দেশে ২০২৫ সালে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত বছর মাত্র ৫৬.২ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। ফলে প্রায় ৪৩.৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন কভারেজ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুলসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত থাকায় ভবিষ্যতে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যারা কোনো ডোজ নেয়নি বা অসম্পূর্ণ টিকাদান হয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে টিকাদানের হার অনেক বেশি ছিল। ২০২৪ সালে কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি, যা হঠাৎ করে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ পর্যায়ে নানা সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, টিকা সরবরাহ ও পরিবহন জটিলতা—সব মিলিয়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি ও কর্মবিরতির কারণে অনেক এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে শিশুদের একটি বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯০–৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, যা উদ্বেগজনক।
রাজশাহীতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের চাপ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা এখনো টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট, আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং চিকিৎসক সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
একই সময়ে সরকার রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি শিশু হাসপাতাল আংশিক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
এসব পদক্ষেপ এখনই না নিলে হামের সংক্রমণ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: সমকাল
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ
বিষয় : হাম রোগ হামের টিকা শিশু

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০১ এপ্রিল ২০২৬
দেশে ২০২৫ সালে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, গত বছর মাত্র ৫৬.২ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। ফলে প্রায় ৪৩.৮ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিম্ন কভারেজ।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, বিপুলসংখ্যক শিশু টিকাবঞ্চিত থাকায় ভবিষ্যতে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যারা কোনো ডোজ নেয়নি বা অসম্পূর্ণ টিকাদান হয়েছে, তারা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) সূত্রে জানা গেছে, আগের বছরগুলোতে টিকাদানের হার অনেক বেশি ছিল। ২০২৪ সালে কভারেজ ছিল প্রায় ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি, যা হঠাৎ করে ২০২৫ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাঠ পর্যায়ে নানা সমস্যার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীদের কর্মবিরতি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাব, টিকা সরবরাহ ও পরিবহন জটিলতা—সব মিলিয়ে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে।
সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান জানান, স্বাস্থ্যকর্মীদের ঘাটতি ও কর্মবিরতির কারণে অনেক এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম ঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। ফলে শিশুদের একটি বড় অংশ টিকার বাইরে থেকে গেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বে-নজীর আহমেদ বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কমপক্ষে ৯০–৯৫ শতাংশ টিকাদান কভারেজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে তা ৬০ শতাংশের নিচে নেমে গেছে, যা উদ্বেগজনক।
রাজশাহীতে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুদের চাপ বাড়ছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্তদের প্রায় ৬৫ শতাংশের বয়স ৬ মাসের নিচে, অর্থাৎ তারা এখনো টিকা নেওয়ার বয়সে পৌঁছায়নি। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে দুই শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কুমার বিশ্বাস বলেন, কম বয়সী শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
স্বাস্থ্য ব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুরসহ বিভিন্ন জেলায় হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী বাড়ছে। অনেক হাসপাতালে শয্যা সংকট, আইসিইউ সুবিধার অভাব এবং চিকিৎসক সংকট পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
একই সময়ে সরকার রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা একটি শিশু হাসপাতাল আংশিক চালুর উদ্যোগ নিয়েছে, যা পরিস্থিতি সামাল দিতে সহায়ক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ:
বিশেষজ্ঞরা বলছেন—
এসব পদক্ষেপ এখনই না নিলে হামের সংক্রমণ বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে।
সূত্র: সমকাল
পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

আপনার মতামত লিখুন