাবিক প্রাণপ্রবাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী তীরবর্তী প্রতিটি নাগরিককে নিয়ে একটি সংগঠিত সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।
সমাবেশ থেকে নদীর সীমানা নির্ধারণ, তীরবর্তী অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, প্লাবনভূমি সংরক্ষণ এবং অভিন্ন আন্তর্জাতিক নদীর ন্যায্য অধিকার আদায়সহ দশ দফা সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। নদী রক্ষা কমিশনকে পর্যাপ্ত আইনি ও প্রশাসনিক কর্তৃত্ব প্রদানের পাশাপাশি নদীখেকোদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় নদী বাঁচাতে অনতিবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে সারা দেশের তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে লাগাতার বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন