আমরা প্রতিদিনই পরিবেশ নিয়ে কথা বলি—দূষণ বাড়ছে, নদী মরছে, বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—কেন এত আইন থাকার পরও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না?
আসলে সমস্যাটা আইনের অভাবে নয়, সমস্যাটা প্রয়োগে। দেশে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একাধিক আইন আছে, সংস্থাও আছে, ক্ষমতাও আছে। কিন্তু যখন বাস্তবতার মাটিতে নামি, তখন দেখি—সবকিছু যেন কাগজেই সীমাবদ্ধ। কোথাও যেন সেই দায়বদ্ধতা নেই, যেটা থাকলে একটা আইন সত্যিকার অর্থে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
আমরা অনেক সময় দূষণ বা দখলদারদের দোষ দিই, সেটাও ঠিক। কিন্তু এর পেছনে আরেকটা বড় বাস্তবতা আছে—দায়মুক্তির সংস্কৃতি। কেউ যদি জানে, আইন ভাঙলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জবাবদিহি করতে হবে না, তাহলে সে কেন থামবে? এই জায়গাটাতেই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
আরেকটা কঠিন সত্য হলো—সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ নয়। পরিবেশ দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন মানুষ কোথায় যাবে? আদালতে যাওয়া মানে সময়, টাকা, ঝামেলা। ফলে অনেকেই চুপ করে যায়। আর এই চুপ থাকাটাই ধীরে ধীরে অন্যায়ের শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে একটা বিষয় পরিষ্কার—তারা শুধু আইন বানায় না, সেই আইন মানতে বাধ্যও করে। সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর থাকে নজরদারি, থাকে জবাবদিহি। ভুল করলে শাস্তি হয়, ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তাই সেখানে আইন মানা একটা বাধ্যবাধকতা, আবার একইসঙ্গে একটা নিরাপত্তাও।
আমাদের দেশে সমস্যা হলো—আইন আছে, কিন্তু তার উপরে অনেক সময় অদৃশ্য আরেকটা শক্তি কাজ করে। ফলে নিয়মের চেয়ে নির্দেশনা বড় হয়ে দাঁড়ায়। তখন একটি সমস্যার সমাধান হয়, কিন্তু সমস্যার মূল কারণ থেকে যায়।
নদী-খাল দখলমুক্ত করার মতো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যারা এতদিন দখল করলো, তারা কি কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে নতুন করে একই ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ?
পরিবেশ রক্ষা আসলে শুধু একটি প্রকল্প বা কর্মসূচি না—এটা একটা ধারাবাহিক দায়িত্ব। এটাকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে বের করে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারে পরিণত করতে হবে। সরকার বদলাবে, নীতি বদলাবে না—এমন একটা কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
সবশেষে একটা কথা খুব সহজভাবে বলা যায়—আমরা যদি সত্যিই পরিবেশ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের সিস্টেম ঠিক করতে হবে। আইনকে শক্তিশালী করতে হবে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি—আইন প্রয়োগকে শক্তিশালী করা। জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে, ভালো কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।
পরিবেশ আমাদের বাইরে কিছু না—এটাই আমাদের বেঁচে থাকার জায়গা। এটাকে রক্ষা করা মানে নিজেদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ এপ্রিল ২০২৬
আমরা প্রতিদিনই পরিবেশ নিয়ে কথা বলি—দূষণ বাড়ছে, নদী মরছে, বাতাস বিষাক্ত হয়ে উঠছে। কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়—কেন এত আইন থাকার পরও পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না?
আসলে সমস্যাটা আইনের অভাবে নয়, সমস্যাটা প্রয়োগে। দেশে পরিবেশ সুরক্ষার জন্য একাধিক আইন আছে, সংস্থাও আছে, ক্ষমতাও আছে। কিন্তু যখন বাস্তবতার মাটিতে নামি, তখন দেখি—সবকিছু যেন কাগজেই সীমাবদ্ধ। কোথাও যেন সেই দায়বদ্ধতা নেই, যেটা থাকলে একটা আইন সত্যিকার অর্থে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
আমরা অনেক সময় দূষণ বা দখলদারদের দোষ দিই, সেটাও ঠিক। কিন্তু এর পেছনে আরেকটা বড় বাস্তবতা আছে—দায়মুক্তির সংস্কৃতি। কেউ যদি জানে, আইন ভাঙলেও শেষ পর্যন্ত তাকে জবাবদিহি করতে হবে না, তাহলে সে কেন থামবে? এই জায়গাটাতেই আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।
আরেকটা কঠিন সত্য হলো—সাধারণ মানুষের জন্য ন্যায়বিচার পাওয়া সহজ নয়। পরিবেশ দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে একজন মানুষ কোথায় যাবে? আদালতে যাওয়া মানে সময়, টাকা, ঝামেলা। ফলে অনেকেই চুপ করে যায়। আর এই চুপ থাকাটাই ধীরে ধীরে অন্যায়ের শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে একটা বিষয় পরিষ্কার—তারা শুধু আইন বানায় না, সেই আইন মানতে বাধ্যও করে। সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর থাকে নজরদারি, থাকে জবাবদিহি। ভুল করলে শাস্তি হয়, ক্ষতি হলে ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। তাই সেখানে আইন মানা একটা বাধ্যবাধকতা, আবার একইসঙ্গে একটা নিরাপত্তাও।
আমাদের দেশে সমস্যা হলো—আইন আছে, কিন্তু তার উপরে অনেক সময় অদৃশ্য আরেকটা শক্তি কাজ করে। ফলে নিয়মের চেয়ে নির্দেশনা বড় হয়ে দাঁড়ায়। তখন একটি সমস্যার সমাধান হয়, কিন্তু সমস্যার মূল কারণ থেকে যায়।
নদী-খাল দখলমুক্ত করার মতো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো। কিন্তু প্রশ্ন হলো—যারা এতদিন দখল করলো, তারা কি কোনো জবাবদিহির মুখোমুখি হচ্ছে? যদি না হয়, তাহলে নতুন করে একই ঘটনা ঘটতে কতক্ষণ?
পরিবেশ রক্ষা আসলে শুধু একটি প্রকল্প বা কর্মসূচি না—এটা একটা ধারাবাহিক দায়িত্ব। এটাকে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে বের করে রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারে পরিণত করতে হবে। সরকার বদলাবে, নীতি বদলাবে না—এমন একটা কাঠামো তৈরি করা জরুরি।
সবশেষে একটা কথা খুব সহজভাবে বলা যায়—আমরা যদি সত্যিই পরিবেশ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের সিস্টেম ঠিক করতে হবে। আইনকে শক্তিশালী করতে হবে, কিন্তু তার চেয়েও বেশি জরুরি—আইন প্রয়োগকে শক্তিশালী করা। জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে, ভালো কোনো উদ্যোগই টেকসই হবে না।
পরিবেশ আমাদের বাইরে কিছু না—এটাই আমাদের বেঁচে থাকার জায়গা। এটাকে রক্ষা করা মানে নিজেদের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন