পরিবেশ কণ্ঠ

দ্বৈত শপথ ও অধ্যাদেশ ইস্যুতে মুখোমুখি সরকার-বিরোধী দল, নজর ২৯ মার্চের বৈঠকে

গণভোট অধ্যাদেশে বিরোধ, চাপে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ



গণভোট অধ্যাদেশে বিরোধ, চাপে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ

গণভোট অধ্যাদেশ, দ্বৈত শপথ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চাপে পড়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বিষয়গুলো ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে, তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ১২০টির বিষয়ে ঐকমত্য হলেও বাকি ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে সমাধান হয়নি। এর মধ্যে ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ অন্যতম।

বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন জানান, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ২৯ মার্চ রাতে পুনরায় বৈঠক হবে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল বা বহাল রাখা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এ অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোট বলছে, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

এদিকে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথ নেওয়া নিয়েও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এ ধরনের শপথ গ্রহণ করেনি, তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তা গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর অধ্যাদেশগুলো নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিরোধী জোট ইতোমধ্যে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৯ মার্চের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। আপস নাকি সংঘাত—সংসদের পরবর্তী পথ নির্ধারণে এই বৈঠকই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ

বিষয় : জাতীয়_সংসদ রাজনীতি গণভোট_অধ্যাদেশ

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬


গণভোট অধ্যাদেশে বিরোধ, চাপে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ

প্রকাশের তারিখ : ২৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

গণভোট অধ্যাদেশ, দ্বৈত শপথ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ—এই তিন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে চাপে পড়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ। বিষয়গুলো ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে, তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।

সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে ১৩৩টি অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় ১২০টির বিষয়ে ঐকমত্য হলেও বাকি ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে সমাধান হয়নি। এর মধ্যে ‘গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫’ অন্যতম।

বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন জানান, অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে ২৯ মার্চ রাতে পুনরায় বৈঠক হবে। আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।

গণভোট অধ্যাদেশ বাতিল বা বহাল রাখা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে। ক্ষমতাসীন বিএনপি এ অধ্যাদেশ বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধী জোট বলছে, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে অগ্রাহ্য করা যাবে না।

এদিকে সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দ্বৈত শপথ নেওয়া নিয়েও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট এ ধরনের শপথ গ্রহণ করেনি, তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট তা গ্রহণ করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, স্পর্শকাতর অধ্যাদেশগুলো নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। বিরোধী জোট ইতোমধ্যে রাজপথে নামার ঘোষণা দিয়েছে।

বিশেষ কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান ও ‘জুলাই জাতীয় সনদ’কে গুরুত্ব দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৯ মার্চের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। আপস নাকি সংঘাত—সংসদের পরবর্তী পথ নির্ধারণে এই বৈঠকই হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ