পরিবেশ কন্ঠ

ভারতের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত, দুশ্চিন্তায় বিসিবি


প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ভারতের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত, দুশ্চিন্তায় বিসিবি
সংগৃহীত

সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সিরিজ আয়োজন এখন প্রায় অসম্ভবের পথে। 

বিসিবি কর্মকর্তারা এখনো আশা করছেন সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকে যাচ্ছে না। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকবাজ।

রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণগত ৫ আগস্ট দিল্লিতে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের কয়েকজন সদস্যকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিল?’

বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলনই ভারতের বাংলাদেশ সফরের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।

আগে যেভাবে আশা জেগেছিলএর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তখন ভারতে মৌলবাদী গোষ্ঠীর বাংলাদেশ বিরোধী সব কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর নতুন করে আশা জেগেছিল যে দুই ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কের উন্নতি হবে।

বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সফর হলে বোর্ডের আর্থিক দিক থেকেও বড় লাভ হতো।

যা ভাবছে বিসিবিহাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি যেভাবে এগিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়া বাংলাদেশের জন্য এখন দূরের স্বপ্ন, প্রায় অসম্ভবও বলা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে এই বিষয়ে একই মত জানিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর এই সিরিজ নিয়ে আমি সন্দিহান। আমার মনে হয় না অন্যপক্ষ থেকে (সিরিজ নিয়ে) কোনো সাড়া পাব। সত্যি কথা বলতে, এটি ২৮ আগস্টের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, আমাদের হাতে আর কতদিন আছে?’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না (সিরিজটি পরিকল্পনামতো এগোবে)। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন এটি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

তিনি যোগ করেন, যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল ঘোষণা করা হয়, ততক্ষণ তাদের করার আর কিছুই নেই, শুধু আশা করা ছাড়া।

বিষয় : বাংলাদেশ ক্রিকেট বিসিবি ভারত ক্রিকেট

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

রোববার, ০৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতের বাংলাদেশ সফর অনিশ্চিত, দুশ্চিন্তায় বিসিবি

প্রকাশের তারিখ : ০৯ আগস্ট ২০২৬

featured Image

সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত ভারতের বাংলাদেশ সফর নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় অনিশ্চয়তা। দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে এই সিরিজ আয়োজন এখন প্রায় অসম্ভবের পথে। 

বিসিবি কর্মকর্তারা এখনো আশা করছেন সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই দিকে যাচ্ছে না। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে এমনটাই জানিয়েছে ক্রিকবাজ।

রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণগত ৫ আগস্ট দিল্লিতে পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার দলের কয়েকজন সদস্যকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

৮ আগস্ট বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু সেখানে আশ্রয়ে থেকে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছেন, তাকে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হলো। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে থাকা শেখ হাসিনাকে ভারত সরকার কেন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর এই সুযোগ দিল?’

বিসিবির অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, হাসিনার এই সংবাদ সম্মেলনই ভারতের বাংলাদেশ সফরের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিয়েছে।

আগে যেভাবে আশা জেগেছিলএর আগে চলতি বছরের শুরুতে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভারতে অনুষ্ঠেয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তখন ভারতে মৌলবাদী গোষ্ঠীর বাংলাদেশ বিরোধী সব কার্যক্রমের প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে ক্ষমতা নেওয়ার পর নতুন করে আশা জেগেছিল যে দুই ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্কের উন্নতি হবে।

বর্তমান বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এই সফর হলে বোর্ডের আর্থিক দিক থেকেও বড় লাভ হতো।

যা ভাবছে বিসিবিহাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর পরিস্থিতি যেভাবে এগিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া এবং শনিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সেপ্টেম্বরে ভারতকে আতিথেয়তা দেওয়া বাংলাদেশের জন্য এখন দূরের স্বপ্ন, প্রায় অসম্ভবও বলা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিসিবির এক শীর্ষ কর্মকর্তা ক্রিকবাজকে এই বিষয়ে একই মত জানিয়েছেন। শনিবার তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সব ঘটনার পর এই সিরিজ নিয়ে আমি সন্দিহান। আমার মনে হয় না অন্যপক্ষ থেকে (সিরিজ নিয়ে) কোনো সাড়া পাব। সত্যি কথা বলতে, এটি ২৮ আগস্টের মধ্যে হওয়ার কথা ছিল, আমাদের হাতে আর কতদিন আছে?’

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না (সিরিজটি পরিকল্পনামতো এগোবে)। ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু এখন এটি আমাদের সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

তিনি যোগ করেন, যতক্ষণ না আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিজ বাতিল ঘোষণা করা হয়, ততক্ষণ তাদের করার আর কিছুই নেই, শুধু আশা করা ছাড়া।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ