পরিবেশ কন্ঠ

ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি

জবিতে ছাত্রদল-শিবির রণক্ষেত্র: সাংবাদিকসহ আহত অনেক


প্রকাশ : ০৪ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

জবিতে ছাত্রদল-শিবির রণক্ষেত্র: সাংবাদিকসহ আহত অনেক
সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) শীর্ষ নেতা ও সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্রশিবিরের একদল নেতাকর্মী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পেশ করে মিছিল ও স্লোগান দিতে শুরু করলে মিলনায়তন ও এর আশপাশ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বাগবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালীন উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এতে শিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জবি প্রেসক্লাবের অর্থ-সম্পাদক কামরুজ্জামান গুরুতর জখম হয়েছেন। শিবিরের নেতাকর্মীরা পরে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চায়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তারা কাজ করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


জবিতে ছাত্রদল-শিবির রণক্ষেত্র: সাংবাদিকসহ আহত অনেক

প্রকাশের তারিখ : ০৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠান চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় উত্তপ্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা

রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার এক অনাকাঙ্ক্ষিত ও সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান চলাকালে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (জকসু) শীর্ষ নেতা ও সংবাদকর্মীসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ শীর্ষক একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান চলাকালীন ছাত্রশিবিরের একদল নেতাকর্মী বিভিন্ন দাবি-দাওয়া পেশ করে মিছিল ও স্লোগান দিতে শুরু করলে মিলনায়তন ও এর আশপাশ এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে এই বাগবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং পুরো ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সংঘর্ষ চলাকালীন উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর চড়াও হয়। এতে শিবিরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, ছাত্রশক্তি এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জবি প্রেসক্লাবের অর্থ-সম্পাদক কামরুজ্জামান গুরুতর জখম হয়েছেন। শিবিরের নেতাকর্মীরা পরে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।

ঘটনার আকস্মিকতায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা চায়। বর্তমানে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতি এখন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে তারা কাজ করছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছাত্রদল বা ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ