পরিবেশ কন্ঠ

নদী বাঁচানোর প্রত্যয়ে ব্রহ্মপুত্র পরিদর্শনে নদী গবেষকরা

ঐতিহ্যবাহী ব্রহ্মপুত্র নদের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং এর হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে বিশেষ নদী পরিদর্শন কর্মসূচি পালন করেছেন পরিবেশবিদ ও নদী গবেষকরা। শনিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার ঐতিহাসিক লাঙ্গলবন্দ রাজঘাট থেকে শুরু হওয়া এই নৌ-পরিভ্রমণে অংশ নেন দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজ। এক সময়ের খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র আজ দখল আর দূষণের কবলে পড়ে মরণদশায় উপনীত। এই সংকটাপন্ন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে বন্দর ও সোনারগাঁও উপজেলার বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করে প্রতিনিধি দলটি। পরিদর্শনের শুরুতেই বক্তারা ব্রহ্মপুত্রের বর্তমান করুণ দশা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা লক্ষ্য করেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং কলকারখানার বর্জ্য সরাসরি নদীতে পড়ার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ থমকে গেছে। বন্দর উপজেলার সাব্দী এলাকা এবং সোনারগাঁওয়ের জামপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত নদীপথের বিভিন্ন জায়গায় পলি জমে চর পড়ে গেছে, যা নৌ-যোগাযোগকে প্রায় অসম্ভব করে তুলেছে। নদী পরিদর্শনকালে গবেষকরা নদের তীরবর্তী জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব বিশ্লেষণ করেন। তারা জানান, নদী কেবল একটি জলধারা নয়, এটি অত্র অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। অথচ আজ দখলদারদের কুনজর আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় নদটি কেবল কাগজে-কলমে টিকে আছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোঃ মনির। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নোঙর ট্রাস্টের চেয়ারম্যান সুমন শামস এবং পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এইচ এম সুমন।নদী পরিদর্শন কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাপশ কর্মকার ও শিপন সরকার। এছাড়া পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির পরিচালক ইয়ামিন ভূইয়াসহ ফজলুল হক ভূইয়া, মান্নান ভূইয়া, রফিকুল ইসলাম, আলাউদ্দিন, বেলাল হোসেন, মোসলেহ উদ্দীন, খাইরুল কবির লাল ও তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, পরিবেশকর্মী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও নদী পরিদর্শনে অংশ নেন।বক্তারা নদীর সীমানা নির্ধারণ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী খননের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ব্রহ্মপুত্রকে বাঁচাতে হলে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি। বাংলাদেশ নদী ফাউন্ডেশন, পরিবেশ ও নদী রক্ষা উন্নয়ন ফাউন্ডেশন এবং পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিটি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। পরিশেষে, ব্রহ্মপুত্র নদের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত তদারকি এবং স্থানীয় জনগণকে সাথে নিয়ে দূষণবিরোধী লড়াই অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন সংশ্লিষ্টরা। পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

নদী বাঁচানোর প্রত্যয়ে ব্রহ্মপুত্র পরিদর্শনে নদী গবেষকরা