বন্যপ্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অসুস্থ শিয়ালদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের আওতায় আনছে বন বিভাগ; চালানো হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচারণা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই এক ধরনের অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল। ঝোপঝাড় থেকে লোকালয়ে হানা দেওয়া ক্ষিপ্র গতির শিয়ালগুলো কেবল মানুষের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল না, বরং প্রাণীগুলো নিজেরাও ছিল অসুস্থ ও বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক বিশেষ উদ্ধার অভিযানে নামে বন বিভাগ। সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল লোকালয়ে বিচরণকারী হিংস্র ও অসুস্থ শিয়ালগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
অভিযান চলাকালে বন বিভাগের দক্ষ দল ইউনিয়নের বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালায়। উদ্ধারকৃত শিয়ালগুলোর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহতী কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বন কর্মকর্তা আবু মুন্না, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আস সিদ্দীক এবং পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন। তাদের সঙ্গে বন বিভাগের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীও অংশ নেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির নেপথ্যে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তারা ব্যাখ্যা করেন যে, বনভূমি উজাড় হওয়া, প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়া এবং খাদ্যের তীব্র সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। মানুষের বসতি সম্প্রসারণের ফলে প্রাণীদের বিচরণ ক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শিয়াল বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলোকে পিটিয়ে বা হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে খবর দিলে তারা নিরাপদে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিতরণ ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। লিফলেটের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন বলেন, “শিয়াল আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আবেগপ্রবণ না হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বন বিভাগের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিপন্ন বন্যপ্রাণীরাও রক্ষা পাবে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬
বন্যপ্রাণী ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে অসুস্থ শিয়ালদের উদ্ধার, চিকিৎসা ও ভ্যাকসিনের আওতায় আনছে বন বিভাগ; চালানো হচ্ছে সচেতনতামূলক প্রচারণা।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সনমান্দী ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে গত কয়েকদিন ধরেই এক ধরনের অজানা আতঙ্ক কাজ করছিল। ঝোপঝাড় থেকে লোকালয়ে হানা দেওয়া ক্ষিপ্র গতির শিয়ালগুলো কেবল মানুষের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছিল না, বরং প্রাণীগুলো নিজেরাও ছিল অসুস্থ ও বিপন্ন। এই পরিস্থিতিতে বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) এক বিশেষ উদ্ধার অভিযানে নামে বন বিভাগ। সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি নির্দেশনায় পরিচালিত এই অভিযানে মূল লক্ষ্য ছিল লোকালয়ে বিচরণকারী হিংস্র ও অসুস্থ শিয়ালগুলোকে নিরাপদে উদ্ধার করা এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা।
অভিযান চলাকালে বন বিভাগের দক্ষ দল ইউনিয়নের বিভিন্ন ঝোপঝাড় ও সম্ভাব্য স্থানগুলোতে তল্লাশি চালায়। উদ্ধারকৃত শিয়ালগুলোর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সেগুলোকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও চিকিৎসা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহতী কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও বন কর্মকর্তা আবু মুন্না, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আস সিদ্দীক এবং পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন। তাদের সঙ্গে বন বিভাগের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও স্থানীয় সচেতন এলাকাবাসীও অংশ নেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই পরিস্থিতির নেপথ্যে গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তারা ব্যাখ্যা করেন যে, বনভূমি উজাড় হওয়া, প্রাকৃতিক আবাসস্থল বিনষ্ট হওয়া এবং খাদ্যের তীব্র সংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। মানুষের বসতি সম্প্রসারণের ফলে প্রাণীদের বিচরণ ক্ষেত্র দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে, যার ফলে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে এক ধরনের দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে। কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শিয়াল বা অন্য কোনো বন্যপ্রাণী লোকালয়ে দেখলে আতঙ্কিত হয়ে সেগুলোকে পিটিয়ে বা হত্যা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বরং তাৎক্ষণিকভাবে বন বিভাগকে খবর দিলে তারা নিরাপদে প্রাণীটিকে উদ্ধার করে প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
অভিযানের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার জন্য লিফলেট বিতরণ ও ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হচ্ছে। লিফলেটের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী লোকালয়ে ঢুকে পড়লে করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির চেয়ারম্যান মোঃ হোসাইন বলেন, “শিয়াল আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের ভূমিকা অপরিসীম। তাই আবেগপ্রবণ না হয়ে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, বন বিভাগের এমন সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপের ফলে একদিকে যেমন জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে বিপন্ন বন্যপ্রাণীরাও রক্ষা পাবে।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন