পরিবেশ কণ্ঠ

ধীরগতির সংস্কারকাজে অচল প্রায় ১২ কিমি সড়ক; শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: শিল্পখাতে ডেলিভারি সংকট, চরম জনদুর্ভোগ



মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: শিল্পখাতে ডেলিভারি সংকট, চরম জনদুর্ভোগ

মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক-এর সংস্কারকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় নারায়ণগঞ্জে শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রায় চার মাস ধরে সড়কের বড় অংশ কার্যত অচল থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্ধডজন সিমেন্ট কারখানাসহ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মধ্যে ১.৫৭০ কিলোমিটার অংশের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দুই ভাগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সংস্কারকাজের দায়িত্ব পেয়েছে হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স।

শিল্পখাতে মারাত্মক প্রভাব

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়ক আংশিক বন্ধ থাকায় কাঁচামাল পরিবহন ও প্রস্তুত পণ্য সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বন্দরের ইস্পাহানি এলাকার ব্যবসায়ী মো. মনিরুজ্জামান পায়েল বলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল পরিবহন করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্যবাহী যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গাড়ির এক্সেল ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফলে সময়মতো শিপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না এবং আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।

একই সড়ক ব্যবহারকারী তুলা ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, “এটি এখন আর সড়ক নয়, বরং খানাখন্দে ভরা এক বিপজ্জনক পথে পরিণত হয়েছে। এতে উৎপাদন ও বাজারজাত—দুটিই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

জনদুর্ভোগে নাকাল সাধারণ মানুষ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অচলাবস্থার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের যাতায়াত থেকে শুরু করে রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

সমাজকর্মী দ্বীন ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে ইট ও বালু ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই নয়। বৃষ্টি হলেই সেই সংস্কার ধুয়ে গিয়ে সড়ক আবার আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

কাজের ধীরগতির ব্যাখ্যা

ভিটিকান্দি সড়ক উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল হাসান বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় পুরোপুরি বন্ধ করে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। একাংশ চালু রেখে কাজ করায় সময় বেশি লাগছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী হাসমত আলী দাবি করেন, প্রথম অংশের কাজের বেইস টাইপ-১ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের আগে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করতে চার মাস সময় থাকলেও আগামী এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সওজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দীর্ঘদিন অচল থাকলে স্থানীয় শিল্পখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার মতো প্রভাবও পড়তে পারে।

হ্যাশট্যাগ/টপিক:

#মদনপুর_মদনগঞ্জ_সড়ক #নারায়ণগঞ্জ #সড়ক_দুর্ভোগ #শিল্পখাত #পরিবহন_সংকট #RoadCondition #BangladeshIndustry #InfrastructureCrisis

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ:

“উন্নয়নের পথে অবকাঠামোই মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই অবকাঠামো যদি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকে, তাহলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়—অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এখনই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।”

আপনার মতামত লিখুন

পরিবেশ কণ্ঠ

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬


মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়কের বেহাল দশা: শিল্পখাতে ডেলিভারি সংকট, চরম জনদুর্ভোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৬ মার্চ ২০২৬

featured Image

মদনপুর-মদনগঞ্জ সড়ক-এর সংস্কারকাজ দীর্ঘসূত্রতায় পড়ায় নারায়ণগঞ্জে শিল্পখাত ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। প্রায় চার মাস ধরে সড়কের বড় অংশ কার্যত অচল থাকায় পণ্য পরিবহন ব্যাহত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে অর্ধডজন সিমেন্ট কারখানাসহ শতাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে কাজ চলছে অত্যন্ত ধীরগতিতে। ফলে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ভোগ।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কের মধ্যে ১.৫৭০ কিলোমিটার অংশের ভাঙাচোরা ও খানাখন্দপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে দুই ভাগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান সংস্কারকাজের দায়িত্ব পেয়েছে হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স।

শিল্পখাতে মারাত্মক প্রভাব

শিল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়ক আংশিক বন্ধ থাকায় কাঁচামাল পরিবহন ও প্রস্তুত পণ্য সরবরাহে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। এতে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে পড়েছে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বন্দরের ইস্পাহানি এলাকার ব্যবসায়ী মো. মনিরুজ্জামান পায়েল বলেন, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল পরিবহন করতে হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে পণ্যবাহী যানবাহন মাঝপথে বিকল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গাড়ির এক্সেল ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনা নিয়মিত ঘটছে। ফলে সময়মতো শিপমেন্ট করা সম্ভব হচ্ছে না এবং আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।

একই সড়ক ব্যবহারকারী তুলা ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, “এটি এখন আর সড়ক নয়, বরং খানাখন্দে ভরা এক বিপজ্জনক পথে পরিণত হয়েছে। এতে উৎপাদন ও বাজারজাত—দুটিই বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

জনদুর্ভোগে নাকাল সাধারণ মানুষ

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের অচলাবস্থার কারণে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। শ্রমিকদের যাতায়াত থেকে শুরু করে রোগী পরিবহন—সব ক্ষেত্রেই সৃষ্টি হয়েছে চরম দুর্ভোগ।

সমাজকর্মী দ্বীন ইসলাম জানান, মাঝে মাঝে ইট ও বালু ফেলে সাময়িক সংস্কার করা হলেও তা টেকসই নয়। বৃষ্টি হলেই সেই সংস্কার ধুয়ে গিয়ে সড়ক আবার আগের মতোই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। ফলে বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই সড়ক অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

কাজের ধীরগতির ব্যাখ্যা

ভিটিকান্দি সড়ক উপ-বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশিদুল হাসান বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় পুরোপুরি বন্ধ করে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। একাংশ চালু রেখে কাজ করায় সময় বেশি লাগছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হাসমত অ্যান্ড ব্রাদার্স’-এর স্বত্বাধিকারী হাসমত আলী দাবি করেন, প্রথম অংশের কাজের বেইস টাইপ-১ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরবর্তী ধাপের আগে কিছু সময় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কাজ শেষ করতে চার মাস সময় থাকলেও আগামী এক মাসের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে সওজ নারায়ণগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুর রহিম জানান, প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন করতে আরও প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে।

অর্থনীতি ও জনজীবনে চাপ

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দীর্ঘদিন অচল থাকলে স্থানীয় শিল্পখাত বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে যাওয়ার মতো প্রভাবও পড়তে পারে।

হ্যাশট্যাগ/টপিক:

#মদনপুর_মদনগঞ্জ_সড়ক #নারায়ণগঞ্জ #সড়ক_দুর্ভোগ #শিল্পখাত #পরিবহন_সংকট #RoadCondition #BangladeshIndustry #InfrastructureCrisis

পরি-কন্ঠ/মুয়াজ:

“উন্নয়নের পথে অবকাঠামোই মূল চালিকাশক্তি। কিন্তু সেই অবকাঠামো যদি দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকে, তাহলে শুধু জনদুর্ভোগই নয়—অর্থনীতির চাকা থমকে যাওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এখনই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।”


পরিবেশ কণ্ঠ

সম্পাদক: ড. মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মীযানুর রহমান

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত পরিবেশ কণ্ঠ