পরিবেশ কন্ঠ

রাজধানীতে প্রবাসীকে হত্যা করে ৮ টুকরা, ‘প্রেমিকার’ বান্ধবীর জবানবন্দি


প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

রাজধানীতে প্রবাসীকে হত্যা করে ৮ টুকরা, ‘প্রেমিকার’ বান্ধবীর জবানবন্দি
প্রতীকী ছবি

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার ৮ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় এক নারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই নারীর নাম হেলেনা বেগম। তিনি প্রবাসী মোকাররমের ‘প্রেমিকা’ তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বান্ধবী।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের খাস কামরায় এই জবানবন্দি দেন। এ দিন হেলেনা বেগম ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে আদালতে হাজির করে মুগদা থানা–পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু হেলেনার জবানবন্দি লিপিবদ্ধের আবেদন করেন। সেই সঙ্গে হেলেনার কিশোরী মেয়েকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন।

আদালত হেলেনার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৫ এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান কিশোরীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মারুফুজ্জামান।

নিহত মোকাররম মিয়া (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা। গত রোববার রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের ৭ টুকরা উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর রোববার রাতে হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করে তারা।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হেলেনা বেগম জবানবন্দিতে বলেছেন– নিহত মোকাররমের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাসলিমা আক্তার হেলেনার বান্ধবী। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মোকাররম সরাসরি মুগদার মান্ডায় হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাসলিমাও আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে ওই বাড়িতে ছিলেন। মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল এবং তাদের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছিল। একপর্যায়ে বিয়ে নিয়ে আলোচনা হলে তাসলিমা রাজি না হওয়ায় মোকাররম তাঁর দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন। মোকাররম হেলেনার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন হেলেনা।

জবানবন্দিতে ওই নারী আরও জানান, তাৎক্ষণিক তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশ চাপা ও হাতুড়ি-বটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন হেলেনা ও তাসলিমা। এরপর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ৮ টুকরা করেন। পরে মরদেহের খণ্ডাংশ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাসার আশপাশে ফেলে দেন তাঁরা।

বিষয় : ঢাকা জেলা হত্যা প্রবাসী মামলা সৌদি আরব গ্রেপ্তার নিহত অপরাধ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কন্ঠ

বুধবার, ২০ মে ২০২৬


রাজধানীতে প্রবাসীকে হত্যা করে ৮ টুকরা, ‘প্রেমিকার’ বান্ধবীর জবানবন্দি

প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬

featured Image

রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়ার ৮ টুকরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় এক নারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই নারীর নাম হেলেনা বেগম। তিনি প্রবাসী মোকাররমের ‘প্রেমিকা’ তাসলিমা বেগম ওরফে হাসনার বান্ধবী।

আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দিনের খাস কামরায় এই জবানবন্দি দেন। এ দিন হেলেনা বেগম ও তাঁর কিশোরী মেয়েকে আদালতে হাজির করে মুগদা থানা–পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু হেলেনার জবানবন্দি লিপিবদ্ধের আবেদন করেন। সেই সঙ্গে হেলেনার কিশোরী মেয়েকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক রাখার আবেদন করেন।

আদালত হেলেনার জবানবন্দি গ্রহণ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৫ এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান কিশোরীকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে (বালিকা) পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মারুফুজ্জামান।

নিহত মোকাররম মিয়া (৩৮) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর এলাকার বাসিন্দা। গত রোববার রাজধানীর মুগদার মান্ডা এলাকা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে কল দিয়ে বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের ৭ টুকরা উদ্ধার করে। আঙুলের ছাপ নিয়ে পরিচয় নিশ্চিত হয় পুলিশ। এরপর রোববার রাতে হেলেনা ও তাঁর মেয়েকে গ্রেপ্তার করে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করে তারা।

এ ঘটনায় নিহতের চাচা রফিকুল ইসলাম সোমবার মুগদা থানায় হত্যা মামলা করেন।

আদালতের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, হেলেনা বেগম জবানবন্দিতে বলেছেন– নিহত মোকাররমের সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক প্রবাসীর স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাসলিমা আক্তার হেলেনার বান্ধবী। গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে মোকাররম সরাসরি মুগদার মান্ডায় হেলেনার ভাড়া বাসায় ওঠেন। সেখানে হেলেনা তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে থাকতেন। তাসলিমাও আগে থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ঢাকায় এসে ওই বাড়িতে ছিলেন। মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল এবং তাদের কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছিল। একপর্যায়ে বিয়ে নিয়ে আলোচনা হলে তাসলিমা রাজি না হওয়ায় মোকাররম তাঁর দেওয়া ৫ লাখ টাকা ফেরত চান এবং ছবি-ভিডিও প্রকাশের হুমকি দেন। মোকাররম হেলেনার মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টাও করেছিলেন বলেও দাবি করেছেন হেলেনা।

জবানবন্দিতে ওই নারী আরও জানান, তাৎক্ষণিক তাসলিমা ও হেলেনা মিলে মোকাররমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। ১৪ মে সকালে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচেতন করার চেষ্টা করা হয়। পরে বালিশ চাপা ও হাতুড়ি-বটি দিয়ে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন হেলেনা ও তাসলিমা। এরপর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে ৮ টুকরা করেন। পরে মরদেহের খণ্ডাংশ পলিথিন ও বস্তায় ভরে বাসার আশপাশে ফেলে দেন তাঁরা।


পরিবেশ কন্ঠ

সম্পাদক: ড. মোহাম্মদ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০১৭ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ